রমজান মাসে জ়াকারিয়া স্ট্রিট : যে পাড়ার বাতাসে মিশে আছে সুখাদ্যের সুরভি

জ়াকারিয়া ফুডওয়াক, দেখুন ভিডিও

লুটোলা থেকে বাঁদিকে বেঁকতেই পরিবেশটা বদলে গেল এক লহমায়। উৎসবের শহরে আপনাকে স্বাগত। জ়াকারিয়া স্টিটে (জাকারিয়া স্ট্রিট) সন্ধে হতেই ঢল নেমেছে মানুষের। ইফতার। সারাদিন রোজার পর খাবার, পানীয় ছুঁয়ে দেখা। সম্প্রদায়ের বেড়া অবশ্য এই উৎসবে আবছা। এই অঞ্চলের নামকরা কিছু রেস্তোরাঁয় সন্ধের পর জায়গা পাওয়া যেমন দুষ্কর, তেমনই রাস্তার ধারে খাবার স্টলেও লাইন দিয়ে খাবার কিনতে হয়। কোভিডের কারণে গত তিন বছর জ়াকারিয়া সেভাবে সেজে ওঠেনি। এই বছর এ চত্বর কিন্তু ফের পুরোনো মেজাজে ব্যাটিং করছে।

এ প্রসঙ্গে বলা রাখা ভালো, জ়াকারিয়া একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ সৃষ্টিকর্তার স্মরণে। লোকে বলে সেকারণেই নাকি এখানকার খাবারের স্বাদ স্বর্গীয়। জ়াকারিয়া স্ট্রিট বেজায় ব্যস্ত ঘিঞ্জি এক বাণিজ্যিক এলাকা। পুরোনো সব কারুকার্যময় স্থাপত্যের পাশেই এলোমেলো গজিয়ে উঠেছে দোকানপাট, অফিসঘর আর গুদাম। সারা বছর মালবোঝাই গাড়ি, যানবাহন, হকার আর পথচলতি মানুষের ভিড় ঠেলে এখানে চলাফেরা করাটা বেশ দুষ্কর। আর রমজানের সময় সেটাই হয়ে দাঁড়ায় মস্ত চ্যালেঞ্জ।

জ়াকারিয়া স্ট্রিট বারবার মনে করিয়ে দেয় খাবারের কোনো ধর্ম হয় না। পথ চলতে চলতে চিকেন, মটন, বিফের নানান খাবার যেন অমৃত।

রমজানের কলকাতা তার খুঁটিনাটি জানে। ফিয়ার্স লেন, কলুটোলার দিক থেকে জ়াকারিয়া স্ট্রিট – নাখোদা মসজিদের পাড়ায় পদে পদে অপেক্ষমান বিস্ময়। এমনিতে এ পাড়ার বাতাসে বছরভর মিশে থাকে সুখাদ্যের সুরভি। কিন্তু রমজানে এ তল্লাটে হেঁটে যাওয়া মানেই বিশ্বস্ত এক ফুডওয়াক। এই মিলেমিশে এক হয়ে থাকাই তো এ ভূখণ্ডের ইতিহাস। এ যদি আমার দেশ না হয়, তবে কার দেশ বলো!

কোথায় কী কী খাবেন:

> ইসলামিয়া হোটেলের স্পেশাল হালিমে গুল্লি গুল্লি মটন কোফতা এবং হালিম
> অ্যাডাম’স কাবাব শপের বিখ্যাত সুতা ও বোটি কাবাব (চিকেন, মটন, বিফ)
> মেঠাইওয়ালা হাজি আলাউদ্দিনের স্পেশাল খাজলা 
> আল বাইকের আফগানি কাবাব, চিকেন মালাই কাবাব
> দিলশাদে খেয়ে দেখতে পারেন মালাই কাবাব ও দই কাবাব
> তসকিনের ফ্রায়েড মুর্গ চঙ্গেজি, সঙ্গে চেখে দেখুন মাহি/ফিশ আকবরি
> দিল্লি সিক্সে স্বাদ নিন আফগানি চিকেনের
> সুফিয়ায় চেখে দেখুন চিকেন, মটন এবং বিফ হালিম
> এছাড়াও পথ চলতে চলতে নিজেদের ইচ্ছামতো অস্থায়ী দোকান থেকে কিনতে পারেন রুহ আফজা, মোহব্বত কা শরবত, শিরমল, বাখরখানি, লাচ্ছা পরোটা, হালুয়া।

Developed by DXDasia