
কুলফির উল্লেখ পাওয়া যায় আইন-ই-আকবরিতেও
মাঝে মাঝে কালবৈশাখী ঝড়, তার সঙ্গে বৃষ্টি। তা সত্ত্বেও, গরমের দাপট চলছে বাংলায়। এই গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে কেউ চুমুক দিচ্ছেন কোল্ড ড্রিঙ্কস-এ, কেউবা লস্যিতে। কারও আবার পছন্দ বরফ ও চিনির সিরাপ মেশানো লেবুজল। পাড়ায় পাড়ায় সকাল বিকাল টুং টুং ঘণ্টা বাজিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন আইসক্রিমওয়ালা ও কুলফিওয়ালারা। ঠান্ডায় জমানো এই কুলফির উল্লেখ আইন-ই-আকবরিতেও নাকি পাওয়া যায়। কথিত আছে, সুদূর কাবুল এবং সমরখন্দ থেকে মোঘলরা নাকি এদেশে কুলফি নিয়ে এসেছিল। আবার অনেকের মতে, মোঘলদের হাতেই নাকি দিল্লিতে এর জন্ম হয়। বরফ জমানো লম্বাটে ধাতব ছাঁচটির নাম কুলফি। তার থেকেই এর নাম হয়েছে কুলফি। আগে খোয়া ক্ষীর পেস্তা কুচির সঙ্গে কেশর মিশিয়ে এই ছাঁচের মধ্যে রেখে তার মুখটি আটা দিয়ে আটকে নুন আর বরফকুচির মিশ্রণে রেখে জোরে ঝাঁকানো হত। এর ফলে কুলফি জমে যেত। ছোটবেলায় অনেকেই হয়ত মাথায় হাঁড়ি নিয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো কুলফিওয়ালার কুলফি খেয়েছেন। এখন অবশ্য ঘরে ঘরে ফ্রিজ থাকায় বাড়িতেই এই সুস্বাদু গরমে আরামদায়ক খাবারটি তৈরি করা যায়। উপকরণ ও পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে এখন। তবে গরমে স্বস্তি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পুষ্টিগুণও ভালো। সুতরাং চলুন এই গরমে বানিয়ে ফেলি ঠান্ডা পুষ্টিকর পেস্তা কুলফি।
উপকরণ :
ঘন দুধ ৩ কাপ
পাউডার দুধ আধা কাপ
কনডেন্সড মিল্ক আধা কাপ
ক্রিম এককাপ
চিনির শিরা ১ কাপ
পেস্তা বাদাম ১ কাপ
কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ
গোলাপজল আধা চা-চামচ
জাফরান সামান্য (দুধে ভেজানো)
গোলাপ পাপড়ি কুচি
আরও পড়ুন
শরবতের রকমসকম
প্রণালী:
পেস্তাবাদাম গরম জলে ভিজিয়ে নরম করতে হবে। তারপর কুচিকুচি করে কাটতে হবে। ঠাণ্ডা জলে দু-চামচ কর্নফ্লাওয়ার গুলে রাখতে হবে। একটা বড় পাত্রে দুধের সঙ্গে শিরা, পাউডার দুধ ও কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে জ্বাল দিতে হবে। দুধ ভালো করে ফুটে গেলে গোলাপের জল, পেস্তাকুচি, জাফরান দিয়ে ২ মিনিট ভালো করে জ্বাল দিতে হবে। সবার শেষে কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে ১ মিনিট রেখেই নামিয়ে নিতে হবে। হ্যান্ড বিটারের সাহায্যে মিশ্রণটি ভালোমতো মিশিয়ে নিতে হবে। এবার ছাঁচে ঢেলে সারা রাত ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন।
কুলফিতে কাঠি দিতে চাইলে ডিপ ফ্রিজে রাখার ৪ ঘণ্টা পর কুলফি কিছুটা জমে এলে তখন কাঠি দিতে হবে। একটা গ্লাসে উষ্ণ গরম জল নিয়ে তাতে কুলফির ছাঁচ রেখে আলতো করে টান দিলেই কাঠিসহ কুলফি বেরিয়ে আসবে।
