
নব্বই ছুঁলেন বাংলা গানের ‘চিরকিশোর’
অভিনয় খুব একটা পছন্দ ছিল না কিশোর কুমারের। তিনি গাইতে জানতেন। কিন্তু প্রথাগত কোনো গানের শিক্ষা ছিল না। প্রাথমিক অবস্থায় সঙ্গীতশিল্পী কুন্দন লাল সায়গলের গলা হুবহু নকল করে গাইতেন। কিন্তু সেই নকল করা পছন্দ করতেন না কেউই। এরপর শচীন দেব বর্মনের নজরে আসেন কিশোর। তাঁরই পরামর্শে পাল্টে ফেলেন গাইবার কায়দা। সেই সময়ের প্রধান দুই ‘স্টার’ গায়ক মহম্মদ রফি এবং মুকেশের থেকে পুরো আলাদা হয়ে উঠল কিশোর কুমারের কণ্ঠ।
পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে একজন প্রতিষ্ঠিত ‘কমেডি’ নায়ক হিসাবে জনপ্রিয় হলেন কিশোর কুমার। কেরিয়ারের শুরুতে ইতিমধ্যেই আসল নাম আভাস কুমার গাঙ্গুলি বদলে কিশোর কুমার হয়ে গেছেন তিনি। শুধুমাত্র গান নয়, অভিনয়েও কিন্তু মাত করে রাখতেন দর্শককে। তাঁর অভিনয়ের কায়দা ছিল অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেই সময়ের প্রবল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতাশালী তিন নায়ক – রাজ কাপুর, দেবানন্দ এবং দিলীপ কুমার বলিউড শাসন করা সত্ত্বেও কিশোর কুমার নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেছিলেন পৃথকভাবে।

কিন্তু এতদ্সত্ত্বেও কিশোর কুমার একজন আদ্যপ্রান্ত গায়ক। কী নেই সেইসব গানে! কখনও বিষাদের গভীরে ডুবে যাওয়া আছে, কখনওবা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সংমিশ্রণ। কখনও আবার শুধুমাত্র আইটেম সং। সব ধরনের গানেই তাঁর অনায়াস যাতায়াত। প্রেমে, বিরহে, উৎসবে, শোকে- সবেতেই বিরাজমান এক নাবিক, তিনি চিরকিশোর। আজ তিনি ৯০ বছর পূর্ণ করে ৯১-এ পা রাখলেন। শারীরিকভাবে তিনি এখন নেই ঠিকই, তবে এখনও তাঁর গানে শরীর দোলান প্রবীণ থেকে নবীনের দল। আজ কলকাতার নজরুল মঞ্চে শিল্পীর জন্মদিন পালন করবে মুম্বাই-বাংলার সঙ্গীত জগৎ। অনুষ্ঠানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘তোমায় পড়েছে মনে’। উপস্থিত থাকবেন কিশোর কুমারের দুই ছেলে অমিত কুমার এবং সুমিত কুমার। থাকবেন স্ত্রী লীনা চন্দ্রভারকর। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, গৌতম ঘোষ-সহ একাধিক শিল্পী। আর এই অনুষ্ঠান হাউসফুল করবেন এই প্রজন্মের অসংখ্য তরুণ শিল্পী।
জন্মদিনে প্রথিতযশা শিল্পী কিশোর কুমারকে বঙ্গদর্শনের শ্রদ্ধার্ঘ্য।
