চটকপুর : কাঞ্চনজঙ্ঘার রাজকীয় রূপ দেখতে মনের মতো গন্তব্য


ত্তরবঙ্গের কুয়াশা ঘেরা গ্রাম চটকপুর (Chatakpur Darjeeling)। সোনাদা পেরিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৮৮৭ ফুট উঁচুতে। দার্জিলিং থেকে চটকপুরের দূরত্ব ২০ কিলোমিটারের মতো। স্থানীয় লোকেরা বিশ্বাস করেন, চটকপুরের জঙ্গলে ঢাকা পাহাড়ে ঘুমিয়ে আছেন স্বয়ং বুদ্ধ। এই গ্রাম নাকি কয়েকবছর আগেও আত্মগোপন করে থাকত পাইন গাছের আদিম জঙ্গলের মাঝখানে। এখনকার জনসংখ্যা কুড়িয়ে বাড়িয়ে ওই ১৫০ জন মতো।

চটকপুরের সবথেকে বড়ো আকর্ষণ বনভূমি। নিস্তব্ধতার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন সেখানে। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাহলে তো আর কথাই নেই! সুযোগ করে ঘুরে আসতে পারেন মংপু এবং বগুরা থেকে।

যাঁরা পাখি ভালোবাসেন, চটকপুর তাঁদের কাছে স্বর্গরাজ্য। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও তাই। গ্রাম থেকেই পাওয়া যায় তুষারে ঢাকা পূর্ব হিমালয়ের অসাধারণ ভিউ। চোখের সামনে দেখা যায় রাজকীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। পাহাড়ের গায়ে জৈবফসল এবং ঔষধিগাছ-গাছড়ার ধাপ চাষ করাই গ্রামবাসীদের প্রধান জীবিকা। চটকপুর এখন হয়ে উঠেছে ইকো-ট্যুরিজম হাব। গ্রামে পৌঁছনোর রাস্তা যেন সাপের মতো এঁকেবেঁকে রূপকথার জগৎ ছুঁয়ে চলেছে। সাত কিলোমিটার চড়াই রাস্তার মাঝখানে পড়বে আল-পাইনের বন। ভাগ্য সদয় হলে ঈগলের মতো নানারকম পাখি অথবা ছোটোখাটো জীবজন্তুর দেখাও মিলতে পারে এই পথেই। সিনচেল বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের অংশ এই চটকপুর। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এখানে প্রাণী এবং উদ্ভিদের বৈচিত্র্য তাক লাগানোর মতো।

চটকপুরের সবথেকে বড়ো আকর্ষণ বনভূমি। নিস্তব্ধতার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন সেখানে। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাহলে তো আর কথাই নেই! সুযোগ করে ঘুরে আসতে পারেন মংপু এবং বগুরা থেকে। যেখানেই তাকান, দেখতে পাবেন ঘনসবুজ গাছপালার আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে পাহাড়।

এখানকার গ্রামবাসীরা খুবই মিশুকে এবং অতিথিপরায়ণ। তাঁদের হোম-স্টেগুলি আসলে এক-একটা খামারবাড়ি। সেখানে রয়েছে কাঠেরঘর, মোরগ-মুরগি, নানারকমের পাখি, বিশেষ করে কোয়েল। মিনিট দশেক হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন ওয়াচটাওয়ার। দেখা যাবে ‘ট্রেকারদের স্বপ্নরাজ্য’ সান্দাকফুর অপূর্ব দৃশ্য। এখান থেকে সূর্যোদয় দেখার অভিজ্ঞতা এক অন্যরকম অনুভূতি দেবে নিশ্চিত। কমলা আলো যখন ধূসর সাদা পর্বতশৃঙ্গের ওপর পড়ে, সমস্ত পরিবেশ হয়ে ওঠে মায়াবী। চটকপুর থেকেই শুরু হয় অনেকগুলি ট্রেকিং রুট। যার মধ্যে একটি গিয়েছে টাইগার হিল পর্যন্ত।

চটকপুর থেকেই শুরু হয় অনেকগুলি ট্রেকিং রুট। যার মধ্যে একটি গিয়েছে টাইগার হিল পর্যন্ত।

এখানে এসে কালাপোখরি যেতে একদম ভুলবেন না। ছোটো কিন্তু মনোরম জলাশয় এটি। বিশ্বের অন্যতম পুরোনো উভচর প্রজাতি হিমালয়ের স্যালামান্ডার বাস করে এখানে। আজ তারা প্রায় বিলুপ্তির পথে। গোলাপি ব্যাং এবং শুঁয়োপোকাও থাকে এই অঞ্চলে। সাহস থাকলেও জঙ্গলে ঘোরার সময় কোনো প্রশিক্ষিত ফরেস্ট গাইড সঙ্গে রাখাই বাঞ্ছনীয়। যে হোমস্টেতে থাকবেন, বিশ্বস্ত গাইড পেয়ে যাবেন সেখান থেকেই। মায়াহরিণ, হিমালয়ের কালো ভাল্লুক, অ্যান্টিলোপ এবং নানারকম পাহাড়ি পাখির বসবাস এই বনে। প্রকৃতির মাঝখানে অবিরাম নিস্তব্ধতার স্বাদ পেতে পর্যটকদের প্রথম সারির গন্তব্য হয়ে উঠেছে চটকপুর।

  কীভাবে যাবেন  
কলকাতা থেকে রেলপথে গেলে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে, আকাশ পথে গেলে নামবেন বাগডোগরা বিমান বন্দরে, বাসে সড়কপথে গেলে শিলিগুড়ি জংশনে নামতে হবে। তারপর গাড়ি রিজার্ভ করে সরাসরি পৌঁছে যেতে পারেন চটকপুর। শেয়ার গাড়ি করলে সোনাদা অবধি যেতে পারবেন, সেখান থেকে চটকপুর যাওয়ার জন্য গাড়ি বুক করতে হবে। পৌঁছতে সব মিলিয়ে সময় লাগবে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।

  কোথায় থাকবেন  
চটকপুরে গুটিকয়েক বাড়ি। প্রত্যেকটিই হোমস্টে। থাকতে পারেন প্রেমা হোমস্টে, লুম্বিনী হেরিটেজ হোম, ললিত হেরিটেজ হোম, দ্য ইন পাটন, পিকক গেস্ট হাউজ, শিব গেস্ট হাউজ, গভর্নমেন্ট ইকো রিসর্টর্সে। ছুটির মরশুমে গেলে কমপক্ষে দুই মাস আগে বুকিং করতেই হবে।

  যাওয়ার সেরা সময়  
অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মধ্যে যেকোনও সময় চটকপুর ভ্রমণ সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে পারে। এই কটা মাস স্পষ্ট দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। যাঁরা পাহাড়ে বৃষ্টি ভালোবাসেন, তাঁরা মে মাসেও যেতে পারেন। রোদ-বৃষ্টি সবমিলিয়ে ভালোই লাগবে।

  কখন যাবেন না  
জুন থেকে সেপ্টেম্বর, এই চারমাস চটকপুরের দরজা পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। যেহেতু এই গোটা এলাকা বনদপ্তরের অধীনে, তাই ভারী বর্ষায় চটকপুর যাওয়া যায় না।

  আশেপাশে কী কী দেখবেন  
জোড় বাংলো, ঘুম, সোনাদা, মংপু, বগুরা, টাইগার হিল

  খরচ কত হতে পারে  
কলকাতা থেকে চটকপুর খুব কম খরচেই ঘুরে আসা যায়। যাতায়াত বাদে সব মিলিয়ে আনুমানিক জনপ্রতি ৬,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।

Written by