Sappho For Equality : যৌনসংখ্যালঘু ও নারী আন্দোলনের ২৫ বছরের লড়াইয়ে স্যাফো

বিশ্বাস করো, ভবিষ্যতে কেউ/ আমাদের স্মরণ করবে…/ কারণ তুমি আমাকে ভালোবাসো/ আমার সঙ্গে মুখোমুখি দাঁড়াও/ আর তোমার চোখের কোমলতার ঘোমটা সরাও…
(ভাঙা টুকরো ১৩৮/১৪৭, সাফো-র কবিতা, উৎপলকুমার বসু)

খ্রীষ্টপূর্ব ৬০০ সময়কাল নাগাদ গ্রিসের এক কবি এক-দ্বীপ ভালোবাসা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। মানুষ মানুষকে ভালোবেসে থাকবে এবং তাতে থাকবে না ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গের ভেদাভেদ। প্রাচীন লেসবস দ্বীপে গড়ে উঠেছিল সেই ভালোবাসার শহর। উদ্যোগে ছিলেন কবি স্যাফো (Sappho)। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ পৃথিবীর সব সম্পর্ককেই যৌনতার মাপকাঠিতে বিচার করে। সমাজ তার মতো করে বেঁধে দিতে চায় লিঙ্গ ও যৌনতার সংজ্ঞা। না মানতে চাইলে নেমে আসে হেনস্থা-হিংসা, অত্যাচার। কত মানুষের প্রাণ পর্যন্ত চলে যায়। তবু একটা লেসবস দ্বীপের স্বপ্ন থেকে বেরোলে আমাদের চলবে না। কারণ, আমাদের চাই এক সুরক্ষা-নীড়।

স্যাফোর-র ২৫ বছরের অনুষ্ঠান

তখন সবে সবে দীপা মেহতার ‘ফায়ার’ ছবিটি রিলিজ করেছে। নারী যৌনতার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক খুলে যাচ্ছে। আমরাও সেই যৌনতারই মানুষ অথচ সমাজ স্বাভাবিক বলছে না।

কলকাতা শহরে শুধু নয়, সমগ্র বাংলায় এমনই এক শান্তির নিলয় : স্যাফো ফর ইকুয়ালিটি (Sappho For Equality)। আজ পঁচিশ বছরের বেশি সময় এই সংস্থার সদস্যরা সমকামী-উভকামী-রূপান্তরকামী মানুষ বিশেষত নারীদের জন্য কাজ করে চলেছেন। তাঁদের কর্মপদ্ধতি আজ বহু স্বশাসিত সংস্থার কাছে রোলমডেল। সবচেয়ে বড়ো কথা প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে, যৌনসংখ্যালঘু মানুষদের নিয়ে ক্রমাগত কাজ করে চলা, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিষমকামী সমাজের চোখে চোখ রেখে প্রতিরোধ-প্রতিবাদে রাস্তায় নামা কোনও সহজ কর্ম তো নয়ই, এ-কোনও সরল ইতিহাসও নয়। স্বেদ-শোণিত-অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে পঁচিশ বছর টিকে থাকা আরও কঠিন। কিন্তু তার মধ্যেও স্যাফো-র সদস্যরা কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপে সমাজের এলবিটিকিউএআই+ (LBTQIA+) সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য এক সুন্দর, সুরক্ষিত ও সাম্যময় জীবনের দিশা দেখিয়েছেন। এবং সেটা কখনওই একক চেষ্টায় নয়, এই আন্দোলন সব সময় দলগত প্রয়াস হিসেবে প্রাণ পেয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২০ জুন স্যাফো-র জন্ম। মীনাক্ষী-আকাঙ্ক্ষা, পিয়া-কিকি, আবির ও সাগরিকা মিলে তৈরি করেছিলেন স্যাফো। প্রথম দু-তিন বছর তাঁদের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ থাকতে হয়েছে। তারপর ২০০৩ সাল নাগাদ ‘স্যাফো ফর ইকুয়ালিটি’ হিসেবে তাঁদের নথিভুক্তিকরণ হয়। এ-বছর স্যাফো-র রজতজয়ন্তী (স্যাফোর ২৫ বছর)। স্যাফো ফর ইক্যুয়ালিটি-র যুগ্ম-প্রতিষ্ঠাতা মীনাক্ষী সান্যাল (Minakshi Sanyal)-এর সঙ্গে কথোপকথনে ভাস্কর মজুমদার।

স্যাফো ফর ইকুয়ালিটি

আমরা কেন স্যাফো শুরু করেছিলাম?

স্যাফো শুরু হবারই ছিল। আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে একজন সমকামী নারীর কোনও আত্মপরিচয় ছিল না। তখন সবে সবে দীপা মেহতার ‘ফায়ার’ ছবিটি রিলিজ করেছে। নারী যৌনতার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক খুলে যাচ্ছে। আমরাও সেই যৌনতারই মানুষ অথচ সমাজ স্বাভাবিক বলছে না। আবার আমাদের সংখ্যা যে খুব হাতে-গোনা তাও তো নয়। আসলে কেউ বেরিয়ে আসতে চাইছে না। কেউ যদি বলে আমি একটা ছেলেকে বিয়ে করে তার জীবন নষ্ট করতে পারব না, তাকে হয়তো বাড়ি থেকে বিতাড়িত হতে হবে। কারও হয়তো চাকরি চলে যাবে। কারও ওপর নেমে আসবে সামাজিক হেনস্থা-হিংসা। তাই এতসবকে প্রতিরোধ করতে আমাদের দলবদ্ধ হবার দরকার ছিল। আমরা একটা ঘর নিয়েছিলাম আট বাই আটের সেই বিজনসেতুর পাশে। ’৯৯-তে স্যাফো শুরু হলেও তার রেজিস্ট্রেশন করতে আরও কয়েকটা বছর সময় লেগেছিল। ২০০৩-এ সেটা হয়েছিল। তাও আমাদের স্থায়ী কোনও জায়গা ছিল না। অন্য এক জায়গায় বাড়ি ভাড়া করে গেলাম, সেখান থেকে তুলে দেওয়া হল। তারপর যোগেন্দ্র গার্ডেনে একটা ঘরে। তারও অনেক পরে আজ যেখানে আমাদের ঠিকানা সেখানে এসেছিলাম।

সমাজে নারীর প্রতি পুরুষের যে চাহনি অর্থাৎ মেল-গেজ সেটার শিকার বিষমকামী নারীর পাশাপাশি লেসবিয়ান মানুষও হয়ে থাকেন। পর্ণোগ্রাফিতে লেসবিয়ান-সেক্স-এর যে এত চাহিদা এগুলোর গ্রাহক অবশ্যই পুরুষ।

আমরা কেন সব সময় নারী আন্দোলনের প্রথম সারিতে থেকেছি?

সেটা খুব সহজে হয়নি। সেই সময় নারী আন্দোলনের যাঁরা পুরোধা ছিলেন সেই ২০০৪-০৫ সাল, চর্চার অভাবে তাঁরাও ঠিক উপলব্ধি করতে পারতেন না সেক্স আর সেক্সুয়ালিটির ভেদগুলি। একজন যিনি নিজেকে লেসবিয়ান মনে করেন তাঁকে তো রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে বোঝা যাবে না তিনি আরেকজন বিষমকামী নারীর থেকে কতটা আলাদা। এবং সমাজে নারীর প্রতি পুরুষের যে চাহনি অর্থাৎ মেল-গেজ সেটার শিকার বিষমকামী নারীর পাশাপাশি লেসবিয়ান মানুষও হয়ে থাকেন। পর্ণোগ্রাফিতে লেসবিয়ান-সেক্স-এর যে এত চাহিদা এগুলোর গ্রাহক অবশ্যই পুরুষ। সেই সঙ্গে সমাজ মনে করছে লেসবিয়ান মানেই বোধহয় ‘সেক্স-স্টার্ভড’ – মেয়ে দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে এমন কোনও বস্তু! সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের এমনকি নারী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে যেতেও কাঠিন্য ছিল। লোকে মনে করত ‘শোওয়ার জন্য’ আবার আন্দোলন হয় নাকি!

স্যাফো প্রকাশিত ‘স্বকণ্ঠে’-র প্রথম সংখ্যা, ২০০৪ সালের কলকাতা বইমেলায়

মেয়েদের যৌনতা, সমকামিতা-উভকামিতা-রূপান্তরকামিতা থেকে শুরু করে জাতি-ধর্ম-বর্ণের যে একটা জটিল সহাবস্থান সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে স্যাফো আগাগোড়া সচেতন ছিল। স্যাফো লড়াইও করেছে অনেক। সেই লড়াই আজও থামেনি।

তখন ‘মৈত্রী’ বলে একটি সংগঠন ছিল, আমরা তার সক্রিয় সদস্য ছিলাম। ২০০৬ নাগাদ কলকাতায় সপ্তম ন্যাশনাল অটোনোমাস উইমেন কনফারেন্স সংগঠিত হয়েছিল। ট্রাকে করে আমরা লেসবিয়ান, বাইসেক্সুয়াল নারী, ট্রান্সম্যাসকুলীন পার্সন- সবাই কাতারে কাতারে গিয়ে যোগ দিয়েছিলাম। ভারতবর্ষের বহু জায়গায় প্ল্যাকার্ড হাতে লেসবিয়ান মানুষরা রাস্তায় নামতে তখনও পারেননি। আমরা পেরেছিলাম। পশ্চিমবঙ্গ তখন এক প্রতিবন্ধী নারীর ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল। আমরা সেই আন্দোলনের শরিক হয়েছিলাম। কিন্তু এর একটা অন্য দিকও ছিল। ভারতবর্ষের গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির মানুষদের যখন আমাদের আন্দোলনে যোগ দিতে বলেছিলাম তখন তাঁরা বলেছিলেন ‘রোটি কাপড়া অউর মাকান’-এর কথা। ওই সমস্যাগুলোরই সমাধান হয়নি আর আমাদেরগুলো নিয়ে কী করে আন্দোলন হতে পারে? তখন আমরা তাঁদের বলেছিলাম কত মেয়ের এই লিঙ্গযৌনতার জন্য মাকান চলে যায়, সে রোটি আর কাপড়া থেকে বঞ্চিত হয় সুতরাং আপনাদের আন্দোলন ও আমাদের আন্দোলনে কোনও ফারাক নেই। বরং একে অপরের পরিপূরক আমরা হয়ে উঠতে পারি।

 

আমরা কেন ডায়ালগ্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (DIALOGUES : Calcutta LGBTQIA+ Film & Video Festival) চালু করেছিলাম?

ডায়লগসের শুরু ২০০৭ সালে। প্রত্যয় জেন্ডার ট্রাস্টের সঙ্গে একজোট হয়ে আমরা এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সংগঠিত করেছিলাম ম্যাক্স ম্যুলার ভবনে। প্রথম দু-তিন বছর আমরা ম্যাক্স ম্যুলার ভবন ভাড়া নিয়ে করি। তারপর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জনপ্রিয়তা বেড়ে যেতে ম্যাক্স ম্যুলার ভবন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। আসলে ডায়ালগস শুরু করার তাগিদ আমরা এ-কারণে অনুভব করেছিলাম যে, আন্দোলনের অনেক বিষয় মানুষকে বোঝানো যত কঠিন তেমনই একটা ফিচার বা ডকুমেন্টারি ফিল্মের মধ্যে দিয়ে জনতার তা বুঝে নেওয়া অনেক সহজ। কিন্তু সে সময় ইন্টারনেটের প্রসার আজকের মতো ছিল না। ভারতে তখন কুয়্যার ছবি তেমন তৈরিও হত না। আমরা তাই বিদেশে পড়তে গেছে এমন বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতাম। সেখান থেকে ফিল্ম আনাতাম। নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট চাইতাম। ডায়ালগস আমাদের আন্দোলনকে একটা মারাত্মক গতি দিয়েছিল। আজও ডায়ালগস চলছে। এক সময় স্যাফো নিজেও ছবি প্রযোজনায় আসে।

২০০১ সালে স্যাফো-র একটি আলোচনা সভা

আমরা কেন ন্যাশনাল কুয়্যার কনফারেন্সের উদ্যোগ নিয়েছিলাম?

এখন অ্যাকাডেমিক ফিল্ডে কুয়্যার ইস্যু নিয়ে বিস্তর কথা হয়। বহু গবেষণা হচ্ছে। আমরা যখন ন্যাশনাল কুয়্যার কনফারেন্স শুরু করি তখন চেয়েছিলাম অধ্যাপক, গবেষকদের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা কী ভাবছে তার একটা তল পেতে। এতে আমরা সাড়া পেয়েছিলাম। ইয়ুথ যারা, সেই যৌবনের দূতেরা আমাদের কনফারেন্সে যোগ দিতে শুরু করেছিল। আমরা সে কথাটা মাথায় রেখে পেপার বাছতাম যাতে করে আরও যৌবনের কণ্ঠস্বর আমরা শুনতে পাই। এমনকি আমাদের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ন্যাশনাল কুয়্যার কনফারেন্স খুবই সাহায্য করে। আমরা প্রথম থেকে ঠিক করে নিয়েছিলাম যে এই কণ্ঠস্বরগুলো একত্র করে দরকার হলে আমাদের যাত্রাপথ আমরা পরিবর্তন করব। কিন্তু নতুন চিন্তা, উদভাবনের মূল্য আমাদের কাছে বেশি থাকবেই।

স্যাফো পরিচালিত পড়শি ক্যাফে

এখনকার ট্রোল-রাজনীতি নিয়ে আমরা কী ভাবছি?

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রয়োজন আজকের যুগে অপরিসীম। তার একটা দিক হচ্ছে আগে যখন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে, মাসে একবার ভাব-বিনিময় করতে মানুষরা বাসে চেপে, ট্রেন-জার্নি করে কাঁথি থেকে, দুর্গাপুর থেকে, আসানসোল থেকে আসত- একটা ঘণ্টাও বসতে পারত না ফিরে যেতে হত; আজ হয়তো মোবাইল ফোনের মেসেজ থেকে, কথা থেকে সে এক প্রকার শুশ্রূষা পেতে পারে। এমন অনেক সময় হয় কেউ আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে উঠেছে, বন্ধুরা সারা রাত তাকে ফোন করে জাগিয়ে রাখল তার পাশে থাকল। সোশ্যাল মিডিয়ার রিল দিয়ে নিজের যৌন পছন্দের, যৌনতার একটা দিক কেউ খুলে ফেলতে পারল। আবার এ-ও ঠিক যে হোমোফোবিয়া অনলাইন ট্রোলিং-এর মধ্যে দিয়ে একটা নতুন এবং ভয়াবহ দিক পেয়েছে। কুয়্যার মানুষদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। যে-কারণে এমনকি স্যাফোতেও আজ একজনের জায়গায় তিনজন থেরাপিস্ট-সাইকিয়াট্রিস্ট। কিন্তু এই ট্রোলিং ও তার রাজনীতি যেমন আছে তার প্রতিরোধও আছে। আমরা সব সময়ই আইনি পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনে জোর বেশি দিয়েছি। ৩৭৭ তো উঠে গেছে। কিন্তু কুয়্যার মানুষদের ওপর হেনস্থা-হিংসার ঘটনা কী কমছে? তবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধও থামানো যাবে না। ট্রোলসংস্কৃতি আমাদের মনে। ওখান থেকে ওটিকে আগে উচ্ছেদ করতে হবে।

 

স্যাফো-র যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা মীনাক্ষী সান্যাল

স্যাফো-র সবে পঁচিশ। যৌবন বয়স। কিন্তু আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছি?

প্রথমেই আমরা যেটা করেছি তা হল স্যাফো-র কিছু পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। এখন আমাদের উত্তর প্রজন্ম কোয়েল, নীল, রেশম, অর্চি, মধুরিমা, কলিকারা ব্যাটন তুলে নিয়েছে। চলতি মাসের ১৮-১৯-২০ তারিখে যে বিরাট অনুষ্ঠান আমরা করলাম গ্যালারি গোল্ডে, তার সমস্ত আয়োজন কিন্তু এদেরই ছিল। এই ব্যাপারটা আমাদের খানিক গর্বিত যেমন করে, শান্তিও এনে দেয়। আমরা ভারতের সমকামী আন্দোলন-এর একেবারে গভীরে পৌঁছে সব সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি তা নয়। হয়তো গ্রামের, মফস্সলের যে-মেয়েটি নিজের লিঙ্গ-যৌনতার জন্য হেনস্থা-হিংসার শিকার হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিল তার বাড়ি অবধি পৌঁছতে আমাদের দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা জোটবদ্ধ হয়ে সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। পিছু হটে যাইনি। আমরা ‘পড়শি’ ক্যাফে খুলেছি। যেটা বহু মানুষের মত বিনিময়ের ক্ষেত্র যেমন, তেমনই কিছু কুয়্যার মানুষের সুরক্ষা-নীড়। আমরা যৌনতার পাঠশালা-র উদ্যোগ নিয়েছি। এবং সমাজের সিনিয়র সিটিজেনদের নিয়ে আমাদের একটি গবেষণা তৈরির কাজ চলছে যাতে সেই ইস্যুগুলোকে ধরতে পারি। মেয়েদের যৌনতা, সমকামিতা-উভকামিতা-রূপান্তরকামিতা থেকে শুরু করে জাতি-ধর্ম-বর্ণের যে একটা জটিল সহাবস্থান সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে স্যাফো আগাগোড়া সচেতন ছিল। স্যাফো লড়াইও করেছে অনেক। সেই লড়াই আজও থামেনি। আমরা হয়তো বহুদিন থাকব না, কিন্তু পঁচিশ বছর আগে যে-চেতনায় স্যাফো তৈরি করেছিলাম, আমাদের বিশ্বাস উত্তর প্রজন্ম সেই আন্দোলন সাহস ও সুদৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

_____ 

ছবি সৌজন্যে : নীলাঞ্জন মজুমদার এবং স্যাফো

Written by