জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিডি বাংলায় সম্প্রচারিত হবে এই টেলিছবিগুলি
নব্বইয়ের দশক। টেলিভিশন বলতে ওই হাতেগোনা কয়েকটি চ্যানেল। বাড়িতে বাড়িতে তখনও টেলিভিশনের দাপট বাড়েনি। পাড়াতে কারোর বাড়িতে টিভি থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। দুপুর থেকে সন্ধে – উপচে পড়ত ভিড়। কিন্তু সেই নব্বইয়েরও আগে থেকে একটি বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল বাঙালির আবেগে ঢুকে পড়েছিল অনায়াসেই। বাড়িতে বসে বিনোদনের সহজ উপায় কেউই ছাড়তে চাননি। সাল ১৯৭৫। শুরু হল কলকাতা দূরদর্শনের পথ চলা। তাদের জাতীয় এই মাধ্যমে প্রথমবারের জন্য যুক্ত হল বাংলা চ্যানেল। গড়ে তুলল ইতিহাস। তারপর ধীরে ধীরে ঢুকল নতুন নতুন ফরম্যাট। তারই মধ্যে একটি হল টেলিছবি/ টেলিফিল্ম। ২০০০ সালের পর থেকে টেলিফিল্ম বলতে আমরা বুঝেছিলাম তারা টিভি কিংবা ইটিভি বাংলা। কিন্তু তারও আগে থেকে কলকাতা দূরদর্শন এই টেলিছবির ফরম্যাট শুরু করেছিল। ছোটো পর্দায় সিনেমা। নানান স্বাদের গল্প-চরিত্র। সময়সীমা সিনেমার মতোই। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। বিভিন্ন বাংলা চ্যানেলে টেলিছবি আমরা শেষবারের মতো দেখেছিলাম মোটামুটি ২০১৩-১৪ সালে। ক্রমে টেলিভিশন জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করল ধারাবাহিক বা ডেইলি সোপ। পাল্টে গেল বাংলা টেলিভিশনের ফরম্যাট।
এই এতকিছুর মধ্যেই খুশির খবর হল বহু বছর পর কলকাতা দূরদর্শনে ফিরে আসতে চলেছে টেলিছবি। এমন খবর বলেছেন দূরদর্শনের কর্মীরাই। সেই মতো প্রস্তুতিও চলছে। ‘যদি প্রেম দিলে না প্রাণে’ নামের একটি সিরিজ আসতে চলেছে কলকাতা দূরদর্শনে। আপাতত সেখানে দুটি টেলিছবি দেখানোর কথা ভাবা হয়েছে।

এই গল্প নন্দিনী আর শুভ্রর। নন্দিনী অসম্ভব পরিপাটি, গোছানো, সুগৃহিনী। আর শুভ্র ঠিক তার উল্টো। ছন্নছাড়া, বেহিসাবী। তবু বেশ চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু হঠাৎ বিচ্ছেদ। নন্দিনী তার জীবন গুছিয়ে তুললো তার মতো করেই। ইতিমধ্যে শুভ্র জানতে পারে নতুন সঙ্গীর খোঁজে নন্দিনী একাধিক পুরুষের সঙ্গে দেখা করছে। মনে মনে ঈর্ষা অনুভব করে শুভ্র। নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে সেও নতুনভাবে বাঁচার চেষ্টা করে। নন্দিনীর কাছে আসা একটা ফোন পাল্টে দেয় সবকিছু। আর এ নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘প্রেম নেই?’। এই টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন প্লাবন বসু, সুস্মিতা চ্যাটার্জী, ইন্দ্রানী মুখার্জী প্রমুখ।

দ্বিতীয় টেলিছবি ‘শুভদৃষ্টি ডট কম’। অনীশের বিয়ে দেওয়ার জন্য তার মা, দাদা, বৌদি সকলে বদ্ধপরিকর। খবরের কাগজের পাত্র-পাত্রী কলাম থেকে অনলাইন ম্যারেজ ব্যুরো কিছুই বাদ যায় না, শেষমেশ সাহায্য নেওয়া হয় ‘শুভদৃষ্টি ডট কম্’-এর। তারা বিভিন্ন পাত্রীর তথ্য এবং ছবি পাঠায়। তাদের মধ্যে একজন, তৃণাকে অনীশের পছন্দ হয়। বিভিন্ন ঘটনা পরম্পরার মধ্যে এইভাবে গল্প এগোয়। এই টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন পলাশ গাঙ্গুলি, পিয়ালী মুখার্জী, রঞ্জিনী চ্যাটার্জী প্রমুখ।

জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিডি বাংলায় সম্প্রচারিত হবে এই টেলিছবিগুলি। বাকিটা নির্ভর করবে টিআরপির উপর। টেলিভিশনের বাঁধাধরা ছক এই একটা শব্দের উপরেই নির্ভর করে। কিন্তু কেউ যদি সামান্যতম ‘রিস্ক’ নেয়, তাতে খুব ক্ষতি হবে কি? দর্শক কী চাইছে, তাতে যেমন টেলিভিশন আস্থা রাখে এবং সেই মতো এগোয়; পাশাপাশি দর্শক তৈরি করাটাও বোধহয় দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। একজন খাঁটি ও সৎ দর্শক। আর এই গুরু দায়িত্ব চিরকাল পালন করে এসেছে দূরদর্শন। বাংলা টেলিভিশনের প্রথম ধারাবাহিকটি আসে এই চ্যানেলের মাধ্যমেই – ‘তেরো পার্বণ’। তারপর ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, ‘জননী’, ‘জন্মভূমি’, ‘দর্শকের দরবারে’, ‘কৃষিদর্শন’, ‘চিত্রমালা’, ‘ক্যামেরা চলছে’র মতো এক একটি সফল অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছে ডিডি বাংলার হাত ধরেই। বাংলা টেলিভিশনে আবার ফেরা টেলিছবি দর্শকরা নেবেন তো? উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম আমরা প্রত্যেকে।