আলিপুর চিড়িয়াখানায় এবার হেরিটেজ ক্যাফে এবং চারাগাছ বিপণী কেন্দ্র

পুনর্নির্মাণের সময় পুরোনো কাঠামোটিকে অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে

শহর কলকাতা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসামান্য সব আকর্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম হল আলিপুর চিড়িয়াখানা। ভারত তথা এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ আলিপুর চিড়িয়াখানাটি তৈরি হয়েছিল ১৮৭৫ সালে। বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় ছাড়াও বাইরের দেশগুলি থেকে নিয়ে আসা নানাবিধ পশুপাখির সমাগম হয়েছে চিড়িয়াখানাটিতে। ৪৬ একরেরও খানিকটা বেশি এলাকা জুড়ে চিড়িয়াখানাটির বিস্তার। 

সম্প্রতি এই জুলজিক্যাল পার্কটিকে দর্শনার্থীদের কাছে আরও বেশি মনোরঞ্জক করে তুলতে চিড়িয়াখানা চত্বরের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে একটি হেরিটেজ ক্যাফে। ডব্লুবিএফডিসি (West Bengal Forest Development Corporation)-এর উপর রয়েছে অল্প কিছুদিন আগে উদ্বোধন হওয়া এই ক্যাফে পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। এটির পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে মাথায় রাখা হয়েছে, পুরোনো কাঠামোটিকে যেন যতখানি সম্ভব অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।

ডব্লুবিএফডিসি-র উপর রয়েছে অল্প কিছুদিন আগে উদ্বোধন হওয়া এই ক্যাফে পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। এটির পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে মাথায় রাখা হয়েছে, পুরোনো কাঠামোটিকে যেন যতখানি সম্ভব অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।

এতদিন অবধি এখানে ঘুরতে আসা দর্শকেরা নিজেদের সঙ্গে করে খাবার নিয়ে আসতেন। সারাদিন ঘুরবার ফাঁকে চিড়িয়াখানা চত্বরের ঘাসজমিতে বসেই জমে উঠতো পিকনিকের আসর। তবে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে। দর্শকদের অসচেতনতার ফলে খাবারের প্যাকেট ও প্লাস্টিকের বোতল ইতস্তত পড়ে থেকে অবর্জনাময় করে তুলেছিল চত্বরটিকে। যে পরিবেশবান্ধব প্রকৃতি নির্মাণের আদর্শ নিয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এতবছর ধরে এগিয়ে চলেছে, এই ঘটনা তার পরিপন্থী।

হেরিটেজ ক্যাফের প্রস্তুতি পর্ব

তাছাড়া, দূর থেকে আসা অনেক দর্শকের পক্ষেই সঙ্গে করে খাবার নিয়ে আসা সম্ভব হতো না। তাঁদের জন্য চিড়িয়াখানা চত্বরের এক কোণে চিপস, মোমো, বার্গার কিংবা কেকের মতো হালকা খাবার পাওয়া গেলেও, পেট ভরানো খাবারের তেমন কোনো বন্দোবস্ত ছিল না।

আলিপুর চিড়িয়াখানার হেরিটেজ ক্যাফেটি এই সমস্যার সমাধান করবে বলে বিশ্বাস রাখছে কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় খাবারের পাশাপাশি এখানে পাওয়া যাবে চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল খাবারও। একদিকে যেমন এর ফলে খাবারের প্যাকেট যত্রতত্র ফেলবার ঘটনায় খানিকটা রাশ টানা যাবে, তেমনই অন্যদিকে সারাদিনের ক্লান্তির পর খানিকক্ষণ বিশ্রাম করবার জায়গা জুটে যাবে দর্শকদের। ভবিষ্যতে যাতে চিড়িয়াখানা চত্বরের মধ্যে এমন আরও রেস্তোরাঁ তৈরি করা যায়, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ডব্লুবিএফডিসি।

 

 

চারাগাছ বিপণী কেন্দ্র

এরই পাশাপাশি, ডব্লুবিএফডিসি–র উদ্যোগে আলিপুর চিড়িয়াখানা চত্বরের মধ্যে উদ্বোধন করা হয় একটি চারাগাছ বিক্রির কাউন্টারের। চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা নানাবিধ গাছের চারা কিনতে পারবেন এই কাউন্টারটি থেকে। চিড়িয়াখানা চত্বরের মধ্যে গাছ বিক্রির কাউন্টারের ঘটনা এর আগে কখনও শোনা যায়নি তেমনভাবে। ডব্লুবিএফডিসি-র অন্তর্গত ‘গ্রিন প্রোজেক্ট উইং’-এর কার্যকলাপের অংশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলো কাউন্টারটি। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই অভিনব পদক্ষেপ দুটি কলকাতা এবং আশেপাশের মানুষদের এই সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চিড়িয়াখানাটির প্রতি নতুন করে আগ্রহী করে তুলবে।

____

ছবি সৌজন্যে: রাজ্য বনবিভাগ

Post Tags
Developed by DXDasia