
ময়দানকে দূষণমুক্ত ও তরতাজা রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
ময়দানকে বলা হয় কলকাতার ফুসফুস। খোলা মাঠ আর চারপাশে সারি সারি গাছ। ঠিকভাবে অক্সিজেন নেওয়ার এই একটিমাত্র জায়গা। তাই ময়দানকে দূষণমুক্ত রাখতে এবং আরও তরতাজা করতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। সঙ্গে ছিল আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু স্মারক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা কমিটি।
গত রোববার ময়দানে আয়োজন করা হয়েছিল বৃক্ষরোপণের। শুধুমাত্র রোপণই নয়, চারাগাছ বিতরণও করা হয় এইদিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অভিনেতা দেবশংকর হালদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী-অধ্যাপক তপন মিশ্র ও তপন সাহা, শিক্ষাবিদ-অধ্যাপক শ্যামল চক্রবর্তী, অধ্যাপক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রাক্তন রেজিস্ট্রার, শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও নগর পরিকল্পনাবিদ), উৎপল দত্ত, অচ্যুত চক্রবর্তী, বিপাশা বন্দ্যোপাধ্যায় (মেট্রোপলিটন গার্লস-এর প্রধান শিক্ষিকা) এবং জেলার বিজ্ঞান সংগঠকরা।
এদিন তাঁদের ডাক ছিল কলকাতাকে পরিবেশবান্ধব করে তুলতে হবে। সাম্প্রতিক আমফান এবং ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার গাছ। ভেঙে পড়েছে বহু শতাব্দী প্রাচীন গাছও। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞান মঞ্চের এহেন আয়োজন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ।
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ও পরিপার্শ্বস্থ ময়দানের পরিকল্পনা মানচিত্র, ১৮৪৪
ইতিহাস পড়লে জানা যায়, ১৭৭৭ সালে শেষ হয় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গনির্মাণের কাজ। একটি ব্যাঘ্র-সংকুল জঙ্গল চৌরঙ্গী গ্রাম থেকে গঙ্গা নদীকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল, সেই জঙ্গলটি কেটে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এর ফলেই সৃষ্টি হয় কলকাতার গৌরব ময়দানের বিস্তৃর্ণ তৃণক্ষেত্র। ১৯০৯ সালে এইচইএ কটন তাঁর ‘ক্যালকাটা ওল্ড অ্যান্ড নিউ’ বইয়ে লিখেছিলেন, “The great Maidan presents a most refreshing appearance to the eye, the heavy night dew, even in the hot season, keeping the grass green. Many of the fine trees with which it was once studded were blown down in the cyclone of 1864. But they have not been allowed to remain without successors, and the handsome avenues across the Maidan still constitute the chief glory of Calcutta. Dotting the wide expanse are a number of fine tanks, from which the inhabitants were content in former days to obtain their water-supply.”
সেই ঐতিহ্যবাহী ময়দানকে বাঁচিয়ে রাখার দায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষদের। তা কেউই এড়াতে পারেন না।
