
বইমেলার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯৭৬ সালের কলিকাতা পুস্তকমেলা-ই আজকের আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা। ১৯৮৪ সালে এই বইমেলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে। বারোদিন ধরে প্রতিবছর এই বইমেলা হয়ে ওঠে বইপ্রেমীদের দুর্গাপুজো। ঠিক এই কারণেই কলকাতা বইমেলাকে বলা হয় বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ। কলকাতা বইমেলা এশিয়ার বৃহত্তম বইমেলা।
৪৮তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল আজ অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি, মঙ্গলবার। প্রথা অনুসারে বইমেলার উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ডক্টর ফিলিপ আকারমান, গ্যোটে ইন্সটিটিউট দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তা ডক্টর মার্লা স্টুকেনবের্গ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক আবুল বাশার, পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক সুধাংশুশেখর দে এবং অন্যন্য বিশিষ্ট অতিথিবর্গ। সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গণ-এ অন্যান্য বছরের মতো মেলা শুরু হল, চলবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। উদ্বোধনের মঞ্চে সাহিত্যে জীবনকৃতি সম্মানে ভূষিত হলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল বাশার। উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাস করি। আমরা বাঙালি হলেও অন্যান্য রাজ্যের ভাষা ও সংস্কৃতিকেও সম্মান করি। এখন ডিজিটাল মাধ্যম হাতের নাগালে এলেও বই এখনও মানুষের ফ্রেন্ড ফিলোসফার গাইড। আমরা সকলেই বই ভালোবাসি।”

বইমেলায় থাকছে মোট নয়টি ফটক। গিল্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বইমেলার এই কদিন মিলবে অতিরিক্ত বাস ও মেট্রো পরিষেবা। বইমেলার গেটগুলিতে থাকবে কিউআর কোড, যা স্ক্যান করে পাওয়া যাবে মেলার ডিজিটাল ম্যাপ। তাছাড়া ওয়েবসাইটেও যেকোনো সময় এই ম্যাপ দেখা যাবে।
কলকাতার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই মেলা একটি বিশেষ স্থানের অধিকারী। কলকাতা বইমেলা আন্তর্জাতিক বইমেলা হলেও মেলার সিংহভাগ জুড়ে বাংলা বইয়ের বিক্রিই বেশি হয়। তবে প্রচুর ইংরেজি গ্রন্থ প্রকাশক ও বিক্রেতাও এই মেলায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া হিন্দি, উর্দু, সংস্কৃত ইত্যাদি অন্যান্য ভারতীয় ভাষার বইও এই মেলায় পাওয়া যায়। বিদেশি দূতাবাসগুলিও স্টল বা প্যাভিলিয়ন সাজিয়ে নিজ নিজ দেশে প্রকাশিত বইপত্রের প্রদর্শনী করে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ভারত সরকারের বাংলা প্রকাশনা বিভাগগুলিও এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। ৪৮ বছরে এই প্রথম এবার বইমেলার থিম দেশ জার্মানি।
৪৮তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে ইউকে, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন-সহ বেশ কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশ। ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলির মধ্যে অংশগ্রহণ করছে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র – উপস্থিত হয়েছে তাদের উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা নিয়ে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ৪৮তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় দীর্ঘ ২৮ বছর পর অংশগ্রহণ করেনি বাংলাদেশ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বইমেলায় থাকছে মোট নয়টি ফটক। গিল্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বইমেলার এই কদিন মিলবে অতিরিক্ত বাস ও মেট্রো পরিষেবা। বইমেলার গেটগুলিতে থাকবে কিউআর কোড, যা স্ক্যান করে পাওয়া যাবে মেলার ডিজিটাল ম্যাপ। তাছাড়া ওয়েবসাইটেও যেকোনো সময় এই ম্যাপ দেখা যাবে। মেলার মাঠের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে বসেছে সিসিটিভি। আলাদাভাবে বিশেষ পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে।
গিল্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কলকাতা বইমেলা দর্শনার্থীদের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম। ২০২৪ সালের বইমেলায় প্রায় ২৭ লক্ষ বইয়ের সম্ভারে বিক্রির মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ কোটি।
