দিনযাপনে বাছাই করা খবর
প্রবল দারিদ্রের মধ্যেই গানের মরমী ভাণ্ডার সৃষ্টি করেছেন শাহ আবদুল করিম
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান আজ দুই বাংলাতেই জনপ্রিয়। তাঁর গান গেয়ে সারা বিশ্বে প্রশংসা লাভ করেন শিল্পীরা। ১৯১৬ সালে আজকের দিনে তিনি জন্মেছিলেন কালনী নদীর তীরে উজানধল গ্রামে। বাবা ছিলেন পেশায় দিনমজুর। ছোটোবেলা থেকেই প্রবল দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করেছেন শাহ আবদুল করিম। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার বিশেষ সুযোগ পাননি। একবার এক নৈশ বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন পড়াশোনার জন্য, কিন্তু তিনি ভর্তি হওয়ার ৯ দিনের মাথায় সেটি উঠে যায়। এক সময়ে গরু চরানোর চাকরি নিয়েছিলেন বাধ্য হয়ে। গরু চরাতে চরাতেই একতারা হাতে গান গাইতেন। এসবের মধ্যেই গানের তালিম নেন কমর উদ্দিন, সাধক বসির উদ্দিন, শাহ ইব্রাহিম মোস্তানের থেকে। বাউল দর্শনে প্রভাবিত হয়েছিলেন শাহ আবদুল করিম। সারা জীবনে দেড় হাজারেরও বেশি গান বেঁধেছেন তিনি। তাঁর এই গানগুলিতে অসাধারণ জীবনবোধের প্রকাশ ঘটেছে। ২০০৯ সালে ৯৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

“পায়রা পিছলে যাবে/ এমনি হয়েছে আকাশ” – কবি স্বদেশ সেনের জন্মদিন
“পায়রা পিছলে যাবে/ এমনি হয়েছে আকাশ/ রোদ এমন/ যে কাগজে ছাপানো যায়” – লিখেছিলেন আটের দশকের কবি স্বদেশ সেন। স্বদেশ সেনের স্বদেশে প্রবেশ করলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা যেমন কঠিন, তেমনিই তাঁর কবিতা কোনো আরাম বা সুখ দেয় না। যে ছেঁড়া ছেঁড়া চিত্রকল্পের উপর ভর করে কবি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তা বাংলা কবিতার চেনা বৃত্তের সম্পূর্ণ বাইরে। নিজের কবিতা নিয়ে তিনি বলছেন, “আমার কবিতায় এক ধরনের বিষাদ কাজ করে। কেউ যদি গভীরভাবে ভালোবাসার কথা বলতে চায়, তবে তার ভেতরে একধরনের বিষাদ উঁকি দেবে,— এই বিষাদ ভালোবাসার অনিশ্চয়তা, দ্বিধা ও ভঙ্গুরতার প্রচ্ছন্নবোধ থেকে হয়। আমার কবিতা অদার্শনিক। মানুষের ছোটো ছোটো চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা, আদর আর আবদারের কথাই আমার কথা।” নভেম্বরের রং আর পাখিদের জাগলারি স্বদেশ সেনের বড্ড প্রিয়। তাঁর কবিতা প্রথম পাঠ্যের বিষয় নয়। বারবার পড়তে পড়তে অনুধাবন করতে করতে একটা নতুন দরজা খুলে যাবে। আর দরজা খুললেই পাঠক ও কবির বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে। স্বদেশ সেন আমাদের খুব চেনা কথাগুলিই বলে দেন অচেনা আর অদেখার মোড়কে – “সারাদিন কাজ করো, সারাদিন তুমি ভালো থাকো।/ যখন ফুলেল ঢালো, যখন সাবানে হাত ধোও/ ঠুংরিগুলি ঠুং ঠাং করো/ উড়িয়ে তাড়িয়ে দাও পাখি।” আজ কবি স্বদেশ সেনের জন্মদিন।

সত্যজিৎ একাই একশো
কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক এবং লেখক সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর চলছে নানান অনুষ্ঠান-আলোচনা সভা। সত্যজিৎ সিনেমার ভাষ্যে এনেছিলেন নতুন জোয়ার। বাংলা সাহিত্যে ফেলুদা-শঙ্কুর মতো চরিত্র সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর তাই আমৃত্যু সত্যজিতের তুলনা একমাত্র সত্যজিৎই। আগামী ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যাসাগর সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হবে দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা। বাংলা বিভাগের আয়োজনে এই সভায় বক্তব্য রাখবেন অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, শিল্প-সমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লেখক নবকুমার বসু। আলোচনার বিষয়- সত্যজিৎ একাই একশো। প্রথমদিন দেখানো হবে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি ‘চারুলতা’।

লাদেন-বাগদাদিকে খুঁজে বের করার নায়ক এবার আসছে কলকাতা পুলিশের হাতে
সিরিয়ায় গোপন সুড়ঙ্গে লুকিয়ে থাকা আবু বকর আল-বাগদাদি কিংবা পাকিস্তানের আবোটাবাদে আত্মগোপন করে থাকা ওসামা বিন লাদেন – এই দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীকে খুঁজে বের করে সংবাদের শিরোনামে এসেছিল বেলজিয়ান মেলিনোস প্রজাতির কুকুর। আক্রমণাত্মক এই কুকুর মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত প্রিয়। সেই বিশেষ প্রজাতির কুকুর খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডে। জঙ্গিদমনের কাজে তাদের লাগানো হবে। আলাদা কেনেল বানানো হয়েছে এদের রাখার জন্য। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যেই কুকুরগুলোকে কেনার অনুমতি দিয়েছে। কুকুরগুলো এলে রাজ্যের বাইরে এদের প্রশিক্ষণ দেবেন বিশেষজ্ঞরা।