চিনার পার্কের মন ভালো করা তন্দুরি চা

জ্বলন্ত হাঁড়িতে বানানো স্পেশাল চায়ের গল্প

হোলির বিকেলটা খুব বোরিং। দোকানপাট বন্ধ থাকে, রাস্তাঘাটও যেন ঝিমোয়। সারাদিন এমনিই রং না মাখার বাহানায় নিজেদের গৃহবন্দি রেখেছিলাম। সন্ধে নামতে আর পোষাল না। কোথায় যাব না ভেবেই গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। চিনার পার্কের দিকে গেলাম। যাওয়া আসার পথে চিনার পার্কের মুখের একটা চায়ের দোকানে খুব ভিড়। পৌঁছে দেখি দোলের বাজারও বেশ জমজমাট। সামনাসামনি গিয়ে বুঝলাম কী কেস! এ যে সে চা নয়, তন্দুরি চা। গনগনে লাল হাঁড়িতে গরম চা দিয়ে টগবগ করে ফুটিয়ে নাড়িয়ে-চাড়িয়ে সামনে সাজানো ভাঁড়ে দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর কেশর আর চকোলেট গুঁড়ো ছড়িয়ে পরিবেশন। বেশ মজা পেয়ে গেলাম বানানোর স্টাইল দেখে। যিনি টপাটপ এই স্পেশাল চা-টি বানিয়ে যাচ্ছেন সেই আকিব মন্ডলের সঙ্গে কথা বলে জানলাম এটি টার্কির চা। কিন্তু গুগলের স্মরণাপন্ন হয়ে জেনেছি, এই তন্দুরি চা আমাদের দেশেই পুনের বাসিন্দা বিজ্ঞানের স্নাতক অমল দিলীপ রাজদেও’র মস্তিষ্ক প্রসূত। পুনেতে 'চায় লা' বলে তন্দুরি টি শপ-ও আছে তাঁর। মুম্বাই-পুনে’তে তন্দুরি চা-এর বেশ রমরমা।

  
   কলকাতার এই তন্দুর টি শপে চা বানানোর পদ্ধতি-টা মোটামুটি এরকম – প্রথমে দুধ, খোয়া, মাখন, কিছু 'সিক্রেট স্পাইস' দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে চা-এর দুধ তৈরি হয়। তারপর সেই দুধে চা বানিয়ে রাখা হয়। সেই চা-কে তন্দুর করার জন্য মাটির হাঁড়ির মতো কাপ উনুনে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে নেওয়া হয় টকটকে লাল করে। তারপর পিতলের প্রদীপের মতো বিশেষ পাত্রের মাঝখানে মটকা কাপ রেখে চায়ের পাত্র থেকে চা ঢালা হয় তাতে। সেই চা গনগনে গরম পাত্রে তারপর টগবগ করে ফুটে ওঠে। সেটাকে নাড়াচাড়া করে ঢেলে দেওয়া হয় অন্য এক মটকায়। এরপর ওপরে কেশর আর অল্প চকোলেটের গুঁড়ো ছড়িয়ে দেওয়া হয়।  

আমাদের চা রেডি হলে হাতে নিয়ে গরম সামলে চুমুক দিলাম। চা হিসেবে ভালোই, সাধারণ চায়ের থেকে গন্ধটা খানিক আলাদা, কেশর আর চকোলেট থাকায় অন্যরকম ফ্লেভার এসেছে, তবে মিষ্টিটা একটু বেশির দিকে। তন্দুরের পোড়া স্বাদ আলাদাভাবে আমি বুঝিনি। প্রতিদিন বিকেল ঠেকে সারারাত খোলা থাকে এই দোকান। তন্দুরি চায়ের দাম ৩০ টাকা প্রতি কাপ। সাধারণ দুধ চা-ও পাওয়া যায়। দোকানটা একদম চিনার পার্ক ক্রসিং-এর মুখেই। ছোট্ট দোকান, সামনে চা হচ্ছে, ভিতরে ছোট্ট ঘরে বসার ব্যবস্থা আছে। সামনে একটা গোল টেবিলও রয়েছে। ব্যানারে লেখা ‘তন্দুরি চায় অ্যান্ড স্ন্যাকস’। দোলের দিন যাওয়াতে স্ন্যাকস পাইনি। তবে রেডি টু ইট ফ্রাই, কাবাব, পকৌড়া এসব পাওয়া যায় বলেই শুনলাম। টা- টা টেস্ট না করা গেলেও চা-টার জন্য রেকমেন্ড করাই যায় এই টি স্টলকে।   

তথ্য সহায়তা : অদিতি লাহা।    

Post Tags
Developed by DXDasia