কোরিয়ান মার্শাল আর্টে নজির গড়ছেন উত্তরবঙ্গের পিনাকী নারায়ণ মৈত্র

কোরিয়ার ওয়ার্ল্ড তায়কোয়ান্দো চ্যাংমুকানের ভারতীয় শাখার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন পিনাকী

রোনা পর্বে বিগত দু’বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তায়কোয়ান্দো (Taekwondo) খেলার মাধ্যমে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন শিলিগুড়ি দেশবন্ধু পাড়া নিবাসী তরুণ ডাঃ পিনাকী নারায়ণ মৈত্র (Pinaki Narayan Maitra)। আমেরিকা থেকে ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, বাংলাদেশ-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের দেশ নিয়ে বিগত দু’বছরে শিলিগুড়ি (Siliguri) থেকে মোট ৮৫টি অনলাইন বিশ্ব তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন ডাঃ পিনাকী। তার মধ্যে ৬০টি প্রতিযোগিতায় সাফল্য এসেছে তাঁর।

কোথাও জিতেছেন সোনা, কোথাও রুপা অথবা ব্রোঞ্জ। এমনকি রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) শুরু হওয়ার আগে ইউক্রেন তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন থেকেও শংসাপত্র পেয়েছেন তিনি। সর্বশেষ বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা থেকেও পদক পেয়েছেন। বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতিতে যখন তায়কোয়ান্দোর মতো প্রতিযোগিতা বন্ধ হতে বসেছিল, তখন অনলাইনে দফায় দফায় পুমসে তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তায়কোয়ান্দোর একটি শিল্পসম্মত বা আর্টিস্টিক ফর্ম হলো পুমসে। এটি একটি কোরিয়ান মার্শাল আর্ট (Korean Martial Arts)। যে কোনো বয়সের ছেলেমেয়েরা এতে অংশ নিতে পারে। অনলাইন তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা শুরু হতেই কার্যত সব প্রতিযোগিতাতেই অংশ নেন ডাঃ পিনাকী নারায়ণ মৈত্র।

শিলিগুড়ি দেশবন্ধু পাড়া নিবাসী তরুণ ডাঃ পিনাকী নারায়ণ মৈত্র

কোরিয়ার ওয়ার্ল্ড তায়কোয়ান্দো চ্যাংমুকান হলো প্রাচীন একটি স্কুল। সেই স্কুলের ভারতীয় শাখার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন পিনাকী। ভবিষ্যতে তাঁর একটি তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণের স্কুল খোলার ইচ্ছে রয়েছে। 

তায়কোয়ান্দোর একটি শিল্পসম্মত বা আর্টিস্টিক ফর্ম হলো পুমসে। এটি একটি কোরিয়ান মার্শাল আর্ট। যে কোনো বয়সের ছেলেমেয়েরা এতে অংশ নিতে পারে। অনলাইন তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা শুরু হতেই কার্যত সব প্রতিযোগিতাতেই অংশ নেন ডাঃ পিনাকী নারায়ণ মৈত্র।

পিনাকীর বাবা পার্থ মৈত্র অবসরপ্রাপ্ত আদালত কর্মী। তাঁর বাবা ছোটো থেকেই ব্রুসলি এবং মারাদোনার ভক্ত। বাবার কাছে শুনেছেন ব্রুসলির কথা। স্কুলে পড়ার সময় স্কুলেই ক্রিকেট বা ফুটবল খেলার জন্য সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাননি। এরপর তায়কোয়ান্দোর প্রতি তাঁর উৎসাহ বৃদ্ধি পায়। প্রথমে অমিত দেবনাথের কাছে তা শেখা, তারপর গ্র্যান্ডমাস্টার তায়কোয়ান্দো অলিম্পিক জয়ী বিধান লামার কাছে তা শেখা। পিনাকী বলেন, “নিজের আত্মরক্ষার জন্য এখন বিভিন্ন মহলে জনপ্রিয়তা বাড়ছে তায়কোয়ান্দোর। মেয়েদের আত্মরক্ষার জন্য তো তায়কোয়ান্দো আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি শিখে নিলে জিমন্যাস্টিক বা যোগায় কিছু বাড়তি সুবিধা আসতে পারে।” 

২০০০ সাল থেকে অলিম্পিক ইভেন্টে যুক্ত হয় এই খেলা

স্কুলগুলোয় তায়কোয়ান্দো শেখানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন পিনাকী। তাঁর দেশবন্ধু পাড়ার বাড়িতে এখন তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতার সাফল্য হিসাবে বহু পদক শোভা পাচ্ছে। প্রসঙ্গত, তায়কোয়ান্দো দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় খেলা। যুদ্ধ কৌশল, আত্মরক্ষা, খেলাধূলা, ব্যায়াম, এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধ্যান এবং দর্শনের সম্মিলন রয়েছে এই খেলায়। অনুশীলনকারীদের সংখ্যার দিক থেকে ১৯৮৯ সালে তায়কোয়ান্দো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্শাল আর্ট হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ২০০০ সাল থেকে অলিম্পিক ইভেন্টেও যুক্ত হয় এই খেলা।

Post Tags
Developed by DXDasia