
প্রকাশিত হলো তাঁর নতুন গান ‘চলছে দিনকাল’
নবর্ষের আবহে আশা অডিও-র প্রযোজনায় প্রকাশিত হলো বিবেক কুমারের নতুন বাংলা গান – “চলছে দিনকাল”। অভিজ্ঞ এই আইএস অফিসারের গান আমরা আগেও শুনেছি। আমরা জানি তাঁর বাংলাকে ও বাংলা ভাষাকে ভালোবাসার কথা। তাঁর উৎসাহে রচিত হয়েছিল “আমার কলকাতা” ও “স্পর্শ”র মতো বিষয়ভিত্তিক ভালো বাংলা গান। “স্পর্শ” গানটি চালতাবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবে থিম সং হয়েছিল এবং দুর্গাপুজোর বিসর্জনের কার্নিভালেও নাচের সঙ্গে পরিবেশিত হয়েছিল। ভিন্ন স্বাদের এই গান দুটি শ্রোতাদের উৎসাহী করে তুলেছে বিবেক কুমারের গান সম্বন্ধে। এই দুটি গানের কথা অনেকটা কবিতার মতো। লিখেছিলেন সুব্রতা ঘোষ রায়। সুব্রতাও দীর্ঘদিন ধরে বহু উত্তর সম্পাদকীয়, গল্প, কবিতা লিখে আসছেন। কিন্তু গানের ক্ষেত্রে বিবেক কুমারের কণ্ঠ, সুর, সংগীত ভাবনা ও সুব্রতার কথার যুগলবন্দী যেন জাদুবলে অন্য মাত্রা পায়। এর আগের গান দুটি ঠিক গতানুগতিক গানের মতো ছিল না। একটি দীর্ঘগানে একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে ধরে এগিয়ে চলা… বিষয়কে কেন্দ্র করে শুভবোধের গান, মেলবন্ধনের গান, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে আশাবাদের গান। এবারের এই গানটিও কিছুটা দীর্ঘ। এবারের বিষয়ভাবনা ও শীর্ষক “চলছে দিনকাল”।
এর আগের গান দুটিতে কথা লেখার পর সুর দেওয়া হয়েছিল। এই গানে সুরের চলন বিবেক কুমার আগেই তৈরি করেছিলেন। একটু দ্রুত গতির গান, তার সঙ্গে মেশানো আছে হালকা রক স্টাইলের একটি মিক্স ও ম্যাচ। সুর হবার পর সুব্রতা গানের কথা লিখেছেন বিবেক কুমারের দেওয়া বিষয়টি ভেবে বিবেক কুমারের সঙ্গে নিয়ত আলোচনা করে নিজের মতো করে, নিজের ঘরানায়। এই সুরে গান মিলিয়ে দেওয়ার কাজটা খুব সহজ ছিল না।
কবি শঙ্খ ঘোষের কবিতার আহ্বানের সঙ্গে এই গান এক সুরে “আরো বেঁধে বেঁধে থাকার” প্রত্যাশা রাখে। বিবেক কুমারের এই গান আসলে সক্কলের মনের গল্প।
কেমন হয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দিনকাল? আমাদের জীবনের দৈনন্দিনতায় জড়িয়ে থাকে কতটা প্রকৃতি? পৃথিবীর রোজকার সময় পরিবর্তন ও বারোমাসের ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের জীবনের গতি প্রকৃতিও যেন রং বদলে বদলে নেয়। প্রকৃতির সব অনুকূল ও প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে আমরা শেষমেশ প্রেমের কাছে, ভালোবাসার কাছেই মাথা নত করি। জীবনেও নানা গুমোট সময় আসে, আমরা আশা রাখি শান্তির বারিধারা নামবেই – “রিমঝিম রিমঝিম ধারাপাতে/ ছাতার নিচে জীবন হাঁটে মধ্যরাতে/ নতুন কোনো সুপ্রভাতের অপেক্ষাতে…”। অনেক সময় জীবনে কাঙ্ক্ষিত ‘চাওয়া’ যখন ‘পাওয়া’ হয়ে আমাদের হাতে আসে, আমরা টের পাই না। যখন সে চলে যায়, আমরা মুষড়ে পড়ি – আমাদের মনখারাপের ক্ষত নিয়ে। “সে এসে ফিরে গেছে/ গভীর রাত যেন/ জ্যোৎস্না মুছে দিয়ে/ আঁধার মন নিয়ে/ লুকিয়ে রেখেছে সেই ক্ষত/ ক্ষত নিবিড় হয়/ আকাশ কালো মেঘে/ সূর্য ছুটি নেয় হঠাৎ যদি দরকারে/ জমা কাজের বোঝা যত/ অলস দৃষ্টির সীমানা ছেড়ে দিয়ে/ ভেঙে যায় শুধু বারে বারে…”।
মনের আকাশে মেঘ জমলেও জমা কাজ সেরে ফেলার তাগিদে আমরা আবার আমাদের অলসতা কাটিয়ে উঠি…আগোছালো মনকে গোছাই… “সবই আগোছালো, বেড়েই যায় জট/ ধোঁয়াশায় ভরা হয় মানসপট/ বসেই আছি, দিন তবুও আসে, ভালোবাসে”। দিন যেমন থেমে থাকে না, দিন আমাদেরও থেমে থাকতে দেয় না। নদীর জল যেমন তীরে এসে তীরের তপ্ত বালুতটকে সিক্ত করে, তেমনি দিনও তার এগিয়ে চলার হাত আমাদের দিকে বাড়িয়ে দেয়। এ তো আমাদের সক্কলের গল্প।
মনে মেঘের ছায়া থাকে, মনে কান্না জমা থাকে… তবু সব নাম-না-জানা মনের অসুখ সরিয়ে রোদ্দুর হেসে ওঠে। পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন দিনের গল্পরাও এসে যায় আমাদের উঠোনে। আকাশ যত উঁচুতেই থাক তাকে দিগন্তের মাটি স্পর্শ করতেই হয়। অনাদিকাল ধরে দিনকালের এই চক্র আমাদের জীবনকে নিয়ে ঘুরে চলেছেই। আমরা যেন সক্কলকে নিয়ে নতুন প্রভাতের রোদ্দুরে ভরসা রেখে বিভেদ ভুলে ভালোবেসে মিলেমিশে থাকতে পারি। কবি শঙ্খ ঘোষের কবিতার আহ্বানের সঙ্গে এই গান এক সুরে তাই “আরো বেঁধে বেঁধে থাকার” প্রত্যাশায় আস্থা রাখে।
এই গানে দ্রোণ আচার্য-র সংগীতায়োজন ও মিল্টন মিউজিকের ভিডিওগ্রাফি নিঃসন্দেহে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। নতুন বাংলা বছরের আবহে আশা অডিওর তরফে বিবেক কুমারের নতুন এই বাংলা গান দর্শক শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যাবে – এমনটা আশা করাই যায়।
