লকডাউনে সোশাল মিডিয়া কি খুলে দিচ্ছে শিল্পচর্চার নতুন দিগন্ত?

ফেসবুক লাইভে আলোচনা করলেন বিশিষ্টজনেরা

করোনা মহামারি প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায় লকডাউন। এই গৃহবন্দি জীবনে কি সোশাল মিডিয়াই হয়ে উঠছে শিল্পীদের আত্মপ্রকাশের মাধ্যম? শিল্পচর্চায় কি নতুন দিশা আসতে চলেছে? এই নিয়ে আড্ডায় মাতলেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রুতি গোস্বামী, অনুরাধা কুন্ডা, উত্তরণ চৌধুরী, দিব্যাঙ্গনা বিশ্বাস এবং সুদীপ রাহা।

‘গাছ গ্রিন হ্যান্ডস’ নামের পরিবেশ ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের ফেসবুক পেজে গত সোমবার ১৫ জুন একটি লাইভ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ‘লকডাউনে সোশাল মিডিয়ায় শিল্পচর্চা ও তার ভবিষ্যৎ : একটি মনোবিশ্লেষণমূলক আলোচনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন সুদীপ রাহা। আড্ডায় বাংলাদেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একটি দরজা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন নতুন দরজা খোলে। শিল্পক্ষেত্রের প্রতিটি অঙ্গন নিজের মতো করে দরজাটি খুলেছে। করোনা পরিস্থিতিতে নৃত্যচর্চার ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা পালন করেছে  মুক্তমঞ্চের ধারণা। শিল্পীরা বাড়ির ছাদ কিংবা মাঠকেই মঞ্চ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “প্রত্যেকে যার যার অঙ্গনকে ব্যবহার করে মঞ্চ তৈরি করেছেন”। 

অধ্যাপিকা এবং সংগীতশিল্পী শ্রুতি গোস্বামী শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমকে বিনামূল্যে কনজিউম করবার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সোশাল মিডিয়ায় প্রয়োজনীয় অর্থমূল্যের বিনিময়ে বিভিন্ন কনসার্ট দেখার একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে। শিল্পকে বেশি সহজলভ্য করা যায়, মানুষের ততই মঙ্গল। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পের গুণমান নিয়ে বিচারপ্রবণ হলে চলবে না বলেই তিনি মনে করেন।

নাটকের কলাকুশলীদের নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন অধ্যাপিকা ও নাট্য পরিচালক অনুরাধা কুন্ডা। তাঁর মতে, এখন নাটকের দুঃসময় চলছে। ইউটিউব এবং নেটফ্লিক্সের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “নাটক হচ্ছে রক্ত মাংসের যোগাযোগ। একটি নাটকের প্রতিটি শোয়ে পুনর্জন্ম হয়। সেক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মিডিয়ায় নাটকের স্বাদ মেটানো সম্ভব নয়…মঞ্চের ম্যাজিক সোশাল মিডিয়ায় সম্ভব নয়”। 

#গোভাইরালটুস্টপদ্যভাইরাস প্রচেষ্টার উদ্যোক্তা উত্তরণ চৌধুরী লকডাউনে শিল্পচর্চার এই প্রবণতাকে ‘সার্ভাইভাল স্ট্রাটেজি’ বলে উল্লেখ করেন। করোনা ভাইরাসের আকৃতিকে তিনি ‘মৃত্যুর প্রতীক’ থেকে রূপান্তরিত করেছেন ‘আশার প্রতীক’-এ। এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে শিল্পীদের ‘ব্যাংক অফ ক্রিয়েটিভ আইডিয়াস’ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

সোশাল মিডিয়ায় শিল্পচর্চার প্রসঙ্গে দিব্যাঙ্গনা বিশ্বাস বলেন, “আমাদের ভালো থাকাতে অনেকটাই কনট্রিবিউট করছে এই শিল্পচর্চা, এতে একটা সলিডারিটি ফিল হয় – আমি একা নই”। তিনি মনোবিদ্যা বিষয়ে পিএইচডি স্তরে গবেষণারত।

ফেসবুকের লাইভ আলোচনা থেকে এই বার্তাই উঠে আসে, লকডাউনে শিল্পচর্চার বন্দিদশা থেকে মুক্তির উপায় হয়ে উঠেছে সোশাল মিডিয়া। সৃজনশীল ব্যক্তিরা একাকিত্ব ঘোচাতে বেছে নিচ্ছেন শিল্পকে। তাই এখন সোশাল মিডিয়ায় বেড়ে গিয়েছে শিল্পচর্চা। 

 

Developed by DXDasia