বাংলার সমস্ত মন্দির চত্বরে এবার মিলবে খাদির কাপড়, এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যে প্রথম

সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীর জন্য বড়ো সুযোগ আনছে রাজ্য খাদি ও গ্রামোদ্যোগ বোর্ড

শ্চিমবঙ্গে খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের সঙ্গে লোকসংস্কৃতির যোগ অত্যন্ত নিবিড়। গ্রাম বাংলার নানান ভৌগলিক অবস্থানকে ঘিরে লোকসংস্কৃতির নানান বৈচিত্র্যের আত্মপ্রকাশ কোথাও মসলিনের সূক্ষ বয়নে, বালুচরীর বিচিত্র নক্সায়। কোথাও রণ-নৃত্য ছৌ বা ছৌ বা ধর্মীয় নৃত্য গোমিরা-র মুখোশ নির্মাণে। কোথাও বা কাঁথার সূচিকর্মে, পটচিত্র অঙ্কনে। আবার কোথাও ডোকরা, কাঠ বা মাটির পুতুল, মাদুর, শীতল পাটির শিল্পিত প্রকাশে। তবে, খাদি শিল্পের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যে প্রথম। বাংলার সমস্ত মন্দির চত্বরে এবার মিলবে খাদির কাপড় (Khadi Garments)।

বাংলার সমস্ত ধর্মীয় সার্কিটকে জুড়ে পর্যটনে নতুন ধারা আনার উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। বাঙালির ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে সমস্ত পুণ্য তীর্থক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত মানুষ ও পুণ্যার্থীর জন্য বড়ো সুযোগ আনছে রাজ্য খাদি ও গ্রামোদ্যোগ বোর্ড (West Bengal Khadi and Village Industries Board)। জানা যাচ্ছে, প্রথম আউটলেটটি হচ্ছে মায়াপুরে ইসকনের নতুন মন্দির চত্বরে। তার পর একে একে দক্ষিণেশ্বর, আদ্যাপীঠ, কালীঘাট, তারাপীঠ, কংকালীতলা, কনকদুর্গার মন্দিরের মতো সমস্ত বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্রর পাশাপাশি নানা অখ্যাত তীর্থক্ষেত্রেও খাদির আউটলেট গড়ে উঠবে। যে সিদ্ধান্তকে বাংলা এবং জাতীয় ক্ষেত্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলায় খাদির যে বাজার তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মূল জায়গা হল বিপণন ও বাজার ধরা। প্রবল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সেই পর্বে পৌঁছতে অন্যতম মূলধন কর্মীসংখ্যা। একে একে সেদিকে এগনোর ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে প্রথম ধাপেই পর্যটক বা পুণ্যার্থীদের কাছে খাদির কাপড় নিয়ে আগ্রহ তৈরি করা যাবে বলে মনে করছেন রাজ্য বোর্ড। এই আউটলেটগুলি চালু করার মধ্য দিয়ে কিছু কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রাও নেওয়া হয়েছে। বাংলার খাদির কাপড়ের জুড়ি মেলা ভার এবং পুণ্যার্থীদের মাধ্যমে খাদির কাপড় বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাংলার খাদি বোর্ডের চেয়ারম্যান কল্লোল খাঁ।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৯ সালের মাসে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার অনুমোদনের দ্বারা গঠিত হয়ে ১ এপ্রিল ১৯৬০ থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ’ কর্মযাত্রা শুরু করে। গান্ধিজির আদর্শে অনুপ্রাণিত এই সংস্থা খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের উন্নতিকল্পে কার্যকাল শুরু থেকেই নিরবিচ্ছিন্ন ও নিরলস প্রচেষ্টায় রত। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতিতে এই সংস্থার অবদান ও অংশগ্রহণ রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের খাদি গ্রামোদ্যোগ কমিশন দ্বারা স্বীকৃত ও পুরস্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই সংস্থার সভাপতির পদ অলংকৃত করেছেন। বর্তমানে পর্ষদ খাদি শিল্পের আধুনিকীকরণের মাধ্যমে গ্রামীণ খাদি শিল্পের বিকাশ ও শিল্পীদের জীবনযাত্রার মান উন্নতি করা এবং গ্রামীণ কর্মসৃজন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জনসাধারণের অর্থনৈতিক বিকাশে নিয়োজিত। ওয়েস্ট বেঙ্গল খাদি অ্যান্ড ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রি’র হেড অফিস রয়েছে কলকাতায় এছাড়া বাংলার ১৮টি জেলায় রয়েছে ডিসট্রিক্ট অফিস। ২০২০ সালে হীরক জয়ন্তী বর্ষ পেরিয়েছে খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ। 

তথ্যসূত্রঃ

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ (www.wbkvib.org.in)

Developed by DXDasia