হিন্দি সিনেমাই শুধুমাত্র ‘জাতীয়’, আর ভারতের অন্যান্য ভাষার সিনেমা ‘আঞ্চলিক’?

প্রত্যেকটি ভাষার সিনেমা জাতীয় স্তরের গৌরব পাওয়ার যোগ্য

জাতীয় চলচ্চিত্র বনাম আঞ্চলিক চলচ্চিত্র – এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। কেন শুধুমাত্র হিন্দি ভাষার ছবিকেই জাতীয় ছবি বলা হবে! হিন্দি ছাড়া বাকি সমস্ত ভারতীয় ভাষার ছবি কেন ‘আঞ্চলিক’ তকমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে! একটি সর্বভারতীয় অনুষ্ঠানের আলোচনার বিষয় ছিল এটিই। সেখানে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোচ্চার হলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

বাংলা সাহিত্যে যেমন কথাসাহিত্যের নানারকম বিভাগ তৈরি করা হয়। সেখানে কোনটি আঞ্চলিক উপন্যাস আর কেনই আঞ্চলিক উপন্যাস তা নিয়ে বিস্তর পেপার প্রেজেন্টেশন হয়েছে সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঠিক সেরকমভাবেই চলচ্চিত্রে কেন এই বিভাজন রেখা? সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ভারতের ২২টি ভাষা। আর সরকারি বাদ দিলে সংখ্যা যা দাঁড়াবে, তা যেকোনো দেশের কাছেই ভীষণ গর্বের। হিন্দি সিনেমাই শুধুমাত্র জাতীয়, তা তিলে তিলে আমআদমির মধ্যে গড়ে উঠেছে। হিন্দি সিনেমা সারা ভারতবর্ষ জুড়ে সিনেমাহল পায়, অথচ অন্য ভাষার ছবি তাদের রাজ্যেই সিনেমাহলের মুখ দেখতে পায় না। এই দায় আসলে কাদের? ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির? কন্টেন্টের? দর্শকদের? নাকি সবটাই মানসিকতার ব্যাপার? 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অনিন্দ্য সেনগুপ্ত আমাদের জানাচ্ছেন, জাতীয় আর আঞ্চলিক, এই বিভাজনটা তৈরি হয়েছিল সম্ভাব্য বাজারের সীমার কথা ভেবে। তাঁর মতে, “হিন্দি ছবির বাজার বড়ো, তাই তাকে জাতীয় ধরে নেওয়া হয়েছিল। কেন হিন্দিই জাতীয় এবং বৃহত্তর বাজার হল, সে ভিন্ন আলোচনা। কিন্তু প্রশ্ন হল এই বিভাজনটা কি আর খাটে? এটা নির্ভর করবে আমরা সিনেমাকে কীসের নিরিখে বিচার করব তার উপর। যদি বাজেটের কথা ভাবি, হিন্দি ছবি এবং দক্ষিণের কিছু ভাষার ছবির মার্কেট শুধু জাতীয়ই নয় আর, আন্তর্জাতিক। এত বড়ো তার বিস্তৃতি, অতএব বাজেট। বাংলা ছবি তুলনায় আঞ্চলিক। কিন্তু সারা বিশ্বে বাংলাভাষীর সংখ্যা যা, তাতে তা হওয়ার কথা ছিল না। এই সংজ্ঞা আর বিভাজনগুলি দাঁড়িয়েই থাকবে সেই ভাষার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিস্তৃতি আর জোরের উপর, আর কিছুতে নয়।”

এদিন সর্বভারতীয় অনুষ্ঠানে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিভিন্ন ভাষার সিনেমার তো একটা গালভরা নাম আছে- ‘আঞ্চলিক সিনেমা’। ‘ন্যাশনাল সিনেমা’র আওতায় নাকি সেগুলি পড়ে না। তাহলে এই ‘ন্যাশনাল সিনেমা’ কী?” তিনি আরও বলেন, “আমি যেমন শাহরুখ-আমির-অমিতাভের ছবি দেখি, তেমনই মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, সত্যজিৎ রায়, তপন সিনহার ছবিও দেখেছি। ভারতে যত ভাষার ছবি তৈরি হয় সেগুলি একটাও ‘আঞ্চলিক সিনেমা’ তকমা পাওয়ার মতো নয়। প্রত্যেকটি জাতীয় স্তরের এবং প্রত্যেকটিই ‘ন্যাশনাল সিনেমা’র গৌরব পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাও হিন্দি ছাড়া অন্য ভাষার ছবিগুলো সেই মর্যাদা পায় না। সিনেমার ক্ষেত্রে এটা খুব দুঃখজনক।”

Developed by DXDasia