বহরমপুরে গিয়ে একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন সুলুক

চা ছাড়া বেশিরভাগ বাঙালিই অচল। ঘুম থেকে উঠেই হোক, কাজের চাপে অথবা অবসরযাপনে – হাতের কাছে চায়ের জোগান না থাকলে অস্বস্তিতে পড়েন অনেকেই। বাড়িতে বা দোকানে বা অফিস-কাছারিতে – বাঙালির নিত্যসঙ্গী চা। মজার ব্যাপার, জায়গাভেদে এই চায়ের স্বাদ এমনকি তৈরির প্রকরণও বদলে যায়। তেমনই একটা নামী চায়ের ঠেক রজব ভাইয়ের চায়ের দোকান। ভাবছেন কোথায় এর হদিশ? কেনই বা এর সুনাম?

বহরমপুরে অথবা মুর্শিদাবাদে গেলে, একবার রজব ভাইয়ের চায়ের দোকানে যাবেনই। চুমুক দেবেন এক কাপ চায়ে। তা না হলে বুঝতেই পারবেন না, হরলিক্স চা কাকে বলে। রজব ভাইয়ের চা হরলিক্স, কাজুবাদাম, দারুচিনি, কিসমিস দিয়ে তৈরি। একবার চুমুক দিলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে। সকাল থেকে দোকান খোলা, আপনিও গিয়ে দেখবেন বড় ডেকচিতে দুধ বসানো আছে। অন্য পাত্রে চা। কী চা খাবেন, সেটা শুধু বলার অপেক্ষা। কিন্তু মনে রাখবেন, হাতে বাড়তি সময় থাকা চাই। কেননা দোকানের সামনে লম্বা লাইন থাকে প্রায় সবসময়ই। আপনি হয়তো কলকাতা থেকে গেছেন, ভাবছেন – লাইন দিয়ে খেতে হবে চা? আপনার পাশের ক্রেতাকে জিজ্ঞাসা করুন, কোথা থেকে এসেছেন তিনি। উত্তর দেবেন, হয় জলঙ্গি, নয়তো নদিয়ার করিমপুর, এমনকি কান্দি, সালার থেকেও এককাপ চা খেতে আসছেন বাইক নিয়ে। ভোর থেকেই ভিড়, তবে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হবে না। অনেক কর্মী রয়েছেন, তাছাড়া অন্যদের সঙ্গে গল্প করেও ৫/১০ মিনিট দিব্যি কাটিয়ে দেওয়া যায়।

রজবের দোকানে কাপ বা গ্লাস পাবেন না, সব মাটির ভাঁড়। ছোট কাপ ১৫ টাকা, বড় ২০ টাকা আর একটু স্পেশাল চাইলে ৩০ টাকা। প্রতিদিন তাঁর বিক্রি ৩৫০ থেকে ৪০০ কাপ। লাভ হয় কম করে তিন হাজার টাকা। এখন প্রশ্ন হল, ঠিক কোথায় এই দোকান? বহরমপুর থেকে যাবেন হরিহরপাড়া। সেখানে গিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই পেয়ে যাবেন। 

<বেড়াতে যান অথবা ব্যক্তিগত কাজে, একবার চায়ে চুমুক দিলে, পরের কাপটার জন্য অর্ডার করতেই হবে। যাঁরা একবার যান, প্রথম কাপে চুমুক দেওয়ার পর আধঘণ্টা গল্প জমিয়ে তারপর দ্বিতীয় কাপটায় চুমুক দেবেনই। আপনিও সে পথেরই পথিক হবেন রজবের হাতযশে।

Developed by DXDasia