
পড়ুয়া-গবেষক, সাধারণের জন্য প্রকৃতির কোলে প্রকৃতি পাঠ
সুন্দরবন ডেল্টা কটেজ ও নেচার স্টাডিজ সেন্টারে পড়ুয়াদের সঙ্গে মন্টু হাইত
ছোটোবেলায় প্রাথমিক শিক্ষায় আমাদের শেখানো হয়, গাছ লাগাতে হবে কারণ গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। কিন্তু, কখনোই বলা হয় না, শুধুমাত্র অক্সিজেন দেওয়ার জন্য নয়, বিভিন্ন কারণেই পরিবেশে গাছের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। শুধু গাছ লাগানো নয়, বড়ো গাছ রক্ষা করতে হবে। ছোটোদের বলা হয় না, ইতিমধ্যেই পরিবেশ কতটা নষ্ট হয়েছে; শুধুমাত্র গাছ লাগিয়ে যার পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। শিশু বয়স থেকেই পরিবেশ বা জীববৈচিত্র্যের পাঠ পাওয়া উচিত সকলের, এমনটাই মনে করেন পেশায় আইনজীবী মন্টু হাইত (Mantu Hait)। তাঁর কথায়, “বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি, গাছ শুধু বসালেই হবে না, দরকার সঠিক রক্ষাণাবেক্ষণ। আমার মনে হয় ছাত্রছাত্রী, গবেষক তথা আপামর সমাজের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে এটা।”
পেশায় আইনজীবী হলেও, কলকাতা চেতলার বাসিন্দা মন্টু হাইত একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রকৃতিপ্রেমী, প্রকৃতি-সংস্কারক। বিগত কয়েক বছরে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘শহরের অরণ্যদেব’, ‘কলকাতার গ্রিন ম্যান’ বা ‘ট্রিম্যান’ হিসেবে। মন্টুবাবু ঠিক করেছিলেন গাছ লাগাবেন কলকাতার মাঝেরহাট আর নিউ আলিপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী ফাঁকা জমিতে, যা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত হয়ে, বর্জ্য ফেলার আস্তাকুঁড় হয়ে উঠেছিল। জমিটি আইনত কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের। সেখানে অন্য কেউ গাছ লাগালে সেও এক অর্থে আইন ভাঙা। মন্টু হাইত তাই ঠিক করলেন গাছ লাগাবেন গেরিলা কায়দায়।
নানা জায়গা থেকে জোগাড় হল বীজ। আলিপুর কোর্ট থেকে সংগ্রহ করা জাম, বাক্সবাদাম এছাড়া অশোক, কাঁঠাল, আম, তেঁতুল, পেয়ারা ও আরো কত কী। সেইসব তিনি ছড়িয়ে দিলেন শুকনো জমিতে। কিছু চারাও লাগালেন। এক কিমি জায়গা জুড়ে, প্রায় ২০,০০০ গাছে ধীরে ধীরে সবুজে ভরে ওঠে গোটা অঞ্চল। হয়ে ওঠে কলকাতার মরূদ্যান। কেউ বলতেন ‘মন্টুর বাগান’, কেউ কেউ বলতে শুরু করলেন ‘চেতলার বন’। সেখানে বাসা বাঁধল ভিন্ন প্রজাতির পাখি, পতঙ্গ, প্রাণী। আমফানে অনেক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেইসব ক্ষতিপূরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এখনও।

চেতলায় মন্টু হাইতের অরণ্যায়ন

মন্টুবাবুর সংগ্রহ করা দেশি ফল ও সব্জির বীজ
এই হল মন্টু হাইতের ‘গেরিলা গার্ডেনিং’। সবুজের রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব সবার, মন্টুবাবুর জন্য এ শুধু কথার কথা হয়ে থাকেনি। স্কুল বয়স থেকেই তিনি মনে মনে শপথ নিয়েছিলেন পরিবেশের জন্য কিছু করবেন। সেকারণেই এই পথ বেছে নেওয়া। একটা পথ নয়, গেরিলা গার্ডেনিং তাঁকে বিভিন্ন পথের সন্ধান দেয়।

আইনজীবী মন্টু হাইত
দেশের বড়ো বড়ো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা গবেষণা কেন্দ্রগুলি শুধুমাত্র তাদের অধীনে থাকা শিক্ষার্থী/গবেষকদের নিয়েই কাজ করে। কিন্তু এর বাইরে, যাঁরা প্রকৃতি-পরিবেশ নিয়ে খুঁটিনাটি জানতে ইচ্ছুক তাঁদের কী হবে? প্রকৃতিকে ভিতর থেকে জানতে/ বুঝতে, তাঁরা কেন পিছিয়ে থাকবেন? এসব ভেবেচিন্তেই একসময় নিজের উদ্যোগে জমি কিনতে শুরু করেন। প্রথমে তাঁর দেশবাড়ির কাছে হাওড়ার আমতায়, পরে সুন্দরবনের বালি দ্বীপে ৮ বিঘা জমি কিনে গড়ে তোলেন সুন্দরবনের ডেল্টা কটেজ এবং নেচার স্টাডি সেন্টার (Sundaban Delta Eco Tourism Cottage & Nature Study Centre)।
ইতিমধ্যে মন্টুবাবু আরও পাঁচ জায়গায় নেচার স্টাডি সেন্টার গড়ে তুলেছেন। পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ ধরনের আবহাওয়া ভিত্তিক অঞ্চল আছে। প্রকৃতি বা আবহাওয়া বৈচিত্র্য অনুযায়ী তিনি পরিকল্পনা করেন এই অঞ্চলগুলিকে কেন্দ্র করেই গড়ে তুলবেন নেচার স্টাডি সেন্টার – ম্যানগ্রোভ বা লবনাক্ত আবহাওয়াযুক্ত অঞ্চল, সমুদ্রতীরবর্তী বালিয়াড়ি অঞ্চল, প্লাবন ভূমি, হিমালয়ান ও রাঢ বাংলা।

বকখালি মেরিন তথা লোনা আবহাওয়াযুক্ত অঞ্চলে চলছে প্রকৃতি পাঠ
“স্কুলে পড়তে পড়তেই আলিপুর বন দপ্তর থেকে চার-পাঁচটা করে গাছ এনে নিজের পাড়ায়, এদিক-ওদিক লাগাতাম, যেগুলো এখন প্রায় মহীরুহ হয়ে উঠেছে। পরে জেনেছি সেই গাছগুলোর মধ্যে কিছু গাছ এই দেশের নয়, এমনকী পরিবেশবান্ধবও নয়, প্রচুর জল শুষে নেয় মাটি থেকে। আমি যেমন এই তথ্যটা না জেনেই গাছগুলো লাগিয়েছিলাম, অনেকেই তাই করে। প্রকৃতি নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা, জ্ঞানের অভাব আছে। এই অভাব দূর করার লক্ষেই নব্বইয়ের শেষের দিকে, যখন গ্রাজুয়েশন দিচ্ছি, তখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। তারপর ২০০৫-৬ সালে যখন পেশায় ঢুকলাম, হাওড়ার আমতায় প্রথম জমিটা কিনি নেচার স্টাডি সেন্টারের জন্য। তবে, আইনি জটিলতার কারণে পুরো জমিটা কেনা সম্ভব হল না। পরে রাসপুরে বাকি জমি কিনি। তারপরই সুন্দরবনে জমি কেনা। ২০১০ সাল থেকে অল্প অল্প করে ভাবনা অনুযায়ী জায়গাটা গোছাতে শুরু করি। ২০১২-১৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হয়।” বলেন মন্টুবাবু। অভিমানী স্বরে বলেন, এই বাংলায় বা আমাদের দেশে অনেক মেধাবী ছাত্র রয়েছে, যারা প্রকৃতি নিয়ে পড়াশোনা করতে এসেও বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় না জানার জন্য হাল ছেড়ে দেয় বা সফল হয় না। এই ক্ষেত্রে সেভাবে কেউ কাজ করতে চায় না। অথচ বাইরে থেকে লোকজন এসে দিব্যি এ বিষয়ে কাজকর্ম করে যাচ্ছেন।

বক্সা ট্রেনিং ক্যাম্প

মন্টুবাবুর কথায়, তাঁর নেচার স্টাডিজ সেন্টারের ত্রিসীমানায় কোনও রাসায়নিক ঢোকে না। জিওগ্রাফিক্যাল বা বোটানিকাল দিক থেকে একদমই আলাদা তাঁর সুন্দরবন ডেল্টা কটেজ ও নেচার স্টাডি সেন্টার। জলবায়ু, পরিবেশ, ভূগোল, ইতিহাস, বিজ্ঞান সবটাই আছে এখানে। নেচার স্টাডিজের সঙ্গে তিনি ইকো ট্যুরিজমেরও ব্যবস্থা রেখেছেন। ডেল্টা কটেজের অতিথি ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে এক্সকারশনে এসে পড়ুয়ারা, গবেষকরা উপকৃত হচ্ছেন। জানালেন, “অনেকেই এখানে সপরিবারে ঘুরতে আসেন। আমি চাই পরিবারের সকলেই বিশেষত যে বড়ো হচ্ছে, ছোটো থেকেই তার চোখ ও মন তৈরি হোক পরিবেশের জন্য। সুন্দরবনের নেচার স্টাডি সেন্টারে ড্রাগনফ্লাই (বিভিন্ন প্রজাতির ফড়িং), প্রজাপতি, পাখি, মাছ নিয়ে ছোটো ছোটো ল্যাবরেটরিও তৈরি করেছি। আমতা ও সুন্দরবন, ল্যাব আছে এই দুই নেচার স্টাডি সেন্টারে। যাতায়াতের সুবিধার জন্য কলকাতার কাছাকাছি জায়গায় এই বিশেষ ব্যবস্থা করেছি। Geological Survey of India (GSI) কলকাতার ডিরেক্টর কস্তুরী চক্রবর্তী, সুন্দরবন বদ্বীপের জিওলজি সম্পর্কে কিছু ধারণা ও তথ্যের জন্য সুন্দরবনের এই ডেল্টা কটেজ পরিদর্শন করেন এবং তাঁর উপস্থিতিতেই শুভ সূচনা হয় নেচার স্টাডি সেন্টারের জিলজিকাল ল্যাবরেটরির। বকখালি, বক্সায় নেচার স্টাডি সেন্টার হয়েছে, কাজ চলছে। তবে, এই জায়গাগুলোয় ল্যাব থাকবে না। পুরুলিয়ায় নেচার স্টাডি সেন্টারের জন্য এখনো জায়গা পাওয়া যায়নি, খোঁজা চলছে। ”

সুন্দরবন ডেল্টা কটেজ ও নেচার স্টাডিজ সেন্টারে Geological Survey of India (GSI) কলকাতার ডিরেক্টর কস্তুরী চক্রবর্তী

তাঁর কথায়, “হাওড়ার আমতায় যে নেচার স্টাডি সেন্টার আছে সেখানে কড়াইয়ের মতো দেখতে দশ হাজার একর জায়গার মাঝখানে একটা খাল নিয়ে মোট ৮ বিঘা মতো জমি আমরা নিয়েছি। প্রাকৃতিক ভাবে জল সংরক্ষণের জন্য এখানে সারা বছর জল থাকে। দশ হাজার একর জমি জুড়ে মাছগুলো ব্রিড করে। বর্ষার পর থেকে প্রায় সারাবছর এলাকার চাষিরা এখান থেকে মাছ সংগ্রহ করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত মাছ চাষের এই জমিগুলো এখন লিজ দিচ্ছে স্থানীয় জেলেদের। ফলে, জেলে-মাঝিরা উপকৃত হচ্ছেন তো বটেই আশপাশের এলাকা এমনকী কলকাতার বাজারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের দেশিয় মাছ। পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি মেটার সঙ্গে সঙ্গে এভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে দেশি মাছ। পিএইচডি-গবেষকরা এখানে নিয়মিত আসেন। পরিস্রুত জলে, খোলা মাঠে প্রকৃতি পাঠের জন্যে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে ক্যাম্প করা হয়। তাঁবু করে থাকার ব্যবস্থা আছে। এখান থেকে দু কিলোমিটার দূরে আমার গ্রামের বাড়ি আছে, সেখানেও কেউ চাইলে থাকার বন্দোবস্তো করে দিই। আমি চাই প্রকৃতি প্রকৃতির মতো থাকুক, আমতার এই জমিতে আমি কখনই কোনও কন্সট্রাকশন করবো না, কারণ অনেক মানুষেরই টাকা আছে, তারা জমি কিনে কন্সট্রাকশনের কাজ শুরু করে দেবে।”

হাওড়ার আমতা, রাসপুরের নেচার স্টাডি সেন্টার

পড়ুয়া, গবেষকদের নিয়ে মাছ চেনানোর পাঠ

সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় মন্টুবাবুদের যে নেচার স্টাডি সেন্টার রয়েছে, সেখানে মেরিন-গাইড আছেন। বক্সা অঞ্চলে বক্সা টাইগার রিভার্জে বাঘ ছাড়া পশু-পাখি-গাছ মিলিয়ে অনেক জীববৈচিত্র্য আছে। তাঁরা যখন ক্যাম্প করান সবটা খুঁটিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। দলে দলে মানুষ এসে যোগ দেন তাঁদের এই ক্যাম্পে। পুরুলিয়াতেও এরকম কাজ শুরু করছেন আস্তে আস্তে। সুন্দরবন ও বক্সায় প্রকৃতি পাঠের অনেক দিক আছে বলে, ক্যাম্প বা এক্সকারশন এই দুই জায়গাতেই বেশি করে হয়। বঙ্গবাসী কলেজ, সল্টলেকের ডিরোজিও কলেজ, হাওড়া বাগনান থেকে সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়, নৈহাটির আরবিসি কলেজ এখানে ঘুরে গেছে বলে জানান মন্টু হাইত।

মন্টুবাবু তাঁর এই কর্মকাণ্ডে এখন আর একা নন। তাঁর কাজ সামনে থেকে দেখে অসংখ্য মানুষ অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, যাঁদের অনেকেই আজ ব্যক্তিগতভাবে গেরিলা গার্ডেনিং বা পরিবেশ সংক্রান্ত কোনও না কাজে যুক্ত হয়েছেন। অনেক এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ, কর্মসূচী চলে। সরকারি কোনও সাহায্য তিনি নিতে চান না কারণ, নিজের মতো করে স্বাধীন ভাবে কাজের সঙ্গে কোনও রকম ‘কম্প্রমাইজ’ তিনি চান না। এই অভিযানে কেউ যদি প্রকৃতিকে কোনও রকম আঘাত করেন, সেক্ষেত্রে প্রশাসনিক বা আইনি সহায়তা নেবেন প্রয়োজনে, একথাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন।
মন্টুবাবু আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন। যেমন, শহরাঞ্চলে অরণ্যায়ন সেভাবে সম্ভব নয় তাই, আশেপাশে যদি কোনও ফাঁকা বা পতিত জমি থাকে, বাড়ির এক চিলতে বাগান, ছাদ ব্যবহার করে ‘আর্বান ফরেস্ট’ বানিয়ে ফেলতে হবে। তাঁর মতে এই ভাবনা যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দিতে হবে। মাইক্রো ফিনান্স যেমন আছে, সেভাবে মাইক্রো আর্বান ফরেস্টেশনও বায়োডাইভারসিটির জন্য জরুরি। এক একটা ফরেস্টেশন বেশ কিছুটা দূর অবধি অক্সিজেন ছড়িয়ে দিতে পারে। এটা বাড়তে বাড়তে অটোমেটিক একটা সিস্টেমের মধ্যে চলে আসবে সবকিছু। যেকোনও গাছ নয় দেশিয় গাছের সঙ্গে পাখি, অন্যান্য ছোটো প্রাণী, পোকামাকড় সংরক্ষণেরও প্রয়োজন আছে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে। পাখিদের খাদ্যসংকট মিটবে, পাখিরা ফল খাবে তার বীজ মাটিতে পড়ে নতুন চারা দেবে, পতঙ্গরা ছাড়া পরাগসংযোগ ঘটাবে কে? সব পোকামাকড় ক্ষতিকর নয়, ওদের প্রতি অযথা ভীতি তাড়িয়ে তাদের ক্ষতি করা বন্ধ করতে হবে। শিকড়ে গিয়ে এইসব কিছুরই পাঠ দিচ্ছে মন্টুবাবুর নেচার স্টাডি সেন্টার।

সুন্দরবনের বালি আইল্যান্ড থেকে ৩২ ধরনের মথের হদিশ পেয়েছেন মন্টুবাবুরা

ইন্ডিজেনাস ফিশ অ্যাকোয়ারিয়াম
সুন্দরবনে প্রায় দু-বিঘা জমি জুড়ে বাটারফ্লাই গার্ডেন বা প্রজাপতি বাগান করেছেন মন্টুবাবু, যা বর্ষা থেকে শরতের মধ্যে ভালোই উপভোগ করা যায়। প্রজাপতি বাগান ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর আছে। কিন্তু মানব-নির্মিত ড্রাগনফ্লাই পন্ড বা ফড়িং পুকুর দেশে এই প্রথমবার। এই উদ্যোগে মন্টুবাবুকে সাহায্য করেছেন তাঁর ভ্রাতৃস্থানীয় বন্ধু, শ্যামপুর সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়ের জুওলজি’র সহকারী অধ্যাপক প্রসেনজিৎ দাঁ ও তাঁর ছাত্র্ররা। প্রসেনজিৎবাবু নিজেও ফড়িং-বিশেষজ্ঞ। মন্টুবাবুর সঙ্গে যৌথ ভাবে অন্যান্য প্রকল্পর সঙ্গেও যুক্ত তিনি।
মন্টুবাবু তাঁর প্রজাপতি বাগান ও ফড়িং পুকুর উৎসর্গ করেছেন আরেক প্রকৃতিপ্রেমী, সানডে-ওয়াচের শুভঙ্কর পাত্র’র নামে। ফড়িং পুকুর বেশি দেখা যায় জাপান বা চিনের মতো দেশে। ওখানে ফড়িংয়ের লার্ভা কেনে লোকজন, তাঁদের নিজেদের পুকুর বা ছোটো ছোটো জলাশয়ে ছাড়বে বলে, এভাবে প্রাকৃতিক ভাবে আবর্তিত হয় পুরো প্রক্রিয়াটা। ফড়িং মশা নিয়ন্ত্রণ করে। কেন শহরে ফড়িং কমে যাচ্ছে? কারণ শহরে জলাশয় কমে গেছে, যাচ্ছে। ফড়িং জলে জন্মায়, ডিম পাড়ে, বাচ্চা দেয়।

বালি দ্বীপের সুন্দরবন ডেল্টা কটেজ ও নেচার স্টাডিজ সেন্টার

ওকালতি করার সঙ্গে সঙ্গে এত কিছু সামলান কী করে? আর্বান ‘অরণ্যদেব’ সহাস্যে উত্তর দেন :
“এতদিনে আমি একটা জিনিস বুঝেছি, প্রকৃতিকে তার মতো ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাহলেই অনেকটা কাজ হয়ে যায়। ঘটা করে কিছু না করলেও চলে। প্রকৃতিপ্রেমী বা সমাজসেবী হওয়ার জন্যে সবসময় হৈহৈ করে লড়াই করতে হবে এমন কোনও কথা নেই, আবার ঠাণ্ডা ঘরে বসে আলোচনার মাধ্যমেও কিছু হবে না। মাঠে নেবে কাজ করতে হবে।”
________________
ছবি-ঋণঃ মন্টু হাইত
যোগাযোগ :
ওয়াইল্ড করিডোর নেচার স্টাডি সেন্টার (Wild Corridor Nature Study Centre)
সুন্দরবন ডেলটা ইকোট্যুরিজম (Sundarban Delta Eco Tourism)
ফোন নং- ৯৪৩৩৬৬৯০৮০ এবং ৮৫৮২৮৪৪২৪০
