
পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্যস্থল শুশুনিয়া পাহাড়
শুশুনিয়া পাহাড়ের পুনঃসবুজায়নের জন্য রাজ্য বনদপ্তরের তরফ থেকে ছড়ানো হয়েছে সিড বম্ব
পশ্চিমবঙ্গের পাহাড় সবুজে ঘেরা। প্রতিটি পাহাড়ই পর্যটকদের অত্যন্ত প্রিয় গন্তব্যস্থল- ট্রেকিং কিংবা সপ্তাহান্তে ছুটি কাটাবার জন্য। তেমনই একটি পাহাড় হলো শুশুনিয়া পাহাড়। এটি বাঁকুড়া জেলার উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত, পূর্বঘাট পর্বতমালার অংশ। লাল মাটি আর সবুজের প্রাচুর্যের ল্যান্ডস্কেপে ভরা শুশুনিয়া পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১২০০ ফুট। পাহাড়টি তার প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে প্রচুর পাখি দেখা যায়, যেমন- এশিয়ান প্যারাডাইজ ফ্লাইক্যাচার, ইন্ডিয়ান পিট্টা ইত্যাদি। রঙিন প্রজাপতি, যেমন- গোল্ডেন অ্যাঞ্জেল, তাওনি রাজা, স্পটেড সোর্ডটেইল প্রভৃতি, উড়ে বেড়ায় চারিদিকে। নেচার ফটোগ্রাফার বা প্রকৃতি-চিত্রগ্রাহকদের জন্য এই স্থান স্বর্গসম, বিশেষ করে বসন্তকালে। এই স্থান ভেষজ উদ্ভিদ-এর ভাণ্ডার। তাছাড়া, ক্যাম্পিং এবং রক ক্লাইম্বিং-এর জন্যও উপযোগী।
সিড বম্ব
কিন্তু সাম্প্রতিককালে, গাছ কাটা এবং অরণ্য ধ্বংসের কারণে শুশুনিয়া পাহাড়ে সবুজের পরিমাণ আগের থেকে অনেক কমে গেছে। শুশুনিয়া পাহাড়ের একটি অংশ, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে উঠেছে, যেখানে আর নতুন গাছ জন্মায় না। একসময় এই স্থান পাথর খোদাইয়ের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলো। এখান থেকে বিভিন্ন হস্তশিল্পের জন্য প্রায়শই পাথর সংগ্রহ করা হতো, ফলে এখানে বড়ো বড়ো গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। চারিদিকে পাথর ছড়িয়ে থাকার জন্য এখানে আর গাছ জন্মাতে পারে না। এই এলাকা থেকে পাথর সংগ্রহ করা এখন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও জায়গাটি বন্ধ্যা রয়ে গেছে। জায়গাটিতে প্রচুর হাতি রয়েছে। তাই বীজ বপণ করে এখানে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, হাতিরা বীজ বা চারাগাছগুলিকে পিষে নষ্ট করে দেয়।
তাই বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বনদপ্তর এলাকাটির সবুজায়নের জন্য একটি ভিন্ন পন্থা নিয়েছে। তাদের এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনাটি হলো- যেসব অঞ্চল বিগত ২০ বছর ধরে অনুর্বর রয়ে গেছে, সেখানে সিড বম্ব (Seed Bomb) ফেলা। সিড বম্বগুলি মাটির সঙ্গে ইউরিয়া আর সার মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বম্বগুলির ভিতরে বাবলা, আকাশমণি, সুবাবুল গাছের বীজ রক্ষিত রয়েছে। নতুন করে বনাঞ্চল সৃষ্টির জন্য এটি একটি সস্তা এবং কার্যকরী পদ্ধতি।

তাই বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বনদপ্তর এলাকাটির সবুজায়নের জন্য একটি ভিন্ন পন্থা নিয়েছে। তাদের এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনাটি হলো- যেসব অঞ্চল বিগত ২০ বছর ধরে অনুর্বর রয়ে গেছে, সেখানে সিড বম্ব (Seed Bomb) ফেলা। সিড বম্বগুলি মাটির সঙ্গে ইউরিয়া আর সার মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বম্বগুলির ভিতরে বাবলা, আকাশমণি, সুবাবুল গাছের বীজ রক্ষিত রয়েছে। নতুন করে বনাঞ্চল সৃষ্টির জন্য এটি একটি সস্তা এবং কার্যকরী পদ্ধতি। বাঁকুড়ার উত্তর ডিভিশনের ছাতনা রেঞ্জের বনকর্মীরা, সম্প্রতি পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ১০ ব্যাগ সিড বম্ব ছড়িয়ে দিয়েছেন। কীভাবে ২০০টি সিড বম্ব ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাকে সফল ভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তা সংবাদমাধ্যমের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন ছাতনার ফরেস্ট রেঞ্জার এষা বোস (Esha Bose)। বাঁকুড়া (উত্তর) ডিভিশনের ডিএফও উমর ইমাম (Umar Imam) আমাদের জানিয়েছেন যে, যেখানে ১ হেক্টর জমিতে চারাগাছ রোপণ করতে খরচ হয় প্রায় ১ লক্ষ টাকা, সেখানে সিড বম্বিং-এর খরচ পড়ে তার দশভাগের মাত্র একভাগ। প্রায় ২ হেক্টর জমিতে সিড বম্বিং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা একটি পাইলট প্রজেক্টের অন্তর্গত।

পুনঃসবুজায়নের এই পরিকল্পনাটি সফল হলে, পরের ধাপে ২৫ হেক্টর অনুর্বর জমিতে এই পন্থা নেওয়া হবে, যেখান থেকে আগে অবৈধ ভাবে পাথর সংগ্রহ করা হতো। বিভিন্ন কারণে, পাথুরে জমিতে উদ্ভিদের জন্ম দেওয়া খুবই কঠিন কাজ। যেমন- মাটির গভীরতা, পাথুরে জমিতে মাটির নীচে জলের দুষ্প্রাপ্যতা, জল ও বায়ুপ্রবাহের কারণে ক্রমাগত ভূমিক্ষয়, জমিতে জৈব বস্তুর অপ্রতুলতা, রুক্ষ ও শুষ্ক আবহাওয়া ইত্যাদি। এই সিড বম্বগুলি ছাতনা রেঞ্জ ফরেস্ট নার্সারি-তে তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে স্থানীয় গাছ, যেমন- বেল, পলাশ, কেন্দু গাছের বীজ, এই সিড বম্বগুলিতে রক্ষিত করা হবে। আশা করা যায়, এই অনন্য উদ্যোগের ফলে অঞ্চলে আবার দেখা যাবে সবুজের ঘনঘটা।
_______
মূল লেখাটি ইংরেজিতে পড়লে হলে ।
