চৈতন্যদেবের আবির্ভাব থেকে শুরু হয়েছে গৌরাব্দের বর্ষগণনা

গৌরাব্দের ১২টি মাসের নামকরণ হয়েছে নারায়ণের বিভিন্ন নাম অনুসারে

আজ দোল পূর্ণিমা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সোনার বিশাল উজ্জ্বল থালার মতো চাঁদ দেখা যাবে সন্ধেবেলা, যার মদির জ্যোৎস্না ভাসিয়ে দেবে সমস্ত চরাচর। অবশ্য তার আগে সকাল থেকেই রং-এর উৎসবে সবাই মেতে উঠেছে। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুন মাসে পূর্ণিমার এই দিনে বৃন্দাবনে রাধা এবং অন্যান্যদের সঙ্গে রং-এর খেলায় মেতেছিলেন কৃষ্ণ। আরও বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত আছে এই দিনটিকে ঘিরে। উত্তর ভারতে হোলি উৎসব পালিত হয় ফাল্গুন পূর্ণিমার পরের দিন। বাঙালিদের কাছে দোল পূর্ণিমার আলাদা মাহাত্ম্য আছে, কারণ, এই দিনই জন্মগ্রহণ করেছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভু। এখন অবশ্য চৈতন্যদেবের ভক্ত এবং অনুগামীরা ছড়িয়ে আছেন সারা পৃথিবীতে। দোল পূর্ণিমাকে তাঁরা গৌর পূর্ণিমা নামেও ডেকে থাকেন। শুধু তাই নয়, চৈতন্যদেবের জন্মকে কেন্দ্রে রেখে প্রচলন করা হয়েছে আলাদা একটি অব্দের – যার নাম গৌরাব্দ।

বঙ্গাব্দ, বিক্রম সংবৎ অথবা শকাব্দের মতো খুব বেশি প্রচার না পেলেও গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতাবলম্বীদের কাছে গৌরাব্দের আলাদা মূল্য রয়েছে। হিন্দু বৈষ্ণব ধারার এক প্রধান শাখা হল গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম। এই ধর্ম আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভু। 

মায়াপুরে ইসকনের গৌর পূর্ণিমা উদযাপন | ভিডিও সৌজন্যে – পর্যটন দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার

দোল পূর্ণিমা অর্থাৎ চৈতন্যদেবের আবির্ভাব তিথির ঠিক পরের দিনটি গৌরাব্দের প্রথম দিন। সেদিন থেকে শুরু হয় বিষ্ণু মাস। গৌরাব্দের ১২টি মাসের নাম রাখা হয়েছে নারায়ণের ১২টি নাম অনুসারে। বিষ্ণু মাসের পর আসে মধুসূদন। তারপর যথাক্রমে ত্রিবিক্রম, বামন, শ্রীধর, ঋষিকেশ, পদ্মনাভ, দামোদর, কেশব, নারায়ণ, মাধব এবং গোবিন্দ মাস। আর থাকে পুরুষোত্তম নামের অধিমাস। গৌরাব্দের বৈষ্ণব পঞ্জিকা আসলে চান্দ্র এবং সৌর বর্ষগণনা পদ্ধতির মিশ্রণ। কিন্তু সৌরমাস ও চান্দ্রমাসের দৈর্ঘ্য এক নয়। সেই হিসেবকে মেলানোর জন্য গৌরাব্দের প্রতি তিন বছরে যোগ করা হয় একটি অতিরিক্ত মাস। সেটিই পুরুষোত্তম মাস। 

চৈতন্যদেবের অন্তর্ধানের পর থেকেই তাঁর ভক্তশিষ্যরা গৌরাব্দের প্রচলন করেন। গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতানুগামীদের বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানের দিন-তারিখ-তিথি গণনা করা হয় গৌরাব্দের বৈষ্ণব পঞ্জিকা মেনেই। ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দের দোল পূর্ণিমার দিনে চৈতন্যদেবের জন্ম হয়েছিল। তখন থেকেই গৌরাব্দের গণনা শুরু করা হয়। সেই অনুযায়ী ২০২০-২১ সালে গৌরাব্দ হবে ৫৩৪।  

তথ্যসূত্র – মাসিক হরেকৃষ্ণ সমাচার (বৈষ্ণব পঞ্জিকা), মাসিক শ্রীভক্তিপত্র পত্রিকা (৫১ বর্ষ, ৩য় সংখ্যা)।
 

Developed by DXDasia