
এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ছিলেন খোদ বিদ্যাসাগর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে ইস্তফা দিয়ে ১৮৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর সংস্কৃত কলেজে অধ্যাপকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরের বছর ৫ জানুয়ারি সাহিত্যের অধ্যাপনা ছাড়াও গ্রহণ করেন অস্থায়ী সেক্রেটারির পদ। তারপর ২২ জানুয়ারি ১৫০ টাকা বেতনে তিনি হলেন কলেজের অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ হিসেবে বেশ কিছু সংস্কার তিনি করেছিলেন, যার প্রভাব শুধু কলেজেই সীমাবদ্ধ ছিল না, নাড়া ফেলেছিল বাংলার তৎকালীন সমাজেও। আগে কেবল ব্রাহ্মণ ও বৈদ্যরাই এই কলেজে অধ্যয়নের সুযোগ পেতেন। প্রথমে বিদ্যাসাগর নিয়ম করলেন, কায়স্থরাও পড়তে পারবেন সেখানে। তারপর সব বর্ণের শিক্ষার্থীদের জন্য সংস্কৃত কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন তিনি। যে কোনো সম্ভ্রান্ত হিন্দুসন্তানই সেই কলেজে প্রবেশাধিকার পেলেন।
আগে কলেজ ছুটি থাকত অষ্টমী এবং প্রতিপদ তিথিতে। বিদ্যাসাগর প্রতি রবিবার ছুটির নিয়ম চালু করলেন। কলেজের শৃঙ্খলা তো বটেই, শিক্ষক ও ছাত্রদের নিয়মিত উপস্থিতিকেও গুরুত্ব দিতেন তিনি। ছাত্রদের ফি যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া হয়, ঢেলে সাজানো হয় সমস্ত পাঠক্রম। বিদ্যাসাগর ইংরেজি শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিতেন, তাঁর সময়ে গণিত পড়ানো হতে লাগল ইংরেজিতে। পাশাপাশি মাতৃভাষা যাতে সঠিক মর্যাদা পায়, তার ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। ১৮৫৮ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছিলেন।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে সংস্কৃত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন নতুন এক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার যাত্রা শুরু করে। এবছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদ্বিশতবর্ষ। সেই প্রণম্য মণীষী যে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ছিলেন, সেই সংস্কৃত কলেজ ও ইউনিভার্সিটি বিদ্যাসাগরকে শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ কিছু জমকালো উদ্যোগ নেবে, তা বলাই বাহুল্য।
সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যাসাগরের নামে গবেষণাকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবছর সেই মহান শিক্ষাবিদের দ্বিশতবর্ষ চলে আসায় সেই কাজে আরও গতি পেয়েছে। তার পাশাপাশি এইখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি সেমিনারের আয়োজন করার নির্দেশিকাও শিক্ষা দপ্তর থেকে পাঠানো হয়েছিল। সংস্কৃত কলেজে অধ্যক্ষ থাকাকালীন বিদ্যাসাগরের যা নথিপত্র পাওয়া গেছে, সেগুলিকে সংকলিত করে প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, বিদ্যাসাগর যে সব জিনিসপত্র ব্যবহার করতেন, সেগুলোকে একত্রিত করে একটি মিউজিয়াম তৈরি করছেন তাঁরা।
