
চাইলে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল চাষ সম্ভব জলজ উদ্ভিদ শোলার
পুজো আসতে বাকি দেড় মাসেরও কম। পুজোর সময়ে নানা মণ্ডপে প্রচুর পরিমাণ থার্মোকলের ব্যবহার দেখা যায়। পুজোয় মণ্ডপসজ্জার জন্য থার্মোকলের ব্যবহার বন্ধ করার ডাক দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। ‘মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতি’র প্রধান মুখ জয়িতা কুণ্ডু বলছিলেন, থার্মোকলের ভিতরে থাকে পলিস্টাইরিন নামক বিষ। এই বিষ পরিবেশের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। থার্মোকল মাটিতে মেশে না, পুড়িয়ে দিলে অত্যন্ত বিষাক্ত ধোঁয়ার জন্ম দেয়। থার্মোকলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ার ফলে থার্মোকলের বর্জ্য এসে মিশছে নদী-নালা-খাল-বিল-নর্দমাতেও। সমস্তটা মিলিয়ে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে মারাত্মক। অথচ, সচেতনতার অভাবে থার্মোকলের ব্যবহারও বেড়েই চলেছে।
কিন্তু থার্মোকলের বিকল্প কী? জয়িতা কুণ্ডু জানাচ্ছেন, জলজ উদ্ভিদ শোলা সহজেই থার্মোকলের বদলি হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের জলাভূমিতে প্রচুর পরিমাণে শোলা চাষও করা যায়। “এখনো পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় শোলা-শিল্পীরা রয়েছেন। শুধু বিয়ের টোপর আর পুজোর ছোটো ছোটো উপকরণ ছাড়া শোলার ব্যবহার এখন চোখেই পড়ে না। ডাকের সাজও বিলুপ্তির পথে। অথচ, ক্ষতিকর থার্মোকলের বদলে শোলা ব্যবহার করলে পরিবেশ ও এই শিল্পীদের জীবিকা দুই-ই বাঁচে।”—বলছিলেন জয়িতা। শোলাশিল্পকে পুনরুজ্জীবন দিলে শুধু পরিবেশের নয়, লাভ এই শোলা-শিল্পীদেরও। তবে এই কাজে সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন, বলছেন জয়িতা।
