
প্রান্তিক মেয়েদের মেরুদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি
প্রথমবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ফুটবল উন্নয়নে দরাজহস্ত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য ফুটবল অ্যাকাডেমিও গড়ে তোলেন। সম্প্রতি ‘খেলা হবে’ দিবস ঘোষণা করে রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার ফুটবলও উপহার দিয়েছেন তিনি। পারিবারিক সূত্রেও তিনি বরাবর ফুটবল-ঘনিষ্ঠ। খেলার প্রতি, বিশেষত ফুটবলের প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আলাদা টান বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। এবার, ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সংবর্ধনা পেলেন আদিবাসী মহিলা রেফারি রাজশ্রী হাঁসদা।
রাজশ্রীর বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর থানার পুটুলিয়া গ্রামে। ওডিশার সীমান্তবর্তী এই গ্রামে ছোট থেকেই দারিদ্র-যুঝে বড়ো হয়েছেন। বাবা ডমা হাঁসদা এবং মা রাইমনি হাঁসদা, দুজনেই দিনমজুরি করে সংসার চালিয়েছেন। নিজেকে প্রমাণ করতে আর পাঁচটা প্রান্তিক মেয়ের মতোই সমাজের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। তবে, অনেক লড়াইয়ের শেষে জয়ীর আসন পেয়েছেন বাইশ বছর বয়সী এই তরুণী। ছোট থেকেই বিভিন্ন খেলায় পারদর্শী ছিলেন। বড় বড় সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলের প্রতি ঝোঁক বাড়ে রাজশ্রীর। খেলাধূলার পাশাপাশি নয়াগ্রাম থানা বালিকা বিদ্যালয়ের হস্টেলে থেকে সরকারি স্টাইপেন্ডে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। আর ওই স্কুলের হয়ে নিয়মিত সুব্রত কাপ সমেত বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় খেলেছেন তিনি।
এর পর রেফারি ট্রেনিং-এর মেন্টর শুভঙ্কর খামারির সংস্পর্শে এসে ফুটবলের চেয়ে রেফারির কাজকে ভালোবেসে ফেলেন রাজশ্রী। পুরুষতান্ত্রিকতার ছাপ ফেলা খেলার দুনিয়ার মহিলা রেফারি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করাতে অনেক প্রতিকূলতা সামলে ধীরে ধীরে স্বপ্নপূরণের দিকে এগিয়েছেন তিনি। পরবর্তীকালে মহিলা রেফারি হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কলকাতা লিগও পরিচালনা করার পাশাপাশি ওডিশা, অরুণাচল প্রদেশ, চেন্নাই, গোয়া, মুম্বই, দিল্লি ইত্যাদি রাজ্যে রেফারি হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। এমনকী, ফিফাতে এমএ কোর্স করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের খরচও এখন নিজেই সামলান। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নয়াগ্রাম থানায় খেলার পুরস্কার হিসেবে সিভিক ভলেন্টিয়ারের চাকরী পান রাজশ্রী। বর্তমানে, নয়াগ্রাম পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু সরকারি কলেজের এখন তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। পড়ছেন সাঁওতালি অনার্স নিয়ে। ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে সংবর্ধনা পেয়ে আপ্লুত বাংলার এই ‘ধন্যি মেয়ে’।
