
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে অরিজিৎ তৈরি করছেন তাঁর স্বপ্নের স্কুল
অরিজিৎ সিং-এর সঙ্গে রোহিত রায়
আসমুদ্র হিমাচল ভারতকে গানের জাদুতে বশ করেছেন বাঙালি গায়ক অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। যাঁর গানের অনুষ্ঠানে টিকিটের জন্য শ্রোতাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। সেই অরিজিৎ সিং মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ-এ তৈরি করছেন তাঁর স্বপ্নের স্কুল। অতীতে তিনি গানের শো-র মঞ্চ থেকেই বার্তা দিয়েছিলেন, “একটি স্ব-পরিচালিত বিদ্যালয় তৈরি করতে চাই। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে ১০০ কোটির প্রয়োজন। আমি সেই অর্থ জোগাড় করার চেষ্টা করছি। কিন্তু, এই কাজ একা করতে পারব না। আপনাদের প্রয়োজন। আমার টাকা চাই না, শুধু আপনাদের সঙ্গ চাই। আপনারা পাশে থাকুন।”
বোঝাই যাচ্ছে যে এই স্কুল ‘বিশেষ’ তো বটেই। সেই স্কুলের পড়ুয়ারা যে পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতের তালিমও পাবেন, এটা বলাই বাহুল্য। সম্প্রতি অরিজিৎ তাঁর স্কুলের জন্য বেছে নিয়েছেন সংগীতের শিক্ষক। কে এই শিক্ষক? কেনই বা তাঁর ডাক এল অরিজিৎ সিং-এর কাছ থেকে?

টালিগঞ্জের রোহিত রায় স্ট্রিং মিউজিকের এগারো রকম বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন
টালিগঞ্জের রোহিত রায় (Rohit Roy) স্ট্রিং মিউজিকের এগারো রকম বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন। অনেকেই জানেন স্ট্রিং মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্ট বলতে এমন কিছু বাদ্যযন্ত্রকে বোঝায় যেগুলিতে এক বা একাধিক টানটান করা তার থাকে, যেগুলিকে ব্যবহার করে সুর সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরেই রোহিত স্ট্রিং মিউজিকের চর্চা করেছেন। শৈশবে বাজাতেন তবলা। এবার তিনিই ডাক পেয়েছেন অরিজিৎ সিং-এর কাছ থেকে। বহরমপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন রোহিত। তারপর সেখান থেকে সোজা অরিজিৎ সিং-এর বাড়িতে। আগামী দিনে সংগীতের শিক্ষক হয়ে তিনিই পৌঁছে যাবেন অরিজিৎ সিংয়ের স্কুল-এর খুদে শিক্ষার্থীদের কাছে। বঙ্গদর্শন.কম-এর মুখোমুখি হয়ে বছর চব্বিশের তরুণ রোহিত ভাগ করে নিলেন সংগীতের দুনিয়ায় নিজের পথ চলার অভিজ্ঞতা।
প্রশ্ন: লোকবাদ্য হারিয়ে যাচ্ছে। যেখানে আপনি এগারো রকম বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন, শুনেছি তার বেশিরভাগই ফোক ইন্সট্রুমেন্ট। আপনার অভিজ্ঞতা কী?
রোহিত: দোতারা, ব্যাঞ্জ, ম্যান্ডোলিন, রাবাব এরকম এগারোটি ফোক ইনস্ট্রুমেন্ট আমি বাজাই। প্রত্যেকটিই কোনো না কোনো দেশের ট্রাডিশনাল ইনস্ট্রুমেন্ট। যেমন, আমাদের দেশের দোতারা আবার মধ্য প্রাচ্যের রাবাব, তুরস্কের সাজ। রাবাবের আগে ব্যবহার ছিল। এখন তেমন ব্যবহার নেই। সেই সব হারিয়ে যেতে বসা যন্ত্রগুলোই আমি বাজাই।
প্রশ্ন: নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এই এতগুলো বাদ্যের যন্ত্রশিল্পী হওয়ার লড়াই কতটা কঠিন ছিল?
রোহিত: আমি গিটার আর ম্যান্ডোলিন বাজাতে শিখেছি। গিটার হল স্ট্রিং মিউজিকের মাদার ইনস্ট্রুমেন্ট। তাই গিটার বাজাতে শিখলে বাকি বাদ্যযন্ত্র বাজানো সহজ হয়ে যায়। বাকিগুলো নিজেই বাজাই। তেমন প্রথাগত শিক্ষা নেই। ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের গুণী মানুষদের বাজানো দেখে শিখেছি এবং এখনও শিখি।
প্রশ্ন: কবে থেকে অরিজিৎ সিং-এর স্কুলে ক্লাস করতে শুরু করবেন?
রোহিত: এটা একটা বড়ো প্রজেক্ট। এখনও কাজ শেষ হয়নি। এই বছর থেকেই স্কুল শুরু হবে, আশা করি। অগাস্ট থেকে ক্লাস শুরু হতে পারে। অরিজিৎ সিং একজন ব্যস্ত মানুষ। উনি চান, ওঁর স্কুলের পড়ুয়ারা লোক বাদ্যযন্ত্র শিখুক। তাই আমাকে বলেছেন।
প্রশ্ন: অরিজিৎ সিং-এর স্কুলে সংগীতের শিক্ষক হওয়ার জন্য বাড়তি কী প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
রোহিত: যন্ত্র নিজে বাজানো আর কাউকে শেখানো, দুটোর মধ্যে অনেক ফারাক। আমি নিজে বাজাতে পারলেও কাউকে শেখাতে গেলে আমাকে অনেকটা জানতে হবে। পড়ুয়াদের কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে উত্তর দিতে হবে। অর্থাৎ আমাকে অনেক ভালো জানতে হবে। তাই আরও বিশদে বিষয়গুলি জানতে চেষ্টা করছি।
টালিগঞ্জের রোহিত রায় (Rohit Roy) স্ট্রিং মিউজিকের এগারো রকম বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন। অনেকেই জানেন স্ট্রিং মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্ট বলতে এমন কিছু বাদ্যযন্ত্রকে বোঝায় যেগুলিতে এক বা একাধিক টানটান করা তার থাকে, যেগুলিকে ব্যবহার করে সুর সৃষ্টি হয়।

২০১৭ থেকে গানের রিয়েলিটি শো সারেগামাপা-তে নিয়মিত বাজান তিনি
প্রশ্ন: আপনার সাফল্যের কিছু অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন আমাদের পাঠকদের সঙ্গে।
রোহিত: কলকাতায় বহু অনুষ্ঠানে বাজিয়েছি। এরপর জি বাংলা থেকে ফোন আসে। ২০১৭ থেকে গানের রিয়েলিটি শো সারেগামাপা-তে নিয়মিত বাজাই। এখানে বাজানোর অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল। ২০২২ সালে আমেরিকাতে গিয়েছি বাজানোর জন্য। তারপর আমার ছোটোবেলার স্কুলে আমাকে ডাকা হয়েছে, সেখানেও পারফর্ম করেছি। এতেও খুব আনন্দ পেয়েছি। আর এবার অরিজিৎ সিং নিজে তাঁর স্কুলে শিক্ষক হওয়ার আহ্বান জানালেন, এটাও ভালো লেগেছে। মানুষ আমার বাজনা পছন্দ করছে, এটাই আমার সবচেয়ে বড়ো সাফল্য।
প্রশ্ন: আপনার এই ব্যস্ততা লোকবাদ্য বাজানোয় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দেবে। তাদের জন্য কী বার্তা দেবেন?
রোহিত: প্র্যাকটিস ছাড়া এই পেশায় উন্নতি নেই। সঠিক শিখে চর্চা করলে সাফল্য আসবেই। আমি চাই এই লোকবাদ্য যন্ত্রগুলো মানুষ শিখুক। লোকবাদ্য যন্ত্রের পরিচিতি ও প্রসার ঘটুক। সেটা আমাদেরই দায়িত্ব।
