জাতীয় চলচ্চিত্র আর্কাইভের উদ্যোগে পুনরুদ্ধার হচ্ছে গৌতম ঘোষের একাধিক সিনেমা

পুনর্জন্ম পেয়েছে ‘দখল’ ও ‘পদ্মা নদীর মাঝি’

“সিনেমাও তো সংস্কৃতির অঙ্গ, তাই সংরক্ষণের ব্যবস্থা একটু গুরুত্ব সহকারে করা উচিত।” বছর দুয়েক আগে আক্ষেপ করে বলেছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক গৌতম ঘোষ। তখনও জানতেন না, তাঁরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবির নেগেটিভ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। মূলত সংরক্ষণের অভাবেই বহু কালজয়ী ছবি হারিয়ে গেছে। তাই, বিগত কয়েক বছর ধরে প্রিন্ট বা নেগেটিভ থেকে সিনেমা পুনরুদ্ধারের কাজে মন দিয়েছে পুণের জাতীয় চলচ্চিত্র আর্কাইভ বা ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অফ ইন্ডিয়া (NFAI)। গৌতম ঘোষ পরিচালিত ছয়টি ছবি রেস্টোরেশনের উদ্যোগ নিয়েছে এই সংস্থা।

আর্কাইভের তরফে তাদের কাছে গচ্ছিত থাকা ছবিগুলোর রেস্টোরেশন এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। বাঙালি দর্শকের জন্য সুখবর এটাই যে, তার মধ্যে এমন কিছু বাংলা ছবি রয়েছে যেগুলো দীর্ঘদিন চোখের আড়ালে ছিল

লেখক সমরেশ বসু-র গল্প অবলম্বনে ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয়েছিল গৌতম ঘোষের ‘পার’। মুখ্য চরিত্রে নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজ়মি, ওম পুরী। বিহারের সামন্তবাদ এবং ‘অস্পৃশ্য’দের উপর দিনের পর দিন শোষণের প্রতিচ্ছবি ছিল এই চলচ্চিত্র। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লায়ন বিভাগে মনোনীত হয়েছিল এবং সেরা অভিনেতা হিসেবে নাসিরুদ্দিন শাহ পেয়েছিলেন ভলপি কাপ। এহেন এক ছবির অরিজিনাল নেগেটিভ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রেস্টোরেশন করতে গিয়ে জানা গেছে এই ছবির ক্যামেরা-নেগেটিভ রাখা ছিল চেন্নাইয়ের জেমিনি ল্যাবে, যেটি বন্ধ হয়ে গেছে।

উন্নত মানের রেস্টোরেশনের জন্য ক্যামেরার নেগেটিভ দরকার। অনেক ক্লাসিক ছবিরই প্রিন্ট ভার্শন আছে, কিন্তু সেখান থেকে ডিজিটাল রেস্টোরেশন ততটা ভালো হয় না। সম্প্রতি, পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমা ভল্টের সংগ্রহে থাকা নেগেটিভ থেকে দখল (১৯৮২) ও পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩) ছবি দুটি পুনরুদ্ধার করেছে এনএফএআই। কিন্তু, পুরোপুরি উদ্ধার করা যায়নি পার (১৯৮৪)। উপলব্ধ কিছু প্রিন্ট থেকে মিক্স-এন্ড-ম্যাচ কৌশল ব্যবহার করে ছবিটি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে জাতীয় চলচ্চিত্র আর্কাইভ।

প্রসঙ্গত, আর্কাইভের তরফে তাদের কাছে গচ্ছিত থাকা ছবিগুলোর রেস্টোরেশন এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। বাঙালি দর্শকের জন্য সুখবর এটাই যে, তার মধ্যে এমন কিছু বাংলা ছবি রয়েছে যেগুলো দীর্ঘদিন চোখের আড়ালে ছিল। তালিকায় রয়েছে— তরুণ মজুমদারের ‘বালিকা বধূ’, অসিত সেনের ‘স্বরলিপি’, মৃণাল সেনের ‘পুনশ্চ’ এবং অরুন্ধতীদেবীর ‘ছুটি’। আর্কাইভ বাণিজ্যিক ভাবে ছবিগুলি প্রদর্শনের অধিকারী নয়। ফলে অচিরেই ছবিগুলি প্রেক্ষাগৃহে দেখানো যাবে বা ইন্টারনেটে বা ডিভিডি আকারে লভ্য হয়ে উঠবে, এমন নয়। প্রযোজকদের অনুমতি নিয়ে চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিগুলি অবাণিজ্যিক ভাবে দেখানোর সুযোগ থাকছে। সে ক্ষেত্রে দর্শক ছবিগুলির নাগাল পাবেন।

Developed by DXDasia