বাংলার ভোটে বাঙালির ঐতিহাসিক ভূমিকা

মমতা ব্যানার্জি ছাড়া বাঙালির কাছে এই মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য কোনও শক্তি ছিল না

এবারের ভোটের পর একটা প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে ঘুরে ফিরে আসছে। সেটা হল, তাহলে কি সিপিএম, কংগ্রেস এই রাজ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল? একদা  বিহারে, মহারাষ্ট্রে যথেষ্ট শক্তি থাকা সত্ত্বেও কমিউনিস্ট পার্টি গুরুত্বহীন হয়ে গিয়েছিল আইডেন্টিটি পলিটিক্সের জোয়ারে (এখন অবশ্য সিপিআই এম-এল ফের কিছুটা শক্তি সংগ্রহ করতে শুরু করেছে বিহারে)। স্বাধীনতার আগে মুম্বাইয়ে বিটি রণদিভে-সহ অন্যান্য কমিউনিস্ট নেতাদের উদ্যোগে ‘গিরিন কামগর মজদুর ইউনিয়ন’ নামের যে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠেছিল সেটা সেই সময় ছিল এশিয়ার সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন। পরে আইডেন্টিটি পলিটিক্সের ধাক্কায় সেই সংগঠন দুর্বল হয়ে যায়।

২০০৪-এ তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভায় মাত্র একটা আসন জিতেছিল। কিন্তু তারপর ফের নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে ফিরে এসেছিল তৃণমূল, কারণ, সিপিএম বিরোধীদের কাছে তখন অন্য কোনও বিকল্প ছিল না। ফলে একটা চাহিদা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। এখন সিপিএম-এর চাহিদাটাই কি সমাজে নেই নেই? আসলে ৩৪ বছরের অ্যান্টি ইনকামবেন্সির প্রভাব সিপিএমের ক্ষেত্রে এখনও কাজ করে  চলেছে। তাছাড়া জনকল্যাণমূলক যে সব কাজ সিপিএম করেছে বা করতে পারে, বা রাস্তা-ঘাট, সেতু, বাঁধ ইত্যাদি যে সব কাজ সিপিএম ক্ষমতায় এলে আগের মতোই করতে পারত, সেসব কাজ তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের করতে কোনও বাধা নেই এবং করছেও। এবং অবশ্যই বলা যায়, সিপিএমের আমলের থেকে রাস্তা-ঘাট, জনকল্যাণমূলক কাজ মমতা আমলে অনেকটাই বেশি হয়েছে, অনেকটাই ভালো হয়েছে এবং হচ্ছে।

কেন কমিউনিস্ট পার্টি জনপ্রিয়তা খুইয়েছে, সেটা নিয়ে গবেষণা অবশ্যই হওয়া উচিত কিন্তু এটা মানতে হবে, ১৯৯১-এ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই, দুনিয়া জুড়েই কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্ব কমেছে। উন্নত দেশে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর যেসব কমিউনিস্ট দেশ রয়েছে, তার ভেতরে উত্তর কোরিয়া বা চিনের যতটুকু খবর পাওয়া যায়, তা জেনে কোনও গণতান্ত্রিক মানুষই ওই ধরনের সমাজের স্বপ্ন দেখবে না। বরং বলা যায় বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নের গুরুত্ব বাড়ছে উন্নত দেশে। বড়ো বড়ো ধর্মঘটে তার প্রমাণও মিলছে।

অন্যদিকে কংগ্রেসকে মানুষ চাইছে। বেশ কিছু রাজ্যের ভোটে তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু নেহরু-গান্ধি পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের নেতা-নেত্রী, রাহুল বা প্রিয়ঙ্কার সেই সেই চাহিদা অনুযায়ী কোনও ভূমিকা গ্রহণ করার যোগ্যতা নেই। যোগ্যতা যে নেই, সেকথা সম্ভবত তাঁরাও বোঝেন। রাহুল, প্রিয়ঙ্কা দু’জনেই একাধিকবার পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। কংগ্রেসে সর্বস্তরে নির্বাচনের কথা বলেছেন। কিন্তু কথাকে কাজে পরিণত করেননি। এবং পিছন থেকে কংগ্রেসেকে নিয়ন্ত্রণ করার কাজটাও চালিয়ে যাচ্ছেন। চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের যে ভোট হয়ে গেল, সেখানে কংগ্রেসকে আতস কাচ দিয়ে খুঁজতে হয়। বাংলায় তারা শূন্য। দলের নেতারা এখন বলছেন, সামনের বছর পাঞ্জাব জয়ের মধ্যে দিয়ে নাকি কংগ্রেসের নতুন যাত্রা শুরু হবে। সন্দেহ নেই পাঞ্জাবে কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরবে। কিন্তু সামনের বছর তো উত্তরপ্রদেশ-সহ আরও অনেক রাজ্যে ভোট। সেখানে কী হবে? কোনও জবাব নেই। আরও একটা কথা। শোনা যাচ্ছে অসুস্থতার জন্য সোনিয়া গান্ধি ইউপিএ চেয়ার পার্সনের পদ ছেড়ে দিতে চাইছেন। সত্যি তেমন ফলে, ওই পদের জন্য এখন যোগ্যতম ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতাকে চেয়ার পার্সন করলে অন্য কোনো দল থেকেই এখন আর বিরোধিতা আসবে বলে মনে হয় না। তেমন হলে ইউপিএ-তে একটা গতি আসতে পারে।

কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয়তার ফলে একটা রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্ট হয়েছে। যার ফলে বিজেপির সুবিধা হয়ে যাচ্ছে। ইউপিএকে সক্রিয় করে তুলেই ওই শূন্যতা কিছুটা ভরাট করা যেতে পারে। কংগ্রেসের অবস্থা অনেকটা জলসাঘরের নায়কের মতো। সব কিছুর মাথায় বসা ছাড়া অন্য কোনও ভূমিকার কথা ভাবতেই পারে না কংগ্রেস। ফলে কংগ্রেস এলে ভালো, না এলে, কংগ্রেসেকে বাদ দিয়েই একটা ন্যাশনাল ফ্রন্ট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও কিন্তু বাড়ছে। সেই মঞ্চে, এবারের ভোটের ফল বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করার যে গুণ একজন বড়ো নেতা বা নেত্রীর থাকাটা জরুরি, সেটা এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যতটা আছে তেমন আর অন্য কোনও রাজ্যের বিরোধী নেতা-নেত্রীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। সারা দেশে গ্রামে-গঞ্জে শুধু নামে চেনে, নেহরু-গান্ধি পরিবারের সদস্যদের বাইরে বিরোধী শিবিরে, লালু যাদবের জেল এবং রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পর, মমতা ছাড়া আর কেউ নেই। ২১ জুলাই সম্ভবত তৃণমূলের বিজয় সমাবেশ হবে ব্রিগেডে। সেই সমাবেশে সারা দেশের বিরোধী নেতা-নেত্রীদের মমতার পাশে দেখা যেতে পারে। জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের একটা যাত্রা সেখান থেকেও শুরু হতে পারে।

আরও পড়ুন: ভোট শেষ, তারপর?

স্বাধীনতার পর ভারতে প্রথম নির্বাচনে, ১৯৫২ সালে, ১১ শতাংশ ভোট পেয়ে জ্যোতি বসু-সহ ২৮ জন বামপন্থী জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এসেছিলেন। ভারতীয় জনসঙ্ঘ পেয়েছিল ৬ শতাংশ ভোট। ক্ষমতায় থাকাকালীন বামপন্থীরা এই রাজ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে ৫৪ শতাংশ। ৬৯ বছর পর এবারের ভোটে দেখা গেল একজন বামপন্থীও কোনও আসন জিততে পারলেন না। বামপন্থীদের জোট ভোট পেয়েছে ৮ শতাংশ। সিপিএমের ভোট ৫ শতাংশেরও কম। কংগ্রেসের ভোট ৩ শতাংশের কম। জনসঙ্ঘের উত্তরসূরি বিজেপির ভোট ৩৮ শতাংশ। প্রসঙ্গত, বিজেপির মূল যে ভিত্তি সেই আরএসস এবং কমিউনিস্ট পার্টি, দুই সংগঠনেরই কিন্তু বয়স এখন একশোর কাছাকাছি। আর লক্ষ্য করুন, আজ দুই সংগঠনের কে কোথায় দাঁড়িয়ে। এর একটা বড়ো কারণ, কমিউনিস্ট পার্টি ভারতীয় সমাজে হাজার বছরের কাস্ট সিস্টেমের ফলে তৈরি হওয়া যে সংঘাত, দ্বন্দ্ব, তাকে অস্বীকার করে, মার্ক্সের দেখানো পথে ইয়োরোপিয় সমাজের মতো করে ভারত ভাবনা ভেবেছে, ভারত-সমাজকে ব্যখ্যা করেছে। ভারত-সমাজ নিয়ে কিছু লেখা লিখলেও, দার্শনিক, পণ্ডিত কার্ল মার্ক্স, ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসদের ভারতীয় সমাজ সম্পর্কে যথেষ্ট স্পষ্ট ধারণা ছিল না, এটা এখন অনেকেই মনে করেন।

প্রয়াত সিপিএম সাংসদ সইফুদ্দিন চৌধুরী ১৯৮৯-৯০ সালে সিপিএমের রাজনৈতিক লাইন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, কট্টর দক্ষিণপন্থী শক্তি মাথা চাড়া দিচ্ছে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট দরকার সিপিএমের। তারও আগে ১৯৭৪ সালে সিপিএমকে এই নিয়ে সতর্ক করেছিলেন পি সুন্দরাইয়া। সুন্দরাইয়ার মৃত্যুর পরে পারিবারিক সূত্রে প্রকাশিত সুন্দরাইয়ার সেই সেই দলিলকে অবশ্য সিপিএম সত্যি বলে স্বীকারই করে না। সইফুদ্দিন বহিষ্কৃত হলেন এই সব দল বিরোধী কাজ-কর্মের জন্য। তার ২৬ বছর বাদে ২০১৬ সালে রাজ্য স্তরে সিপিএম আসন সমঝোতা করল কংগ্রেসের সঙ্গে। ২০১৯-এ লোকসভা ভোটে আবার দেখা গেল সেই আসন সমঝোতা হল না। তারপর ২০২১-এ হল জোট। ততদিনে, সইফুদ্দিন যে আশঙ্কা করেছিলেন, হিন্দুত্ববাদীশক্তি ভারতের রাজনীতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। রথযাত্রার মতো সংখ্যাগুরুর গণ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দখল নিয়েছে সংখ্যাগুরুর বড়ো অংশের গণচেতনার। ২০২১-এর সেই জোট, সেকুলার ফ্রন্টকে সঙ্গে নিয়ে, মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের ভোটে ভাগ বসাতে ব্যর্থ হল। সেটা ঠিক মতো করতে পারলে বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় চলে আসত। এটা ঠিক, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে একটা অংশ ভোট হিন্দুত্ববাদীদের দিকে চলে গিয়েছে। তার মধ্যে কিছুটা প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোটও রয়েছে। উল্টোদিকে গত লোকসভা ভোটে বিজেপিতে চলে যাওয়া বেশ কিছু বাম ভোট এবং সংখ্যালঘু ভোট-সহ কংগ্রেসের বড়ো অংশ ভোট তৃণমূলের বাক্সে ঢুকেছে। বামপন্থীদের একটা অংশ, যারা তৃণমূলকে হারাতে লোকসভায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, এবারে তারা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন, বিজেপিকে আটকাতে। একই উদ্দেশ্য নিয়ে এবার বহু সিপিএম সমর্থকও ভোট দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। তাতেই তৃণমূলের ভোট বেড়ে ৪৮ শতাংশ হয়েছে। তৃণমূল, কম-বেশি হলেও সমাজের সব অংশের ভোট পেয়েছে। ‘নো-ভোট টু বিজেপি’ ক্যাম্পেনেরও একটা ভূমিকা আছে এই ব্যাপারে। কংগ্রসের ভোট যে তৃণমূলের দিকে যাচ্ছে, তা অবশ্য বোঝা যাচ্ছিল অধীর চৌধুরীর নির্বাচনী বক্তৃতা শুনে। তাঁর ভাষণে আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিজেপি নয়, তৃণমূল। তারপর কী ঘটেছে মালদা-মুর্শিদাবাদের ফল দেখে তা বোঝা যাচ্ছে।

আমাদের এই ভাঙা-চোরা, কালি-ঝুলি মাখা, রং-চটে যাওয়া, অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা যে গণতন্ত্র আছে, সেটাকে রক্ষা করাই আমাদের এখন প্রধান কাজ। সেই কাজে বাঙালি একটা বড়ো ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করল, এবারের ভোটে বিজেপিকে রুখে দিয়ে।বাঙালি বিজেপির বিরুদ্ধে একটা ‘শক্তি’কে চেয়েছিল। বিজেপিও তার বহুমাত্রিক, সর্বগ্রাসী আক্রমণ দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিল, কে তার প্রধান শত্রু। সিপিএমের ‘বিজেমূল’ প্রচারে মানুষ একেবারেই কান দেয়নি। বাঙালির কাছে এই মুহূর্তের বাস্তবতা এটাই যে, তৃণমূল নেত্রী মমতা ছাড়া তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনও শক্তি ছিল না। বিজেপির পরাজয় তারই পরিণতি। দিল্লির সীমান্তে যে হাজার হাজার কৃষক মাসের পর মাস ধরে সত্যাগ্রহ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে, বিজেপির এই পরাজয় সেই আন্দোলনকারীদের মনোবল বাড়াবে। কংগ্রেসের যে কাঁদুনি, ওদের সঙ্গে মিডিয়া, ওদের সঙ্গে আদালত, ওদের সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠান ফলে কী করে লড়াই হবে, এই অবাস্তব যুক্তিকে নাকচ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই হার। মহাশক্তিধর বিজেপিকে যে একটা আঞ্চলিক দলও হারিয়ে দিতে পারে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে কাজটা হাতে কলমে করে দেখালেন তখনই, যখন ধরে নেওয়া হচ্ছিল মোদি-অমিত শাহ-যোগীরা অপ্রতিরোধ্য। সমস্ত সরকারি এজেন্সিকে মাঠে নামিয়ে, মোদি-শাহের গোটা ভোট-মেশিনারি এবং কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে যেভাবে বাংলা দখলের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল, তা মমতা একাই ভেস্তে দিতে পারেন, সেটা বিজেপি স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। শোনা যাচ্ছে ভোটে জিতে শপথের সময় দরকারে লাগবে বলে তাঁরা বড়ো বড়ো হোটেলে বেশ কিছু ঘরও তারা আগাম ভাড়া নিয়ে নিয়ে নিয়েছিলেন ২ মে থেকে। বঙ্গ দখলে মরিয়া বিজেপি লড়াইটাকে করে তুলেছিল মমতা বনাম নরেন্দ্র মোদির লড়াই। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরাজয় নরেন্দ্র মোদির পরাজয় হিসেবেই সারা ভারত দেখছে।

একইসঙ্গে যেভাবে একটা রাজ্য দখলের লোভে, কোভিডকে অস্বীকার করে, নির্বাচন কমিশনের বেনজির প্রশ্রয়ে প্রায় ৪৫ দিন ধরে যে ভোট-পর্ব চালানো হল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যখন কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্সিজেনের হাহাকার, মৃত্যুর মিছিল চলছে দেশে, তখন প্রশ্ন উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, সবাইকে ছেড়ে শুধু তাঁকে নিয়ে কেন প্রশ্ন? এর উত্তর একটাই, তিনি সবাই নন। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী।

Developed by DXDasia