একটা স্থিরচিত্রের মধ্যেও গল্প এবং চরিত্র হাঁটাচলা করছে, ভাবিয়েছিল প্রতীককে –দেখুন ভিডিও

ইয়ং বেঙ্গল-এ আলোকচিত্রী প্রতীক দে চৌধুরী এক্সক্লুসিভ

স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকা কিংবা স্মৃতিকে নিজের বন্ধু বানিয়ে হাত ধরে চলা- হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে পুরোনো মফস্‌সল, চেনা গাছগাছালি, চেনা বাড়ির রান্নাঘর, হিমশীতল পাহাড় অথবা নিজেকেই। ঠিক এমনভাবে নিজেকে যাচাই করে নিতে চান তরুণ আলোকচিত্রী প্রতীক দে চৌধুরী। যাচাইয়ের পথ ধরে ক্রমশ নিজেকেই পাঠ করতে চান, বর্তমান ‘সময়’ তাঁকে ভাবায়। প্রতীকের ছবির ফ্রেম পরতে পরতে জানান দেয় খোঁজ হতে হবে সম্পূর্ণ নিজের, নিজস্ব। এভাবে তৈরি হবে একলা চলার পৃথিবী। বাঁচার রসদ সেখানেই।

দঃ চব্বিশ পরগণা জেলার ক্যানিং-এ বাড়ি প্রতীকের। বড়ো হয়ে ওঠাও সেখানেই। স্নাতক পর্ব শেষ করার পর পাকাপাকিভাবে ফটোগ্রাফিতে চলে আসা। একটা স্থিরচিত্রের মধ্যেও কীভাবে যেন গল্প, চরিত্র, লোকেশন হাঁটাচলা করে যাচ্ছে। তারা কথা বলতে চাইছে। এসব কিছু ভাবিয়েছিল প্রতীককে। নিজের ঘরের এবং বাইরের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব তখন থেকেই নিজের পথ দেখতে শুরু করেছিল। ব্যাঙ্গালোর শহরে চাকরি নিয়ে যাওয়া। ভালো না লাগলে সেখান থেকে আবার কলকাতায় ফিরে আসা। এদিক ওদিক কাজ খোঁজা আর কাজ পাওয়ার মধ্যিখানে লম্বা একটা মাঠ পড়েছিল প্রতীকের। তাই ফটোগ্রাফি মানেই ক্যামেরা – এই জায়গা থেকে বর্তমানে সরে এসে শুধুমাত্র ফটোগ্রাফ না বলে ভিস্যুয়াল আর্ট বলতেই পছন্দ করছেন। প্রতীক নিজেই জানাচ্ছেন, “শিল্প বা শিল্পীসত্তা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমার মনে হয় যে কাজগুলো করছি, সেগুলো আমাকে রিপ্রেজেন্ট করছে কিনা। আমিও হয়তো কাউকে কপি করছি। একজন শিল্পী হিসাবে আমার ক্যামেরার জায়গায় রং তুলি পেন্সিল হলেও চলবে। …ইংরেজিতে বহুল প্রচারিত একটা কোটেশন আছে “আর্ট ফর আর্ট’স সেক”। তবে এখন আমার মনে হয়, একটা শিল্পর মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলার, পরিবর্তন আনার ক্ষমতা থাকাটা জরুরি। একটা প্রশ্ন ক্রমাগত আমাকে তাড়া করছে। আমার ছবি আশেপাশের মানুষগুলোর জীবনে কি কোনো প্রভাব ফেলেছে? যদি না ফেলে তাহলে কেন ছবি তুলব?” 

পুরোনো পদ্ধতিতে জাঁকজমকপূর্ণ ছবিতে না গিয়ে বেছে নিয়েছেন অ্যানালগ প্রিন্ট। তাতেই মজে আছেন বেশ কিছু বছর। নিজেকে প্রকাশ করার জন্য একটা ‘মাধ্যম’-এর গুরুত্ব কোথায়! কে বিচার করবে শিল্পীর নিজের চোখে দেখা শিল্পের সততা! উত্তর খুঁজলেন প্রতীক। সেই খোঁজার জার্নিই ভাগ করে নিলেন বঙ্গদর্শনের সঙ্গে। সেইসঙ্গে রইল প্রতীকের অ্যানালগ প্রিন্টের কয়েকটি ছবির লিংক, যা সংগ্রহ করা যাবে অনলাইন অর্ডার করে। সংগ্রহের জন্য ক্লিক করুন এখানে। 

বঙ্গদর্শনের নতুন বিভাগ ‘ইয়ং বেঙ্গল’ (Young Bengal)। এই বাংলায় ছড়িয়ে থাকা তরুণ শিল্পীদের নিজের কথা বলার নিজস্ব ফোরাম। তাঁরা নিজেরাই বলবেন তাঁদের জার্নির গল্প। উঠে আসবে নানা ভাবনা, নানা বিস্ময়।

*তরুণ শিল্পীদের জানানো হচ্ছে, আপনারা যদি আপনার কর্মকাণ্ডের দিক বঙ্গদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরতে চান, তাহলে ইমেল মারফত যোগাযোগ করতে পারেন- sumansadhu.bongodorshon@gmail.com 

Developed by DXDasia