
শিক্ষক-শিক্ষিকারা ফোনে পড়ুয়াদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন
গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে করোনা মহামারি। সংক্রমণের আশঙ্কায় অর্নির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের পঠনপাঠন চালু রাখতে বেনজির উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় রাজ্য শিক্ষা দপ্তর চালু করেছে টেলিক্লাসের সুবিধা, যার নাম ‘বাংলার শিক্ষা – দূরভাষে’। গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে এই পরিষেবা। টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে পড়ুয়ারা তাদের পড়াশোনা সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার সমাধান পেতে পারে। যাদের কাছে স্মার্টফোন সহজলভ্য নয়, ইন্টারনেট সংযোগও ঠিকঠাক পৌঁছয়নি, বাংলার নানা প্রান্তের সেইসব পড়ুয়াদের কথা ভেবেই এমন বন্দোবস্ত। এই টেলিক্লাস এখন সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে নবম ও দশম শ্রেণির নতুন সিলেবাসের মধ্যেই। এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
পড়ুয়াদের করা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন বিভিন্ন সরকারি স্কুলের ১১০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। টোল ফ্রি ৮০০ ১২৩ ২৮২৩ নম্বরে ফোন করে প্রথমে নাম ও ক্লাস জানাতে হয়। তারপর কোন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে চাইছে তা জানালেই যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্গে। রবিবার বাদে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চালু থাকছে হেল্পলাইন। বাংলা ছাড়াও হিন্দি, উর্দু, সাঁওতালি, নেপালি এবং ইংরেজি ভাষায় প্রশ্ন করা যেতে পারে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হেল্পলাইনে প্রথম দিনেই ৩৬৭৮টি ফোন গিয়েছিল। বাংলা (প্রথম ভাষা)-র জন্য ১০৮২টি কল, যা সব থেকে বেশি। সংখ্যার নিরিখে তারপরেই ছিল ইতিহাস (৫৫১টি কল) এবং জীবন বিজ্ঞান (৫১০টি কল)।
ডানকুনির বাসিন্দা দশম শ্রেণির ছাত্র তমাল ঘোষ (নাম পরিবর্তিত) প্রায় সব বিষয়ের জন্য ফোন করে দরকারি পরামর্শ লাভ করেছে। সরকারের এই উদ্যোগে সে খুবই উপকৃত বোধ করছে। যদিও আগস্টের ৫ এবং ৬ তারিখে ইতিহাস বিষয়ে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়নি সে। তার কথায়, “সম্ভবত এটি কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা। তাই আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে অন্য সব বিষয়ের উত্তর আমি পেয়েছি”।
মালদার অধিবাসী জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষক অলোক কুমার দাস জানান, প্রথম দিন অর্থাৎ ৪ তারিখ তিনি পড়ুয়াদের থেকে ১০টির মতো ফোন কল পেয়েছেন। তাঁর কথায়, “সারা রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার অনন্য পদ্ধতি এটি। এই কাজে যুক্ত থেকে আমি খুবই আনন্দিত”। উত্তর ২৪ পরগনার এক ছাত্রী জানায়, বাংলা প্রোজেক্টের ব্যাপারে সে হেল্পলাইনে ফোন করে সাহায্য পেয়েছে। হেল্পলাইনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সে। পাশাপাশি, প্রতিটি ফোনকলের জন্য যে নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে, তা অল্প বাড়ালে ভালো হয় বলে সে মনে করে। “আমার পরিবারের কারো স্মার্টফোন নেই। সরকারের এই উদ্যোগ আমাকে খুব সাহায্য করছে। এভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই আমি”, জানিয়েছে সেই ছাত্রী।
