মৌমাছি বাঁচলে আমরা বাঁচব, বাস্তুতন্ত্র বাঁচবে

আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস

মৌমাছি বাঁচলে আমরা বাঁচব, বাস্তুতন্ত্র বাঁচবে— কথাটা শুধু মৌমাছি নয়, যেকোনো পরাগমিলনকারী প্রাণীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রজাপতি, বাদুড় বা হামিংবার্ডের মতো পরাগায়নে সাহায্যকারী প্রাণীদের সঙ্গে মৌমাছিও আজ বিলুপ্তির পথে। ২০১৮ সাল থেকে জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিবছর ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস (World Bee Day) পালিত হয়ে আসছে। জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য, পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, বাসযোগ্য করে তোলার জন্য মৌমাছি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেই সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ।

মৌমাছি বিলুপ্ত হয়ে পড়লে মানুষ-সহ পুরো প্রাণীকুল নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। তাই সচেতনতা প্রয়োজন, প্রয়োজন মৌমাছি সংরক্ষণ।

ফুল থেকে ফুলে ঘুরে বেড়ায় মৌমাছিরা। মৌ সংগ্রহের পাশাপাশি পরাগমিলন ঘটিয়ে ফলনে সাহায্য করে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে চাষের ক্ষেতে বা বাগানে কীটপতঙ্গনাশক (Insecticides) প্রয়োগ, ঝোপ ও জঙ্গল কেটে হু-হু করে বসতি স্থাপন, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কারণে মৌমাছির সংখ্যা ক্রমশ কমছে। ভালো ফলন হচ্ছে না, বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৌমাছি বিলুপ্ত হয়ে পড়লে মানুষসহ পুরো প্রাণীকুল নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। তাই সচেতনতা প্রয়োজন, প্রয়োজন মৌমাছি সংরক্ষণ।

মানুষ তো নামেই সামাজিক জীব! কিন্তু, বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ যা করতে পারেনি মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল, পিঁপড়ে সামান্য কীট-পতঙ্গেরা সেই কোন প্রাচীন যুগ থেকে তা আয়ত্ত করে সাফল্যের সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছে। “মৌমাছি মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি দাঁড়াও না একবার ভাই, ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় যে নাই”- নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের ‘কাজের লোক’ ছড়ার এ-দুটি লাইন থেকে ধারণা পাওয়া যায় কতটা কর্মঠ এই পতঙ্গ। বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে পরিশ্রমী প্রাণী হিসেবে মৌমাছির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দরকার।

কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ না করলে এবং বড়ো আয়োজন করে বাণিজ্যিক কৃষিক্ষেত্রে এই রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প না আনতে পারলে ভবিষ্যৎ সত্যিই অন্ধকার! ইতিমধ্যেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অন্য কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না সেসব ভেবেও লাভ নেই। নিজে সচেতন হন, অন্যকে করুন। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া গাছ, আগাছা, লতাগুল্ম কাটবেন না। কোথাও বড়ো মৌমাছির চাক হলে পুরোটা ভেঙে মধু নিষ্কাশন করবেন না। বেশ খানিকটা ছেড়ে রাখা উচিত, যাতে তারা পরেও চাক বানিয়ে নিতে পারে। স্থানীয় শাক-সবজি-ফল-ফুল চাষ করুন। ক্ষেতে বা বাগানে পরাগমিলনকারী পতঙ্গদের আকর্ষণ করে এমন গাছ লাগান সীমানা বা আল বরাবর। রাসায়নিক বিষ ব্যবহার বন্ধ করে দিন। জৈব কীটরোধক প্রয়োগ করলেও তা সন্ধ্যার মুখে করতে হবে। এতে শুধু কীটপতঙ্গ বাঁচবে তা নয়, আপনিও বিভিন্ন মারণরোগের হাত থেকে বাঁচবেন।

_____________
তথ্য ঋণ: মধুবন স্বনির্ভর মৌপালক গোষ্ঠী, নীলাঞ্জন মিশ্র

 

Developed by DXDasia