
৩০টি কেন্দ্র হলেও সবার নজর একটি মাত্র বিধানসভা আসনে
আজ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ৩০টি কেন্দ্র হলেও সবার নজর একটি মাত্র বিধানসভা আসনে—নন্দীগ্রাম। গত দেড় মাস ধরেই জাতীয় রাজনীতির চর্চায় এই কেন্দ্র। কারণ এই আসনে তৃণমূল প্রার্থীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিপক্ষে তৃণমূলত্যাগী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সকাল থেকে কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া গেলেও কোথাও হিংসার লেশমাত্র নেই। তা সত্ত্বেও বেনজিরভাবে গোটা বিধানসভা এলাকা মুড়ে দেওয়া হয়েছে ১৪৪ ধারার ঘেরাটোপে। জারি হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। চলবে ভোটের পরদিন বিকেল পর্যন্ত। নেমেছে ২২ কোম্পানি আধাসেনা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সিআরপিএফের আইজি পি কে সিং স্বয়ং থাকছেন নন্দীগ্রামে। ৩৫৫টি বুথেই ক্যামেরার নজরদারি। চলছে ২৪ ঘণ্টার নাকা চেকিং, তল্লাশি। স্থল এবং জল, দুই পথেই সীমানা সিল করে দেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে হলদিয়া-মহিষাদল ফেরি পারাপার। এই সবের নেপথ্য কারণ, নন্দীগ্রামের প্রত্যেকটি বুথ অতি স্পর্শকাতর।
এটাই এখন নন্দীগ্রামের ছবি। আজ, দ্বিতীয় দফায় মোট চার জেলায় ভোট। এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় চারটি, বাঁকুড়ায় আটটি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ন’টি করে আসনে নির্বাচন রয়েছে। এই ক’টি আসনের জন্য আয়োজন ৮০০ কোম্পানি সেনার! সব মিলিয়ে ভোটার ৭৬ লক্ষ ৭ হাজার ৬৬৭ জন। আর হাই ভোল্টেজ নন্দীগ্রামে ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৯৯৯। নন্দীগ্রাম থানার দায়িত্ব কমিশন দিয়েছে নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠিকে। তিনি এসপি পদমর্যাদার আইপিএস অফিসার। একইভাবে হলদিয়ার দায়িত্বে এসেছেন আর এক আইপিএস, প্রবীণ ত্রিপাঠি। কাশ্মীর থেকে এসেছেন ‘এ-১৯০’ কোম্পানির জওয়ানরা। রাজারাম শিক্ষায়তনে সদর দরজার দিয়ে ঢুকেই শেড দেওয়া বেশ বড় একটা বসার জায়গা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে রয়েছেন জওয়ানরা। লক্ষ্য একটাই—নন্দীগ্রাম। পারদ চড়ছে। প্রতি মুহূর্তে।
ছবি সৌজন্য – মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ)
