শিক্ষকদের থেকে নাম লুকোতেই বলাইচাঁদ হয়েছিলেন ‘বনফুল’

বিশাল সাহিত্যসম্ভারের পাশাপাশি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন মনেপ্রাণে একজন ডাক্তার

একটা বিশাল সাহিত্যসম্ভারের পাশাপাশি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (Balai chand Mukhopadhyay) ছিলেন মনেপ্রাণে একজন ডাক্তার। ১৯১৮ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ভালো র্যা ঙ্ক (Rank) করে উত্তীর্ণ হলেন। ১৯২০ সালে আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন হাজারিবাগ সেন্ট কলম্বাস কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা (Kolkata) মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, পাশপাশি পাটনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবি ডিগ্রি পান। প্যাথলজিস্ট হিসাবে টানা চল্লিশ বছর কাজ করেছেন।

১৯৬৮ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। ডাক্তারির পাশাপাশি তাঁর অন্যতম প্রেম ছিল সাহিত্যচর্চা। প্রায় এক হাজারের বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোটোগল্প, ৬০টি উপন্যাস লিখেছেন। লিখেছেন বহু প্রবন্ধ, নাটক এবং আত্মজীবনী। তাঁর এই লেখালেখির শখ ছোটোবেলা থেকেই। লিখতে ইচ্ছা করত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। তাই যাতে তাঁর নাম শিক্ষকদের নজরে না আসে এবং কেউ যেন বলতে না পারে- পড়াশোনা ছেড়ে এইসব হচ্ছে! তাই ঠিক করলেন একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করবেন। কোথাও লেখা প্রকাশিত হলে ওই নামেই বেরোবে। নিজের আসল নাম লুকোতেই তাই বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য দরবারে প্রবেশ করলেন বনফুল হিসেবেই। ১৯১৫ সালে বিহারের সাহেবগঞ্জ স্কুলে পড়ার সময়েই ‘মালঞ্চ’ পত্রিকায় একটি কবিতা প্রকাশের মধ্যে দিয়েই তাঁর লেখালেখির জীবন শুরু হয়। এর পাশাপাশি বনফুল পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন ব্যঙ্গ বা প্যারোডি কবিতার জন্য। সজনীকান্ত দাস (Sajani Kanta Das) সম্পাদিত তখনকার বিখ্যাত পত্রিকা ‘শনিবারের চিঠি’র নিয়মিত কবি ছিলেন বনফুল। বিখ্যাত কয়েকটি ব্যঙ্গ কবিতার নিদর্শন দেওয়া যাক, যা তাঁর ‘মর্জিমহল’ নামের ডায়েরিতে পাওয়া যাবে-

১। ওরে ও বাঙালি, ওরে ও কাঙালি, ওরে ওরো ভিক্ষুক/ পরের দুয়ারে হস্ত পাতিয়া আজো কী রে পাস সুখ!/ …চাকরি পাইবে বলিয়া তাহার পরীক্ষা পাস করা,/ ডিগ্রি ঝুলিয়া নামের শেষেতে গর্বে তুলিয়া ধরা

২। রাম যবে শ্যামের বৌকে চুম্বন করিলেন/ শ্যাম গিয়া রামের টুঁটি চাপিয়া ধরিলেন/ রাম কয় ছাড় ছাড় লোডশেডিং ভাই রে/ মোর চুমা বেঠিকানায় পৌঁছিল তাই রে।

৩। কলকাতা আজ অবাঙালির নামটি কলকাত্তা/ বাঙালিরা কোনোখানেই পাচ্ছেন না পাত্তা/ ঝাঁকড়া চুলো চোঙা প্যান্ট গালে লম্বা জুলপি/ বাঙালিরা খান কেবল সংস্কৃতি-কুলপি/ গত নাড়তে পারেন না ব্যবসা ক্ষেত্রে গাড্ডু/ চেয়ে থাকেন দিল্লি পানে কবে আসবে লাড্ডু।

আজ বনফুলের ১২৩তম জন্মদিন। এমন রসিক বনের ফুলকে বাঙালি পাঠক ভুলবেন কী করে!

Developed by DXDasia