গোটা পার্ক জুড়ে ফেলুদা, রাজ্যে এই প্রথমবার

এক্সক্লুসিভ নিউটউন বিএ ব্লকের সোনার কেল্লা উদ্যান

এযাবৎ কালে কলকাতা শহরে থিম পার্ক গড়ে উঠেছে বেশকিছু। কিন্তু বাঙালির সবচেয়ে পছন্দের গোয়েন্দা ফেলুদাকে নিয়ে যে আস্ত একটা থিম পার্ক রয়েছে এই শহরের বুকে, তা কি আপনার জানা ছিল? আজ্ঞে হ্যাঁ, সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট গোয়েন্দা আইকন প্রদোষচন্দ্র মিত্তির, তাঁর শাগরেদ তোপসে এবং জটায়ুর কাণ্ড-কারখানার হরেক ছবি একেবারে জীবন্ত হয়ে উঠেছে দুই মলাটের ভেতর থেকে এই থিম পার্কে। রাজারহাট উপনগরীতে  নিউটউন বিএ ব্লকে নির্মিত ‘সোনার কেল্লা উদ্যান’ ফেলু প্রেমীদের কাছে  যেন সত্যিই বিরাট পাওনা।

নিউটাউন কলকাতা অথরিটি কর্তৃক নির্মিত এই উদ্যান কার্যত শ্রদ্ধার্ঘ্য সত্যজিৎ রায় এবং তাঁর অমর গোয়েন্দা চরিত্রের প্রতি। প্রায় চার একর জমির উপর সজ্জিত এই পার্কে রয়েছে ফেলুদার নানান জানা-অজানা তথ্য। স্বয়ং সত্যজিৎ রায় চিত্রিত ফেলুদার একাধিক গল্পের স্কেচ ফুটে উঠেছে নিউটউন বিএ ব্লকের সোনার কেল্লা উদ্যানের মূল প্রবেশ ফটকটিতে। যার মধ্যে ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’, ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’ উল্লেখযোগ্য।

সুবিশাল এই পার্কটির ভেতর আলাদা করে রয়েছে সুসজ্জিত বসবার ব্যবস্থা, সাইক্লিং-এর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা, হরেক ফোয়ারা  আরও কত কী। তবে এই পার্কের মূল আকর্ষণ অবশ্যই ফেলুদা সিনেমায় কিছু  আইকনিক মুহূর্ত। ‘সোনার কেল্লা’ ছবিতে চলন্ত ট্রেন ধরবার জন্য উঠের পিঠে করে ফেলুদা, লালমোহন বাবুর সেই বিখ্যাত দৃশ্য মনে আছে নিশ্চয় আমাদের সকলেরই।  হ্যাঁ, ফাইবার গ্লাসের মূর্তিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেই বিখ্যাত দৃশ্যের বাস্তবিক রূপায়ণ; উটের পিঠে ফেলুদা ও লালমোহন বাবু। ফেলু প্রেমী এবং সেলফি শিকারিদের জন্য  সত্যিই এই জায়গা চূড়ান্ত আকর্ষণীয়।

পার্কের  মাঝ বরাবর সুদৃশ্য ফোয়ারাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পাঁচিলগুলোতে ফুটে উঠেছে ফেলুদার স্কুল-কলেজ এবং তথ্যসহ সম্পূর্ণ জীবনপঞ্জি।  ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফেলুদা ব্যবহৃত কোল্ট পয়েন্ট থ্রি টু রিভালবার, বাইনোকুলার ইত্যাদি।  অপর একটি দেওয়ালে উল্লেখিত লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুর সেই বিখ্যাত সবুজ অ্যাম্বাসাডার, বুমেরাং, নেপালি কুকুরি, জপযন্ত্র এবং স্মোক বোম্বের ছবি, ফেলুদা ব্যবহৃত মাউন্টারিং বুট, তোপসের রিউবিক পাজেলের ছবি ইত্যাদি।

সত্যজিৎ রায় চিত্রিত ফেলুদা গল্পে ব্যবহৃত নানা স্কেচের পাশাপাশি সত্যজিৎ পরিচালিত দুই ফেলুদা ছায়াছবির সেই বিখ্যাত দৃশ্য, যেমন দশাশ্বমেধ ঘাটে চায়ের কাপ হাতে ফেলুদা, কিংবা ড্রইং রুমে সকলের সঙ্গে আলাপচারিতায় ফেলুদারূপী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; যেখানে ফেলুদা, লালমোহন বাবু ও তোপসে থ্রি মাস্কেটিয়ার্সের সঙ্গে ঘোষাল বাড়ির রুকুবাবুর সামনে ফেলুদার মগজাস্ত্রের উল্লেখ ছিল, তাই-ই নিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পার্কের ভিতরের সেরামিক দেওয়ালগুলিতে। বিদেশে হ্যারি পটার বা মিকি মাউজের নামে থিম পার্কের  কথা আমরা অহরহ শুনে থাকি, কিন্তু আমাদের বাঙালিদের অত্যন্ত প্রিয় ফেলুদাকে নিয়ে থিম পার্ক, তাও আবার খাস কলকাতার উপকণ্ঠে। যদিও কার্যত রয়ে গেছে কিছুটা  অজানাই। আস্তে আস্তে দর্শক সংখ্যা যদিও বাড়ছে। সেলিং লাইক হট কচুরিস-এর মতো এই সোনার কেল্লা উদ্যানের কথা চারিদিকে  ছড়িয়ে পড়ার আগেই একবার ঘুরেই আসুন। প্রতিদিন সকাল ছ’টা থেকে সাড়ে ন’টা এবং বিকেল তিনটে থেকে সন্ধে সাড়ে ছ’টা অবধি খোলা থাকে এই পার্ক। 

Post Tags
Developed by DXDasia