
নাৎসি রেডিওতে হিটলারের মৃত্যুর খবর সম্প্রচার হয়ে গেলেও, অদ্ভুতভাবে খবর চেপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্টালিন
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এখন জয়জয়কার, সেই মরশুমে‚ 'হোমল্যান্ড' শেষ সিরিজ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়ে বারো নম্বর এপিসোড দিয়ে সদ্য শেষ হল। এগারোটা এপিসোড পেরিয়ে এসে একটা জিনিস স্পষ্ট, পাশ্চাত্যের গল্প লিখিয়েরা চক্রান্তের সূত্রকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই রাশিয়ার ঘাড়েই ফেলবে। ঠিক যেমন আগামীদিনে এরকম গল্পের গরু চীনের ওয়েটমার্কেটে পৌঁছে যাবে। কোভিডের ক্রাইসিস পেরোতে পেরোতে উর্বর মস্তিস্কপ্রসূত এমনই কিছু গল্পের রূপরেখা যা হাতে এল তাতে একটা ব্যাপার নিশ্চিত— গৃহবন্দিদশা মানুষের সৃজনশীলতা আরও বেশি উস্কে দিয়েছে। এখন সেই প্রতিভার দিন দেখার পালা।
গত সপ্তাহেই লিখেছি, লকডাউন শিথিল হচ্ছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন ফিরে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে জার্মানির সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্স, স্পেন, ইটালি এবং সমগ্র ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান। দেড় লক্ষ আক্রান্ত যে আরও বাড়বে, সেই নিয়ে মার্কেল যত না চিন্তিত রাজ্যগুলি আরও বেশি চিন্তিত করোনাপরবর্তী আর্থিক মন্দার সংক্রমণ আটকাতে। পান্ডেমিক সফলভাবে আটকেও নিস্তার নেই বৈজ্ঞানিক আর প্রসাশকদের, শিল্পমহল আপাতত সমালোচনা শুরু করেছে জার্মানি কি তবে অতিরিক্ত সাবধানতা দেখিয়ে ফেলেছে ? রপ্তানি নির্ভর সেই শিল্প আবার স্বমহিমায় ফিরলে তারপর চীন নিয়ে কোন দেশ কী সিদ্ধান্ত নেবে সেই ভবিতব্য ক্রমশ প্রকাশ পাবে।
মিউনিখ নরদ্ফ্রিডহোফ – যেখানে ট্রাউডেল ইউঙ্গে-সহ নাৎসি জার্মানির অনেককে কবর দেওয়া হয়েছে
চীন কোভিডের ভিলেন হলেও, পাশ্চাত্যের গল্প লিখিয়েদের রাশিয়াকে ভিলেন বানানোর প্রবণতার উৎস কিন্তু কোল্ড-ওয়ার নয়, তারও আগের ঘটনা। সে কথাই আজ লিখব। কারণ এর সূত্রপাত হিটলারের মৃত্যু থেকেই। হিটলার বেঁচে থাকলে গত সপ্তাহে ১৩১ বছর বয়স হত, আর ১৯৪৫-এ মারা গিয়ে থাকলে এই সপ্তাহে সেই মৃত্যুর ৭৫ বছর হবে। হ্যাঁ, ঠিকই লিখলাম— ৩০ এপ্রিল ১৯৪৫, বার্লিনের ফুয়েরারবাঙ্কারে মারা গিয়ে থাকলে। এই মৃত্যু নিয়ে কিছুটা হলেও আজও যে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে তার কারণ, সেই রাশিয়া।
বাঙালি জাতি যতটা ইতিহাসের গসিপ ভালোবাসে এবং সেটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পছন্দ করে, এদেশে ততটা গসিপ উৎপাদন করার মতো উস্কানি নয় এটা। কারণ হিটলার কবে কীভাবে মারা গেল তাতে জার্মানরা বিশেষ বিচলিত নয়। পাঠ্যপুস্তকে যে পড়ানো হয় না সেত স্বতঃসিদ্ধ, আজকাল সেসব নিয়ে এদেশে চর্চাও খুব কম হয়। যুদ্ধ পরবর্তী দশকগুলোতে মার্কিন, সোভিয়েত, ব্রিটিশ প্রশাসন ধরে ধরে নাৎসি জার্মানির সমস্ত চিহ্ন ধ্বংস করে তবে দেশ ছেড়েছে। এখন এদেশে কোনো অনুজ ধর আর সৃজিত মুখার্জি থাকলেও তারা গাটছাড়া বেঁধে নিজজাতিকে মৃত্যুরহস্যের এই ঘোল খাওয়ানোর চেষ্টা করবে না, ক্রিসমাসের মতো সিজনেও। ব্রিটিশ আর মার্কিন পত্র-পত্রিকাগুলোই শুধু এই হাওয়া গরম রাখতে ভালোবাসে।
তাই, মারা গিয়ে থাকলে— এই উস্কানিটা সম্পূর্ণ আমার। কারণ, ঠিক চোদ্দ বছর আগে, যবের থেকে এদেশে পা দিয়েছি এই ইতিহাসটার প্রেক্ষাপট কতটা বেঁচে আছে সেটা খোঁজবার চেষ্টা করে দেখেছি যুদ্ধপরবর্তী ইতিহাসের ভগ্নাংশের কিন্তু অভাব নেই। মিউনিখের যে বাড়িতে নাৎসি পার্টির সৃষ্টি সেটি এখনও আছে, তবে এখন অ্যাপেলের একটি ডিলার শোরুম। চ্যান্সেলর হিটলারের মিউনিখ অফিস, যেখানে সারা পৃথিবীর তাবড় নেতাকে ডেকে বোকা বানিয়ে চুক্তি সই হয়েছিল যুদ্ধ শুরুর ঠিক এগারো মাস আগে, সেটি এখন সঙ্গীত একাডেমি। সেখান থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে নাৎসিপার্টির সদরদপ্তর ভেঙে এখন তৈরি নথিকেন্দ্র। মিউনিখ শহরের বাইরে, অস্ত্রিয়া সীমান্তে ব্রানাউ-আম-ইন যেখানে হিটলারের জন্ম, সেটি এখন একটি স্কুল। আল্পসের বুকে হিটলারের সেই বিখ্যাত বার্গহোফ না থাকারই কথা, কিন্তু জঙ্গলের ভিতর হাঁটাপথে কিছুদূর গেলে তার ধ্বংসাবশেষ আজও খুঁজে পাওয়া যায়। সর্বোপরি, বার্লিনের ফুয়েরারবাঙ্কারের ওপর এখন অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং হলেও মাটির নিচে সেই বাঙ্কারের শাখা-প্রশাখা আজও হাজির হোটেল অ্যাডলনের বেসমেন্টে। তাছাড়া, শহরের আনাচে কানাচে আজও মাটি খুঁড়তে গিয়ে তাজা বোমা উদ্ধার হয়, এই ৭৫ বছর পরেও। এতকিছু বেঁচে আছে যখন, মৃত্যুর রহস্য কিঞ্চিৎ বেঁচে থাকলে ক্ষতি কি?
প্রথমেই বলে রাখা ভালো, হিটলার যে নিশ্চিতরূপে মৃত তার বড়ো বড়ো সাক্ষী অনেক জবানবন্দি দিয়েছেন। যার পুরাভাগে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী কাম স্টেনোগ্রাফার – ট্রাউডেল ইউঙ্গে। নানা সরকারি বিবৃতি এবং জেরার সময়ের উত্তর সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ রাখে না। ১৯৪২-এ বাইশ বছর বয়সে শুরু করে হিটলারের শেষদিন অবধি সঙ্গে ছিলেন। বার্লিনের রাইখ চ্যন্সেলরী, বেখটেসগার্ডেন বার্গহোফ, পোল্যান্ড আর ফুয়েরারবাঙ্কার সব জায়গার ছায়াসঙ্গী হয়ে কাজ করেছেন। শেষ কাজ, হিটলারের উইল টাইপ করা। চোখের সামনে হিটলারের প্রিয় কুকুর ব্লন্ডিকে সায়ানাইড খাইয়ে মারা দেখেছেন। তার পরের দিন শুনেছেন সেই গুলির শব্দ, যা যবনিকা টানে নাৎসি জার্মানির বারো বছরের রাজত্বের। যুদ্ধপরবর্তীকালে সোভিয়েতদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েও, ব্রিটিশ-আমেরিকানদের হাত ঘুরে অবশেষে ফিরে আসেন নিজের জন্ম শহরে – মিউনিখে। হিটলার-মৃত্যুর নথিবদ্ধ ইতিহাস – তাঁর বই প্রকাশিত হওয়ার বছরেই মারা যান ২০০২ সালে, এই শহরেই। সেই বইটি, বিস যু লেত্জে স্টুন্ডে জার্মান থেকে অতি খারাপ অনুবাদে আন্টিল দ্য ফাইনাল আওয়ার নামে বিক্রি হলেও তার সবচেয়ে বড়ো স্বীকৃতি – ২০০৪-এ অস্কার পাওয়া 'ডাউনফল' নামক সিনেমাটি। নিঃসন্দেহে বলতে পারি, বইটি পড়ার দরকার নেই, সিনেমাটি দেখুন। আমার মিউনিখের প্রথম বাসস্থানের পাশেই নরদ্ফ্রিডহোফে (শহরের উত্তর কবরখানা) শায়িত হয়ে ট্রাউডেল ইউঙ্গেও হয়তো সেটি বলবেন।
তাহলে রহস্য আর কী? মৃত্যু যখন প্রমাণিত এবং নথিভুক্ত, সেক্ষেত্রে তর্কের অবকাশ কোথায় ?
এখানেই রাশিয়ানদের প্রবেশ এবং তৎসঙ্গে এলেনা রেভ্স্কায়া নামক এক দোভাষীর। যুদ্ধের শেষ লগ্নে, রেড আর্মির বার্লিন দখল ছিল সময়ের অপেক্ষা। হিটলারের ইচ্ছানুযায়ী সায়ানাইড এবং খুলিতে গুলি করে আত্মহত্যার পর সেই শব যাতে কোনওভাবেই রাশিয়ানদের হাতে না পড়ে সেই ব্যবস্থা করতে বাঙ্কারের বাইরেই বোমার ক্রেটারে ২০০ লিটার পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয় হিটলার এবং ইভা ব্রাউনকে। এই সত্যতা নিয়েও কোনো সন্দেহ নেই, হিটলারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার অত্যন্ত কাছের দুজন তা স্বীকার করেছে নিজেদের জবানবন্দিতে, পরে। কিন্তু ৩০ এপ্রিলের আশেপাশে সেই সময়ে রেড আর্মি বাঙ্কারে পৌঁছেও প্রথম দু-একদিন কিছুই হদিশ পায়নি। কাকতলীয় ভাবেই তাজা মাটির তলা থেকে আধপোড়া একটি কম্বলের সূত্র ধরে আবিষ্কার হয় সেই মৃতদেহ। ঘনঘন বোমাবাজির ফলে আংশিক পুড়িয়েই ক্ষান্ত দিতে হয়েছিল এস্এস্ দাহকারীদের। বার্লিনের এক বিশেষ মর্গে অত্যন্ত গোপনীয়তায় সেই শব থেকে বেরোয় হিটলারের ভগ্ন চোয়াল। স্টালিনের কড়া নজরদারি তখন মস্কো থেকে সরাসরি বার্লিনে লাইভ টেলিকাস্ট। কোনওভাবেই ক্যাপিটালিস্টদের কাছে হিটলারের এই খবর যাতে না পৌঁছায় তার দায়িত্বে তখন সোভিয়েত সিক্রেট সার্ভিস, এমনকি বার্লিনের কম্যান্ডার যূকভকেও ধোঁয়াশায় রেখে। শবের কথা জানত স্রেফ তিনজন। তাদের একজনই এই এলেনা রেভ্স্কায়া, সোভিয়েত সিক্রেট সার্ভিস (স্মেরষ্) ভাষাবিদের কাজ করা যার দায়িত্ব তখন। রেড আর্মিসহ সারা বার্লিনের সোভিয়েত সৈন্য তখন বার্লিন পতনের উচ্ছাসে মাতাল। মদ্যপ কারো ওপর ভরসা না করে, এই এলেনাই একটা সস্তা গয়নার বাক্সে সেই মাংসপিণ্ডওয়ালা চোয়াল নিয়ে হানা দিলেন হিটলারের ডেন্টিস্টের চেম্বারে। ডেন্টিস্ট উধাও, কিন্তু তার দুই সহকারীকে পাকড়াও করে মিলল হিটলারের দন্তবৃত্তান্ত। নিঃসন্দেহ হয়ে বার্লিন থেকে মস্কো পাড়ি দিল সেই বিশেষ দেহাবশেষ। আজও যা রাশিয়ান কবলে। আর এলেনা রেভ্স্কায়া এ সমস্ত লিখে গেছেন স্টালিন পরবর্তী সময়ে।

কিন্তু নাৎসি রেডিওতে হিটলারের মৃত্যু খবর সম্প্রচার হয়ে গেলেও, মিত্রশক্তির কাছে অদ্ভুতভাবে মৃতদেহের খবর চেপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্টালিন। এমনকি প্রধান সাক্ষীদের এমন করে জেলে পাচার করে দেওয়া হয় যে, পরের দশ বছর মিত্রশক্তির নাগালের বাইরে। সেই ধামাচাপাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে স্টালিন বার্লিনের কম্যান্ডার যূকভকে তিরস্কার করে নিখোঁজ হিটলারকে খুঁজে বার করতে মেকি আদেশও দেন। এমনকি সাংবাদিক সম্মেলনে এ-ও খবরও রটিয়ে দেওয়া হয়, জার্মান সাবমেরিন করে হয়তো বা স্পেনের ডিক্টেটর ফ্যাঙ্কোর সাহায্যে আর্জেন্টিনায় আশ্রিত জার্মানির শেষ ডিক্টেটর। অনেকটা কোভিডের উৎস নিয়ে যেমন চীন আর আমেরিকার চাপানতোর, তেমনই মৃত্যু নিয়ে চাপানোতর করতে করতে রাশিয়ানরা এক সময় এ-ও দাবি করে যে হিটলার আর ইভা ব্রাউন জীবিত এবং ব্রিটিশ কবজায়। সর্বোপরি স্টালিন নিজেও পটস্ড্যাম কনফারেন্সে হিটলার জীবিত – এই তত্ত্ব রীতিমতো জিইয়ে রাখেন। এমনকি হিটলারের নিজস্ব পাইলটকে পাকড়াও করে এমন তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা হয় যে ওই পাইলটই নাকি হিটলারকে বার্লিনের বাইরে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বার্লিনের এয়ারপোর্ট যে ক্ষতিগ্রস্ত নয় প্রমাণস্বরূপ সেটিও ব্যবহার করা হয়।
এই ধোঁয়াশার পেছনে স্টালিনের উদ্দেশ্য নিছকই রাজনৈতিক। হিটলার সরকারিভাবে মৃত নয়, মানে হিটলারের সন্ধান চলছে। অতএব অ্যান্টিরাশিয়ান অ্যান্টিবলশেভিক নাৎসি মতবাদ পুনরায় মাথাচাড়ার বিরুদ্ধে লড়াই চিরন্তন জারি, এই ভয় জিইয়ে রাখা। অন্যদিকে রুশ জেনারেলদের যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে হিটলার-অধরা ইস্যুতে ব্যস্ত রাখা মানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া থেকে সামরিকবাহিনীকে দূরে রাখা।
বেসরকারিভাবে গৃহীত হলেও ১৯৫৩-তে স্টালিন মারা যাওয়ার পরেও সরকারিভাবে অনেকদিন হিটলার মৃত্যুর সত্যতা সোভিয়েতরা স্বীকার করেনি। কিন্তু ১৯৫৫ থেকে ধীরে ধীরে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে অনেকেই সে বিষয় মুখ খোলেন। এলেনা রেভ্স্কায়ার বই প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে, ঘটনাবলীর ক্রমে যা এক অর্থে ট্রাউডেল ইউঙ্গের বইয়ের প্রায় দ্বিতীয় খণ্ড। অবশেষে ১৯৬৮ সালে সোভিয়েতরা ১৯৪৫-এর হিটলারের অটোপ্সি রিপোর্ট প্রকাশ করে, কিন্তু কিঞ্চিৎ নিজস্ব কায়দায় তারা জানায় সেই মৃত্যু বিষপান করে, অর্থাৎ সৈনিকের মৃত্যু নয় কাপুরুষের মৃত্যু। ধীরে ধীরে এই মৃত্যুরহস্য খোলসা হতে হতে বার্লিনের প্রাচীর এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময় হয়ে যায়।

১৯৪৫-এ অনেক কিছু রটালেও সন্দেহবাতিক স্টালিনের নিঃসন্দেহ হওয়ার দরকার ছিল। হিটলারের অর্ধদগ্ধ মৃতদেহের অনেকটাই নিরুদ্দেশ। তাই সন্তুষ্ট না হয়ে একবছর পরেও ১৯৪৬-এ আবার বার্লিনের সেই একই ক্রেটারে খোঁড়াখুঁড়ি আর তল্লাশির আদেশ হয় এবং সেখান থেকে যা বেরোয় তা আরও চমোকপ্রদ। গুলিবিদ্ধ একটি খুলি। আর সেই খুলিই যত নষ্টের গোড়া হয়ে দাঁড়ায় পরবর্তীকালে।
২০০০ সালে এক প্রদর্শনীতে, সেই গুলিবিদ্ধ খুলি আর চোয়ালের ভগ্নাংশ এই রহস্যের যবনিকা পতন ঘটাতে পারত। কিন্তু না। রাশিয়ানরা যেখানে শেষ করল, পাশ্চাত্য মাধ্যম তা লুফে নিল।
২০০৯ সালে কানেক্টিকাট বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করে ডিএনএ টেস্টে সেই গুলিবিদ্ধ খুলি কোন অনূর্ধ্ব চল্লিশ নারীর বলে ধরা পড়েছে। ব্যাস, মৃত্যুর ওপর আবার মেঘলা আকাশ। তার সঙ্গে সঙ্গে কোনো এক সংবাদ মাধ্যম এ-ও প্রচার করে ফেলে ১৯৭৫ সালে হিটলারকে কলম্বিয়ায় দ্যাখা গেছে নতুন বান্ধবীর সঙ্গে। রাশিয়ানরা সেই তথ্য ভুল প্রমাণ করতে ফরাসী বৈজ্ঞানিকদের চোয়াল আর খুলি পরীক্ষা করতে সুযোগ দ্যায় ২০১৬ সালে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেই পরীক্ষা কেবলই বাহ্যিক, ডিএনএ টেস্ট নয়। সেই বাহ্যিক পরীক্ষার রিপোর্ট হিটলারের মৃত্যুকে সমর্থন করলেও, প্রশ্ন রয়ে যায় তার পদ্ধতি নিয়ে।
অর্থাৎ, মারা গিয়ে থাকলে তবেই হিটলার সরকারিভাবে মৃত। নইলে হুডিনির মত ভ্যানিশ!
তাই এবার ঠিক লিখলাম তো? মারা গিয়ে থাকলে…?
