বিদ্যাসাগর সেতুর যানজট কমাতে নয়া পদক্ষেপ, চালু হচ্ছে বিশেষ রো-রো ফেরি

কলকাতা বন্দর থেকে শালিমার এবং সাঁখরাইল পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের বিকল্প পরিষেবা

ন্দর এলাকায় যানজট এড়াতে এবং বিদ্যাসাগর সেতুর (Vidyasagar Bridge) ওপর চাপ কমাতে শালিমার (Shalimar) এবং সাঁখরাইল (Sankhrail) থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর (Shyamaprasad Mukherjee Port) পর্যন্ত বিশেষ মালবাহী সার্ভিস চালু করতে চলেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। “বিশেষ রো-রো ফেরিটি সরাসরি বড়ো জাহাজে পণ্যবাহী ট্রাক লোড করতে ব্যবহার করা হবে। গন্তব্যে পৌঁছে পণ্যবাহী যানটি আবার জাহাজ থেকে নামানো যাবে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবহন খরচ অনেক কমিয়ে দেবে,” বলেছেন বন্দরের চেয়ারম্যান, বিনিত কুমার (Binit Kumar)।

জানা যাচ্ছে এই নয়া রো-রো ফেরি পরিষেবা চালু করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে বেলজিয়াম (Belgium)। এছাড়াও এই সপ্তাহেই বিশেষজ্ঞদের একটি সরকারী দলের কলকাতায় আসার কথাও রয়েছে।

রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরে, বিদ্যাসাগর সেতু এবং হাওড়া সেতু উভয়ের উপর চাপ কমাতে রো-রো ফেরিগুলিকে (Ro-Ro ferries) চালু করার কথা ভাবা হয়েছে। এই পরিষেবায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর (কলকাতা বন্দর) থেকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলি হুগলি নদী পেরিয়ে সরাসরি শালিমার এবং সাঁখরাইল পৌঁছাবে৷ একবারে একটি জাহাজ একসঙ্গে সর্বাধিক আটটি ট্রাক বহন করতে পারবে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই চাপ কমবে স্থলপথে এবং যানজটও অনেকটাই কমবে। শালিমার অঞ্চলে কলকাতা বন্দর (Kolkata Port) কর্তৃপক্ষের মালিকানায় একটি বিশাল প্লট রয়েছে, পাশাপাশি একটি জেটিও রয়েছে৷ তার ওপর ইতিমধ্যেই শালিমারে একটি সুবিশাল ট্রাক টার্মিনাসও চালু রয়েছে৷ এমনকি পাশেই রয়েছে শালিমার রেলওয়ে স্টেশন, ফলে সহজেই যাতায়াত করা যায়। জানা যাচ্ছে এই নয়া রো-রো ফেরি পরিষেবা চালু করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে বেলজিয়াম (Belgium)। এছাড়াও এই সপ্তাহেই বিশেষজ্ঞদের একটি সরকারী দলের কলকাতায় আসার কথাও রয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে বলা হয়েছে, নতুন ফেরি পরিষেবা (ferry service) বাস্তবায়নে বন্দরকে সবরকমভাবে তারা সাহায্য করবে।

কলকাতা বন্দরের দুটি ডক, খিদিরপুর ডক (Khidderpore) এবং নেতাজি সুভাষ ডক (Netaji Subhash dock)। এই দুটি জায়গা থেকেই প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী লরি চলাচল করে। কন্টেইনার বহন করার জন্য প্রচুর সংখ্যক বিশাল ট্রেলারও ব্যবহার করা হয়। ফলস্বরূপ, বন্দর এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময়ে বিশাল পরিমাণ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, শহরের প্রধান সড়ক, বিশেষ করে বিদ্যাসাগর সেতু ব্যবহার ওপর দিয়ে রাতের বেলা বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক সারিবদ্ধভাবে চলাচল করায় অন্যান্য যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থাকে। বর্তমানে বিদ্যাসাগর সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে গঙ্গা (Ganga) বক্ষে একটি টানেল নির্মাণের, যার মাধ্যমে ভারী পণ্যবাহী লরিগুলি আলাদাভাবে যাতায়াত করতে পারবে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, বন্দর কর্তৃপক্ষ যানজট এড়াতে হুগলি নদীবক্ষে রো-রো পরিষেবা চালু করছে। ঝামেলামুক্ত পরিষেবা অপরদিকে লাভজনক পরিবহণের জন্য এই পরিষেবাই হয়ে উঠতে চলছে বিকল্প মাধ্যম।

প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন

Post Tags
Developed by DXDasia