
অঙ্কে তুখোড় এই মেধাবী ছাত্রের ঝুলি ভরে উঠেছে মেডেল, স্মারক আর একের পর এক রেকর্ডে
বয়স মাত্র ১৪। কৈশোর পেরনোর আগেই ৭৩টি অলিম্পিয়াডে সাফল্য অর্জন করে এবং একটি গণিত গবেষণা পত্র পেশ করে দুটি রেকর্ড গড়ল খড়গপুর সেন্ট অ্যাগনেস স্কুল-এর নবম শ্রেণীর ছাত্র অর্চিষ্মান নন্দী। সম্প্রতি ‘এশিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ এবং ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ থেকে ‘সর্বাধিক অলিম্পিয়াড জয়ী কিশোর’-এর খেতাব অর্জন করেছে সে। ১১টি জাতীয়, ৫১টি আন্তর্জাতীয় এবং ১০টি এশিয়ান সহ গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, জেনারেল নলেজ, ইনফরম্যাটিকস এবং পদার্থবিজ্ঞানে ৭৩টি অলিম্পিয়াডে সাফল্যের নিদর্শন দেখিয়েছে এই কিশোর। জাতীয় স্তরের ভার্চুয়াল গণিত সম্মেলনে গবেষণামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য ‘Youngest to present Mathematics research paper at virtual national conference’-এর দ্বিতীয় খেতাবটি অর্জন করেছে সে। ভোপালের ‘NCERT Regional Institute of Education’ (RIE) আয়োজিত গণিতের নবম জাতীয় সম্মেলনে ফিবোনাকি অনুক্রমের (Fibonacci sequence) সঙ্গে যুক্ত একটি অভিনব সূত্র উপস্থাপন করে অর্চিষ্মান, যেখানে তার গণিতের তত্ত্ব প্রশংসা কুড়িয়ে নেয় দেশের বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ ও গবেষকদের কাছ থেকে। রাশিয়ার ‘পিটার দ্য গ্রেট সেন্ট পিটার্সবার্গ পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ‘ইউলার ফাউন্ডেশন’ দ্বারা আয়োজিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে “গণিতের ডিপ্লোমা” অর্জন করেছে অর্চিষ্মাণ। গণিতে তুখোড় এই মেধাবী ছাত্রের ঝুলি ভরে উঠেছে মেডেল, স্মারক আর একের পর এক রেকর্ডে।
(আমাদের প্রতিনিধির সঙ্গে তার সাফল্যের ব্যাপারে কথা বলে অর্চিষ্মান। রইল সেই সাক্ষাৎকার।)
ঠিক কবে থেকে তুমি অঙ্কের ‘বিস্ময় বালক’ হয়ে উঠলে?
ছোট থেকেই জেনে অথবা অজান্তে আমরা প্রত্যেকেই প্রতিদিন অঙ্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকি। পছন্দ করি অথবা না করি, কোনও না কোনও উপায়ে অঙ্ক আমাদের কষতেই হয়। যতদূর মনে করতে পারছি, যখন আমার পাঁচ বছর বয়স, তখন থেকেই আমি আলাদা করে অঙ্কের প্রতি ভালোবাসা টের পাই এবং তারপর এটা ক্রমশ বেড়েছে।
রেকর্ড গড়ার জন্য কোনও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলে তুমি?
আমি যে বিষয়টা নিয়ে পড়াশোনা করি সবসময় তার মূলে পৌঁছাতে চেষ্টা করি। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পাশাপাশি অলিম্পিয়াড বেশ উপভোগ করেছি আমি এবং ধীরে ধীরে অলিম্পিয়াড সহ ১৩২টি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পেরেছি।
তোমার কী মনে হয়, অন্যরা কেন অঙ্ক-কে কঠিন বিষয় বলে ভাবে?
যেকোনও বিষয়ই অন্ধভাবে মুখস্থ করার বদলে আমরা যদি বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি, তাহলে অবশ্যই সেই বিষয়টির প্রেমে পড়ব এবং একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি ভয় নয়, ভাবনার বিকাশ ঘটবে।
তাহলে, অঙ্কের ভয় কাটানোর জন্য তুমি কী পরামর্শ দেবে?
বিষয়টাকে ভালোবাসতে হবে এবং যোগাযোগ তৈরি করতে হবে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা বুঝে বিষয়ের উৎসে পোঁছাতে হবে।
অঙ্ক ছাড়া আর কী ভালোবাসো?
পাঠ্যক্রম-বইয়ের পাশাপাশি ফিকশন এবং নন-ফিকশন বই পড়তে ভালোবাসি। যেকোনও কিছু পড়ার সময় মন দিয়ে পড়ার চেষ্টা করি এবং বিষয়টা বোঝার জন্য শেষ পর্যন্ত জোর দিই।
সাফল্য এবং রেকর্ড গড়া বলতে তুমি কী বোঝ?
যখন বিশিষ্ট কোনও ব্যক্তির হাত থেকে পুরস্কার নিই, তখন অনুপ্রাণিত হই এবং উৎসাহ পাই। তাঁরা যখন আমার পড়াশোনার জন্য মূল্যবান পরামর্শ দেন, তখন নিজেকে ধন্য মনে করি। আমার সাফল্যের জন্য আমার স্কুল, আমার রাজ্য, আমার দেশ গর্বিত হলে, তা আমাকে অপরিসীম আনন্দের অনুভূতি দেয়।
তোমার এই সাফল্যের পিছনে তোমার মা-বাবা এবং শিক্ষকদের কতটা অবদান রয়েছে?
আমি আমার মা-বাবার কাছ থেকে সবসময় অনুপ্রেরণা পাই, এর জন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত। আমার বোর্ড-পাঠ্যক্রমের প্রত্যেকটা বিষয় খুঁটিয়ে পড়তে উৎসাহিত করেছে তাঁরা। আমার মা-বাবা আমায় কখনও বলেনি বেশি নম্বর পেতে হবে বরং তাঁরা আমাকে কবিতা লেখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সৃজনশীল পথে হাঁটার জন্য উৎসাহিত করেন, আমার গবেষণার যেকোনও জটিল সমস্যার সমাধানও করে দেন। সেই সঙ্গে আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার বর্তমান এবং প্রাক্তন, দুই স্কুলেরই অধ্যক্ষ মহাশয় এবং শিক্ষকদের, যাঁদের প্রচেষ্টা ছাড়া আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে কিছু?
অঙ্ক নিয়ে আমি আরও এগিয়ে যেতে চাই এবং এর সঙ্গে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়কেও যুক্ত করতে চাই।
