প্রাণের কলকাতাকে ট্রিবিউট জানালেন রাজ্যের আমলা তথা সংগীতশিল্পী বিবেক কুমার

পাড়ার গলি থেকে রাজপথ সর্বত্রই ভাসছে বিবেক কুমারের গান

ত মঙ্গলবার আশা অডিও থেকে প্রকাশিত হল সংগীতশিল্পী, আমলা ও মুখ্যমন্ত্রীর অফিসার বিবেক কুমারের কলকাতা বিষয়ক একটি গান। ইউটিউব থেকে কলকাতা মেট্রো, পাড়ার গলি থেকে রাজপথ সর্বত্রই ভাসছে বিবেক কুমারের ‘চিরনতুন কলকাতা’ শীর্ষক সেই গান। এ গান শহরের ইট-কাঠ-বালির নয়, এ গান কলকাতার পথঘাট থেকে ব্যস্ত সাধারণ নাগরিক জীবনের। যেন অতীতের কলকাতার সঙ্গে আধুনিক কলকাতার কোলাজ। রয়েছে সমস্যা, আবার সেই সমস্যার সমাধানের উপায়ও সুরে সুরে বর্ণনা করেছেন বিবেক কুমার।

কলকাতা শহরের অন্যতম প্রধান অঙ্গ বাংলা গান। সেই সমস্ত গানের ভিতর ঢুকে গেছে কলকাতার জল-হাওয়া। সত্তরের বাংলা গানের দল ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ থেকে আশির দশকের ‘নগর ফিলোমেল’ কিংবা কবীর সুমন-অঞ্জন দত্ত-নচিকেতা, তারও পরে বেশ কিছু বাংলা ব্যান্ডের গানে সরাসরি ‘কলকাতা’ এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বিবেক কুমারের কণ্ঠে এবার উঠে এল ঝলমলে চেনা এক কলকাতা। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ – উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলোর নস্টালজিয়া সুরের মূর্ছনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। কারণ এ শহর আজ যা ভাবে, অন্য শহর ভাবে কাল।

ঐতিহাসিক মহানগরী কলকাতা – যাকে ঘিরে এত আবেগ, উন্মাদনা – কলকাতার মতো খুব কম শহরই আছে, যাকে ঘিরে এত হইচই। শহরের শিক্ষায় তরুণ-তরুণীদের অহংবোধ জন্মায়, তারা ভালোবাসতে শেখে। গানের শুরুতেই লেখা আছে, “অক্ষর চার নামটি তাহার কলকাতা/ হইচইময় তিলোত্তমার ব্যস্ততা/ যৌবনেরই রংমশালে কলকাতা/ ঝলমলমল প্রাণের বাতি কলকাতা/ আলোর সে জোনাকি, রহস্যেরই ফুলকি/ সুখ দুঃখ কান্না হাসির গল্প তা/ কলকাতা কলকাতা…”

উত্তম-সুচিত্রা থেকে সৌমিত্র-ছবি বিশ্বাস, মা দুর্গা-কালী থেকে ক্রিসমাস-দিওয়ালি, কলেজস্ট্রিট-কফিহাউস থেকে ময়দানের ক্রিকেট, ঝালমুড়ি-ফুচকা থেকে নিধুবাবুর টপ্পা এমনকি নাগরিক মিছিল – বিবেক কুমারের ‘চিরনতুন কলকাতা’য় কী না নেই!

বিবেক কুমার পেশাদার সংগীতশিল্পী নন। তাঁর মাতৃভাষাও বাংলা নয়, হিন্দি। যদিও ১৯৯১ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাজে যোগ দেবার পরেই বাংলা শেখেন, বাংলায় গানও গান। কলকাতা বিষয়ক গতবছর প্রকাশিত তাঁর আরও একটি গান শ্রোতাদের প্রায় মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এ বছর প্রাণের কলকাতাকে ট্রিবিউট জানালেন আরও একবার। সুরের মধ্যে দিয়ে উজাড় করে দিয়েছেন কলকাতা নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ। এই গান প্রসঙ্গে বিবেক কুমার জানিয়েছেন, এটি তাঁর শহরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। কলকাতা এই বাংলার রাজধানী এবং একইসঙ্গে বাংলার মুখ। একইসঙ্গে এই গান তাই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিও শ্রদ্ধাঞ্জলি। উত্তম-সুচিত্রা থেকে সৌমিত্র-ছবি বিশ্বাস, মা দুর্গা-কালী থেকে ক্রিসমাস-দিওয়ালি, কলেজস্ট্রিট-কফিহাউস থেকে ময়দানের ক্রিকেট, ঝালমুড়ি-ফুচকা থেকে নিধুবাবুর টপ্পা এমনকি নাগরিক মিছিল – বিবেক কুমারের ‘চিরনতুন কলকাতা’য় কী না নেই! আবার গানের রেশে ঢুকে পড়েছে রবীন্দ্রনাথের ‘আমার মনের কোণের বাইরে’-র একঝলক সুর। শুধুমাত্র স্থান-মাহাত্ম্য বর্ণনাই নয়, গানে মিশে গেছে মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার কিস্‌সা।

একজন অ-বাংলাভাষীর মুখে দুর্দান্ত বাংলায় এই গান শুনে কলকাতাবাসী আপ্লুত। বিবেক কুমার একাধারে যেমন দক্ষ প্রশাসক, অন্যদিকে আপাদমস্তক সংগীত ও বাংলা ভাষাপ্রেমী। তাঁর এই গানের মেজাজে জায়গা করে নিয়েছে যেমন ভিক্টোরিয়ার ঘোড়াদের উল্লাস, কলেজস্ট্রিটের বইয়ের ভাঁজ, উৎসবে ভরপুর সিটি অফ জয়ের রং, তেমনই সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা। কলকাতা এমন একটি প্রাচীন শহর, যেখানে একইসঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী মন্দির-মসজিদ-গির্জা। এই গানে এসেছে শহরের খাবারের ঘ্রাণ এবং বারো মাসে তেরো পার্বণের জৌলুস। গানটির সুরকার এবং গায়ক বিবেক কুমার, গানের কথা লিখেছেন তপন দেবনাথ, সংগীত আয়োজক কুণাল চক্রবর্তী।

কলকাতা, কখনও যার বয়স বাড়ে না। বহু মানুষকে আপন করে নিয়েছে কলকাতা। ইউটিউবে গানটি প্রকাশিত হবার পর শ্রোতারা বিনিময় করেছেন বিভিন্ন মতামত। কেউ বলেছেন, “আপনি যে বাঙালি নন, যাঁরা আপনাকে চেনেন না তাঁদের বিশ্বাস করানো বেশ কঠিন”। কেউ লিখেছেন, “কথা আর সুরের আলিঙ্গনে যেন মনের কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।” প্রসঙ্গত, বিবেক কুমার পশ্চিমবঙ্গের ‘রাজ্য সংগীত সম্মান’ প্রাপক।

Developed by DXDasia