ভয় না পেয়ে হিংসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে – বার্তা দিল এলজিবিটি সম্প্রদায়

প্রেস ক্লাবে আয়োজিত হল বিশেষ আলোচনাসভা

সংখ্যালঘুদের প্রান্তিক করে রাখে আমাদের সমাজ। সে তাঁরা ধর্মীয় পরিচয়ে সংখ্যালঘু, হন বা লিঙ্গ পরিচয়ে সংখ্যালঘু। সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামীদের প্রতি নিপীড়ন-নির্যাতনের খবর এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নিপীড়ন-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর উপায় একটাই। ভয়কে জয় করা। সোমবার প্রেস ক্লাবে সম্মিলিতভাবে একদল এলজিবিটিকিউ অ্যাক্টিভিস্ট তারই ডাক দিলেন।

গতকাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত হয় বিশেষ এক আলোচনাসভা। সেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দেয় এলজিবিটিকিউ সমাজ। লিঙ্গগত হিংসার বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়া কোয়ালিশন থেকে বার্তা দেওয়া হয় – ভয় পেলে চলবে না, এক তরফা মার খেলে চলবে না, ঘুরে দাঁড়াতে হবে, জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে অত্যাচারের কথা। সেই বার্তার নাম – ‘সাহস। ভারতীয় সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারার উল্লেখ করে সমান অধিকার দাবি তোলেন সবাই। 

কালকের মঞ্চে সব রকম দ্বিধা সরিয়ে নিজেরা কীভাবে নিপীড়িত হয়েছেন, তা সবার সামনে তুলে ধরলেন এলজিবিটিকিউ কর্মীরা। পেশায় আইনজীবী অঙ্কন বিশ্বাস জানালেন, বিমানবন্দরে একদিন তিনি ফোনে কথা বলছিলেন, হঠাৎ এক সহযাত্রী তাঁর কলার চেপে ধরে। কুরুচিকর ভাষায় বলতে থাকে, “তুই কি হিজড়ে নাকি? তোর গলাটা এমন ছেলে মার্কা কেন?” সেই লোকটি অঙ্কনের জামা ছিঁড়ে দেওয়ারও চেষ্টা করছিল। অঙ্কন সেই ঘটনা চুপ করে মেনে নেননি। পরের দিনই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত করছে। অচিন্ত্য বললেন, এখনও তাকে ‘দাড়িওয়ালা হিজড়ে’ সম্বোধনে আক্রান্ত হতে হয়। 

আলোচনাসভায় হাজির ছিলেন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মহিলারা, যাঁরা যৌনকর্মের সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যেকেই নিজেদের সঙ্গে ঘটা হিংসার কথা জানিয়েছেন, মেয়েদের পাশাপাশি যৌন সংখ্যাসলঘুদের ওপর হিংসার একযোগে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। হিজড়ে সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিরা তুলে ধরলেন তাঁদের কঠোর জীবনসংগ্ৰাম ও সামাজিক বঞ্চনার কথা।

বঙ্গদর্শনের প্রতিনিধিকে অঙ্কন বিশ্বাস জানালেন, “সম্প্রতি আমাদের দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার ঘটনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু, লিঙ্গপরিচয়ের কারণে সংখ্যালঘু – কেউই নিরাপদ নয়। যারা লিঙ্গপরিচয়ের কারণে সংখ্যালঘু তাঁদের সমস্যা আরও গভীর, তাঁরা হিংসার শিকার হলে সেই ঘটনাগুলোকে সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করা হয় না। তাঁদের কথা বলার যথাযথ ফোরাম নেই, সঠিক আইন নেই, আদালতের কাজও খুব ধীর গতিতে চলে। ফিমেল বডির অধিকারী কেউ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলে তার শাস্তি কম করে ৯-১০ বছরের কারাবাস। কেন্দ্রীয় সরকার যে ট্রান্সজেন্ডার পারসনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) বিল এনেছে, তাতে, রূপান্তরকামীদের প্রতি একই অপরাধ ঘটলে তার শাস্তির মেয়াদ ৬ মাস, জরিমানা পাঁচশো টাকা। যে সব রূপান্তরকামী পুরুষ শরীরে আছেন, তাঁরা বৈষম্যের শিকার হন বেশি। রূপান্তরকামীরাও রাষ্ট্রকে কর দেন। তবুও রাষ্ট্র আমাদের এখনও অবমানব মনে করে। সমাজে খুব অল্প বয়স থেকেই লিঙ্গ বৈষম্যের মুখোমুখী হতে হয় সবাইকে। স্কুলের যে ইউনিফর্ম, তার মধ্যেই এই বৈষম্য প্রকট। শিশুরা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরে স্কুলে যাবে, এটাই হওয়া উচিত”। অচিন্ত্য জানালেন, “আগামীদিনে মেয়েদের, ট্রান্সজেন্ডারদের তথা যৌন সংখ্যাালঘুদের ওপর ঘটা যে কোনও ধরনের হিংসার প্রতিরোধে এই কোয়ালিশন পাশে দাঁড়াবে”।

ছবিঋণ – অঙ্কন বিশ্বাস 

Post Tags
Developed by DXDasia