ফাটাকেষ্ট, কালু মস্তান, সুন্দরী — উত্তরবঙ্গে এরাই করোনা সচেতনতার অন্যতম মুখ

এমন উদ্যোগের পিছনে রয়েছেন রামপ্রসাদ ব্যানার্জি

ফাটাকেষ্ট, তার কাজ বিভিন্ন অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সচেতনতার প্রচার করা। সেখানে থাকে বিভিন্ন দিকের বার্তা। এখন যেমন করোনার প্রচার করছেন। অ্যান্থনি, করোনার বিরুদ্ধে প্রচার করার পাশাপাশি রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের উপভোক্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রচারের কাজ চালায়। মাইকেল, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফের ওপর কাজ করে। বৃক্ষরোপণ, জল সংরক্ষণ নিয়ে প্রচারের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা আবার কালু মস্তানের কাজ। প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে সচেতনতা আনা হচ্ছে বেবির কাজ। এদিকে সুন্দরী, এইচআইভি পজিটিভ, নারী পাচার নিয়ে মানুষকে সতর্ক করে তোলে।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, এরা কারা? এবার আসা যাক আসল কথায়। এরা কেউ মানুষ নয়। কথা বলা একেকটি পুতুল। কলকাতা থেকে মেদিনীপুর, বর্ধমান থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে এই কথা বলা পুতুলেরা তাদের অনুষ্ঠান প্রচার করে যাচ্ছে। সমাজ পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। কিন্তু এসব পুতুল তো আসলে প্রাণহীন। কে তাদের এইসব নাম রেখে প্রাণ সঞ্চার করছেন?

গল্পের ভিতরে রয়েছে আরও একটি গল্প। বিগত ১৪ বছর ধরে পুতুলদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সচেতনতার বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন রামপ্রসাদ ব্যানার্জি। শিলিগুড়ি শিবমন্দিরের শরৎ নগরে তাঁর বাড়ি। বিশেষ ধরনের ভেলভেটের মোটা কাপড়, তুলো দিয়ে তিনি তৈরি করেন বিভিন্ন রকমের পুতুল। এরপর নিজেই কাল্পনিক নাম রাখেন তাদের। 

অভিনয়ের মাধ্যমে বিশেষ কায়দায় পুতুলগুলোকে দিয়ে কথা বলিয়ে সামাজিক সচেতনতার প্রচার করে চলেছেন বিরামহীনভাবে। পুতুলের হয়ে কথা বলেন রামপ্রসাদ। দর্শকরা বেশ মজাই পান। ঠিক যেন পুতুলগুলোই কথা বলছে। হাততালিতে ফেটে পড়ে দিগ্বিদিক।

নিজেই বিভিন্ন স্ক্রিপ্ট লিখে বাড়িতে আয়নার সামনে পুতুল নিয়ে দাঁড়িয়ে অভিনয় অনুশীলন করেন প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে। তারপর অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হন। বছর চারেক আগে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেও তিনি অনুষ্ঠান করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলা পুতুলের মাধ্যমে সচেতনতার প্রচার করে চলেছেন রামপ্রসাদবাবু। বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা উত্তম দাসের কাছে প্রথম অভিনয়ের কৌশল রপ্ত করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কমেডিয়ান সঞ্চালক হিসাবে কাজ করেন। ধীরে ধীরে কৌতুক অভিনয়ের মাধ্যমে কথা বলা পুতুল নিয়ে সামাজিক সচেতনতার প্রচার করাই তাঁর নেশা ও পেশা হয়ে দাঁড়ায়।

উত্তরবঙ্গের প্রবীণ সমাজসেবী তরুণ মাইতি তাঁকে এই কাজে প্রথম উৎসাহিত করেন। রামপ্রসাদবাবু বলেন, এই কাজটা করতে ভালোবাসি। তাই করছি। এই দুর্যোগের সময় করোনার উপর প্রচার করছি।

রামপ্রসাদবাবুর এই ভিন্নধর্মী কাজ অনেকের মধ্যে সাড়া ফেলছে। সামাজিক সচেতনতার জন্য অনেকে ভাষণ দিলেও মানুষ ঠিকমতো শোনেন না বা শুনেও না শোনার ভান করেন। কিন্তু কথা বলা পুতুলের হাস্য কৌতুক অভিনয়ের মাধ্যমে প্রচার হলে তা অনেকের মধ্যে গেঁথে যায় বলে ধারণা রামপ্রসাদ ব্যানার্জি।

ছবিঃ প্রতিবেদক

Developed by DXDasia