চোখে নয়, চেখে দেখুন করিম’স-এর ১৪ রকম বিরিয়ানি – সুবর্ণ সুযোগ শহরে

করিম’স-এর হাতিবাগান শাখায় শুরু হয়েছে ‘জসন্-ই-বিরিয়ানি’ উৎসব

“খাই খাই করো কেন, এসো বসো আহারে- / খাওয়াবো আজব খাওয়া, ভোজ কয় যাহারে।”

নাহ! আজব খাওয়া নয়, বরং বাঙালির প্রিয় এক খাবার নিয়েই শহর কলকাতার বুকে শুরু হয়েছে অভিনব খাদ্য উৎসব। উৎসবের ঠিকানা; ৮৪, অরবিন্দ সরণি, হাতিবাগান। এখানেই করিম’স রেস্তোঁরার মূল শাখায় ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ‘জসন্-ই-বিরিয়ানি’ উৎসব, চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ভালোবাসার দিনে শুরু হওয়া এই উৎসবের মূল আকর্ষণ যেখানে বিরিয়ানি, সেখানে কলকাতাবাসী তথা বাঙালির বিরিয়ানি প্রেমের কথা তো উঠবেই। বিরিয়ানির সঙ্গে কলকাতাবাসীর পরিচিতি বেশ রাজকীয়ভাবে। ১৮৫৬ সালে আওধের দশম নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ্-কে ইংরেজ শাসক লর্ড ডালহৌসি বলেন তাঁকে তাঁর রাজ্য ছেড়ে দিতে হবে, কারণ ওয়াজেদ আলি শাহ্ তাঁর রাজ্য ঠিকমতো শাসন করতে পারছেন না। অপমানিত নবাব ঠিক করেন তিনি মহারানি ভিক্টোরিয়ার কাছে এর সুবিচার চাইতে ইংল্যান্ডে যাবেন। সেইমতো তিনি লখনৌ থেকে জলপথে যাত্রা শুরু করেন। সেই পথেই পড়ে কলকাতা। কলকাতায় জাহাজ নোঙর করার পর অসুস্থ নবাব আর ইংল্যান্ডে যেতে পারেন না, কলকাতাই তার পর থেকে হয়ে ওঠে নবাবের বাসস্থান।

নবাব থাকবেন যেখানে, নবাবী খানাপিনাও থাকবে সেখানে। সেই সূত্রেই নবাবী রন্ধনশালাতেই প্রথম বিরিয়ানি রান্না হয় শহরের বুকে। কিন্তু নতুন ঠিকানায় বিরিয়ানির স্বাদেও এল নতুনত্ব। রাজার পাচক এখানে বিরিয়ানিতে যোগ করলেন আলু, নবাবেরও বেশ পছন্দ হল সেই স্বাদ। ব্যাস,বাকিটা ইতিহাস – কলকাতার বিরিয়ানি দেশের অন্যান্য প্রান্তের বিরিয়ানি থেকে আলাদা হয়ে উঠলো আলুর স্বাদের গুণে।

 

কলকাতার মানুষ আসলে বিরিয়ানি প্রেমী, আর বিভিন্ন স্বাদের বিরিয়ানির আবদার তাদের ছিলই। সেই কারণেই কলকাতার বুকে প্রথম এইরকম বিরিয়ানি ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের ছয় রকম স্বাদের বিরিয়ানির পাশাপাশি আরও আট রকমের বিরিয়ানি থাকছে।

তবে এখন শুধু কলকাতা বা ভারতবর্ষের নয়, প্রতিবেশী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিরিয়ানির স্বাদও কলকাতায় বসে পেতে, ২৬ তারিখের মধ্যে আপনি আসতেই পারেন উত্তর কলকাতার হাতিবাগানের করিম’স-এ। এই শাখার জেনারেল ম্যানেজার পরিতোষ কুমার মণ্ডল বঙ্গদর্শন.কম-কে জানিয়েছেন, “কলকাতার মানুষ আসলে বিরিয়ানি প্রেমী, আর বিভিন্ন স্বাদের বিরিয়ানির আবদার তাদের ছিলই। সেই কারণেই কলকাতার বুকে প্রথম এইরকম বিরিয়ানি ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের ছয় রকম স্বাদের বিরিয়ানির পাশাপাশি আরও আট রকমের বিরিয়ানি থাকছে। ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানি, কলকাতা ও লখনৌর রেসিপির সংমিশ্রণে মটকা বিরিয়ানি, ইলিশ বিরিয়ানি, চিংড়ি বিরিয়ানি-সহ আরও নানা পদ আছে এই স্পেশাল মেনুকার্ডে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “কাচ্চি বিরিয়ানি আর মটকা বিরিয়ানির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, আর সব ধরনের বিরিয়ানির দামও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে, তাই প্রতিদিনই বিশেষত ছুটির দিনগুলোতে বিরিয়ানি প্রেমী মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে দোকানে।” ১১০ বছর আগে ১৯১৩ সালে করিমস-এর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বিরিয়ানির সেই স্বাদ আজও অব্যাহত আছে।

আসলে শক, হুন, মোগল, পাঠান প্রভৃতি অনেক জাতি যেমন মিশে গেছে ভারতের মাটিতে, তেমনই তাদের অনেক আচার-আচরণ, খাদ্যাভাসও ঢুকে পড়েছে ভারতীয়দের জীবনচর্যায়। আর বাঙালি তো প্রায় সবকিছুরই বঙ্গীকরণ করে আপন করে নিয়েছে। তাই বিরিয়ানি এখন বাঙালির হেঁসেলের খাবার। তবে নানা স্বাদের বিরিয়ানির স্বাদ নিতে সপ্তাহের শেষে ছুটির দিনে আপনার গন্তব্য হতেই পারে করিম’স-এর হাতিবাগান শাখা। চোখে নয়, চেখে দেখুন।

——–
করিম’স, ৮৪, অরবিন্দ সরণি, হাতিবাগান, কলকাতা (রাধাকৃষ্ণ মন্দির সন্নিকট), কলকাতা ৭০০ ০০৫ | সময় বেলা ১২টা থেকে রাত ১১:৩০টা

Developed by DXDasia