মেরিকামায়া সাতকাহন : কী অবিশ্বাস্য, দুস্তর ব্যবধান!

ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমেরিকা-জীবন এবং স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন – পর্ব ৫৪

ফাইভ স্টার হোটেলে রাত্রিবাস। যা কোনোদিনও স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি

ত্রিপঞ্চাশৎ পর্বের পর

মেরিকায় আসার আগে কখনো তেমন করে ভাবিনি। চোখের সামনে দারিদ্র্য দেখেছি, রোগ শোক মৃত্যু অনাহার অর্ধাহার অনেক দেখেছি। এমনকী, নিজের পরিবারের মধ্যেই দেখেছি। সেসব কথা লিখে রেখেছি আমার দেশের স্মৃতিকথা ঘটিকাহিনিতে।

সবকিছুই চোখের সামনেই দেখেছি, কিন্তু কখনো তেমন করে দেখিনি। দেখার চোখ ছিলো না।

আজ আমেরিকায় আমার আটত্রিশ বছর কেটে গেলো। যা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি, তাই হলো। কখনো ভাবিনি আমেরিকায় যাবো। কখনো ভাবিনি আমেরিকায় থেকে যাবো। কখনো ভাবিনি আমার প্রিয় দেশের সঙ্গে আমার যোগাযোগ দীর্ঘ চার দশক ধরে দূরদেশ থেকে বেড়াতে আসা প্রবাসী বাঙালির যোগাযোগ হয়ে যাবে। 

আমেরিকার বিলাসিতা। ফাইভ স্টার হোটেলের সুইমিং পুল এবং পুলের মধ্যেই বার।

তাই যখন চুরানব্বইতে ন’বছর পর প্রথম দেশে গিয়েছিলাম, প্রতিটি মুহূর্ত শুষে নিয়েছিলাম। দারুণ গ্রীষ্মকে উপেক্ষা করে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম কলকাতা শহরের পথে প্রান্তরে। ঘুরে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম অলিতে গলিতে, রাজপথে, ফুটবল মাঠে। চেনা চেনা বাড়িগুলোর গায়ে হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছিলাম। চেনা চেনা মানুষগুলোকে ডেকে ডেকে পুরোনো কথা বলেছিলাম। স্মৃতির কথা। সেই ষাটের দশকের পুরোনো কলকাতার কথা। সত্তর দশকের ঝড়ের কথা। বলেছিলাম গানের কথা। বলেছিলাম পুরোনো বন্ধুত্বের কথা। পুরোনো ভালোবাসার কথা।

দেখলাম, সব কিছুই কেমন যেন ফিকে হয়ে গেছে। আগের মতো রসসিক্ত সম্পর্ক আর অবশিষ্ট নেই।

ভারত খুব দ্রুত বদলে গেছে এই ন’বছরে। সমাজবাদের, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে। যা আমাদের বড়ো হয়ে ওঠার সময়ে অবিশ্বাস্য ছিল। আমরা কমিউনিস্ট ছিলাম না। আমার বাবা আরএসএস জনসঙ্ঘ দক্ষিণপন্থী, আর আমার মামার বাড়ির ওরা সবাই কংগ্রেস। কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি কোনো টান কখনোই ছিলো না। 

তারপর বিয়ে হলো। স্ত্রী মুক্তির বাবা কাকা সবাই ঘোর কমিউনিস্ট। আমাদের বেড়ে ওঠার পাড়া ও তার বাসিন্দা প্রতিবেশী বেশির ভাগ হয় কমিউনিস্ট, আর নয়তো কংগ্রেস। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমাজবাদের সাথে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কে না থাকলেও এড়িয়ে চলার উপায় ছিলো না কোনো।

আমরা দুজনে সুখে দুঃখে, অনেক কষ্টে ও যত্নে এদেশে এতগুলো বছর কাটিয়ে দিলাম। অনেকে পেয়েছি, আবার অনেক হারিয়েছি। কিন্তু শেষ কথা হলো, জয় অজানার জয়।

বড়োলোক হতে চাইনি কখনো। যে জীবনবোধ নিয়ে বড়ো হয়েছি, সে মূল্যবোধে বড়োলোক হওয়ার ইচ্ছের কোনো জায়গা ছিলো না। কখনো ভাবিনি, আমেরিকায় যাচ্ছি বড়োলোক হতে। পড়াশোনা করতে যাচ্ছি। পিএইচডি দেশে করার কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। তাই যাচ্ছি বিদেশে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। সুন্দরবন কলেজে সারা জীবন পড়ে থাকা সম্ভব নয়।

আজকে পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থা দেখলে শুধু যে দুঃখ হয়, তাই নয়। অদ্ভুত একটা অনৈসর্গিক অনুভূতি হয়। কী ছিল এরা, আর কী অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে আজকে! সেই গুমগুমে বোমার আওয়াজ যখন তখন যেখানে সেখানে, রাস্তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাওয়া বিশাল বিশাল লাল পতাকার মিছিল, আর শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার পুরোনো পাড়াগুলো। 

সমাজবাদের প্রতি অন্তরের টান একটা ছিলোই। না, সিপিএম না, কংগ্রেস না। সাম্যের প্রতি টান। ধনী কেন শুধু পেট ভরে খাবে, আর আমার দিদিমার বাড়িতে গরিব হওয়ার কারণে সবাই কেন উপোস করে থাকবে, কেন আমার মা চিকিৎসার অভাবে মাত্র বেয়াল্লিশ বছর বয়সে অতি প্রিয় একটা সংসার, প্রাণের চেয়েও প্রিয় এক ছেলে ও এক মেয়েকে ফেলে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে, এ নিষ্ঠুর অবিচারের বিরুদ্ধে মনের ভেতরে ভেতরে সারা জীবন ধরেই একটা তীব্র বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ছিল।

চুরানব্বইয়ের ভারত, পশ্চিম বাংলা সমাজবাদের কথা তেমন করে আর বলে না। পাড়ার ছেলেরা যাদের সঙ্গে দুপুরবেলা বাড়িতে দু মুঠো ভাত আর এক টুকরো মাছ থাকবেই জেনে নিশ্চিন্তে রকে বসে আড্ডা দিয়েছি আর ফুটবল ক্রিকেট ক্যারম খেলেছি, ঘুড়ির মাঞ্জা দিয়েছি ল্যাম্প পোস্ট থেকে ল্যাম্প পোস্ট, কলেজে পড়ার সময়ে দু বছরের পড়া পরীক্ষার আগে শেষ তিনমাস পরেই মোটামুটি উৎরে গেছি, সেসব দিন, সেসব পাড়া, আর সেসব পাড়ার ছেলেরা এই ন’বছরেই প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। 

রকের আড্ডা আর বসে না। চায়ের দোকান সারাদিন সারা সন্ধ্যে আর খোলা থাকে না। সিঙাড়া জিলিপি মিষ্টির দোকানে দশ পয়সার জিনিস হঠাৎ হয়ে দাঁড়িয়েছে দশ টাকা। একশো গুণ বেড়ে গেছে জিনিষপত্রের দাম – দশ বছরেরও কম সময়ে।

রকের আড্ডা বসে না, কারণ সেই ছেলেগুলোর নিশ্চিন্ত জীবন আর নেই। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত চিরকালের মতো বদলে গেছে।

তাও মনের টান কিছুটা এখনো আছে আমাদের প্রজন্মের, আমাদের আগের প্রজন্মের মানুষের মধ্যে। সুব্রত, দেবাশীষ, প্রতাপ, অলক, স্বপ্নাভ এরা দেখা করতে আসে। দেবাশীষ দত্ত নিয়ে আসে তার নতুন লেখা কবিতা। সুব্রত চলে যাবার আগে একবার জিজ্ঞেস করে ফিসফিস করে, “একেবারেই কি ওখানে থেকে যাবি? চেষ্টাচরিত্র করে ফিরে আয় এবার।” 

ফিরে আসা কি এতোই সহজ, বন্ধু?

স্বপ্নাভ আর একটু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে। আমেরিকায় আমরা কি এখন সুখে আছি? আমরা কি এখন উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত? নিম্নবিত্ত নিশ্চয়ই নয়।

ওর কথায় ঘাড় নাড়ি। “না রে, উচ্চবিত্ত এখনো হতে পারিনি। এই তো সবে সাত বছর লড়ে আর একটা মাস্টার্স আর তারপর পিএইচডি শেষ করলাম। সবে চাকরিজীবনের শুরু। বড়োলোক হতে সময় লাগবে এখনো অনেক।”

আবার নতুন গাড়ি কিনতেই হলো। এদেশে যোগাযোগব্যবস্থা গাড়ি ছাড়া সম্পূর্ণ অচল।

বড়োলোক হতে চাইনি কখনো। যে জীবনবোধ নিয়ে বড়ো হয়েছি, সে মূল্যবোধে বড়োলোক হওয়ার ইচ্ছের কোনো জায়গা ছিলো না। কখনো ভাবিনি, আমেরিকায় যাচ্ছি বড়োলোক হতে। পড়াশোনা করতে যাচ্ছি। পিএইচডি দেশে করার কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। তাই যাচ্ছি বিদেশে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। সুন্দরবন কলেজে সারা জীবন পড়ে থাকা সম্ভব নয়। কলকাতায় থাকে আমার ফ্যামিলি, আমার বউ। সেখানে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। বামফ্রন্টের নেতাদের অনেকেই জানে আমার পূর্ব জীবনের আরএসএস অ্যাক্টিভিজমের কথা। তারা চায় না আমি কলকাতার কলেজে চাকরি পাই। ধরাধরি করে একদিন হয়তো পেয়েই যাবো, বিশেষ করে আমার শ্বশুরমশাই সিপিএমের শিক্ষাজগতের বিরাট নেতা অধ্যাপক অনিল কুমার বসাকের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। অনিলবাবুর বাড়ি আমি অনেকবার গিয়েছি। তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন। লেগে থাকলে কলকাতার কলেজে চাকরি একদিন আমার নিশ্চয়ই হয়ে যেতো। কিন্তু আমি ওভাবে হাতেপায়ে ধরে চাকরি কখনো চাইনি। তাই আমি নিজের চেষ্টায় অনেক কষ্ট করে, অনেক পরিশ্রম করে আমেরিকায় চলে গেছি।

“আমি ফিরবো না রে, ফিরবো না আর, ফিরবো না রে।
এমন হাওয়ার মুখে ভাসলো তরী,
কূলে ভিড়বো না রে, ফিরবো না আর, ফিরবো না রে।”

এই হলো আমার কথা।

কিন্তু, হিউম্যান ফ্যাক্টর তো থাকেই। সে ফ্যাক্টর কোনো লজিক, যুক্তি, বিশ্লেষণ মানে না।

আমেরিকায় ফিরে আসার ঠিক আগে আমার শিশুকন্যার হলো পেটের অসুখ। প্রথমবার দেশে নিয়ে গেছি তাকে। তাও আবার মধ্য গ্রীষ্মে। কোনো ধারণাই ছিলো না কোনোদিন দেশে না থাকা একটা শিশুর কী অবস্থা হতে পারে। অনেক সাবধানতা সত্ত্বেও জল থেকে তার হয়ে গেলো সিরিয়াস ডিসেন্ট্রি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশে একসপ্তাহের জন্যে বেড়াতে যাবার। আমাদের বান্ধবী নাসীম আহমেদ তখন ঢাকায়। সে সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলো সেবার।

কিন্তু বিধি বাদ সাধলেন। কোনোরকমে মেয়েকে ডাক্তার দেখিয়ে সারিয়ে তুলে আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ফিরে আসার ব্যবস্থা করে ফেললাম।

সেই যে পঁচাশি সালের চোদ্দই আগস্ট দমদম বিমানবন্দরে আমাদের সী-অফ করার জন্যে বন্ধু আত্মীয় পরিজন মিলিয়ে সত্তর আশিজন উপস্থিত ছিল, চুরানব্বইয়ের মে মাসের মাঝামাঝি আমাদের আমেরিকায় ফিরে আসার দিন উপস্থিত হলো তাও প্রায় জনা চল্লিশ মানুষ। আমার দিকের সবাই, মুক্তির বাবা মা, ভাই সুশান্ত যে চিরকাল আমাদের সঙ্গে খুব কাছের মানুষ হিসেবেই থেকেছে এবং এখনো আছে, এবং আমাদের সেই গোরাচাঁদ বসু রোডের কিছু বন্ধু। আর দেখা করতে এসেছে আমাদের পাশের বাড়ির প্রতিবেশীরা। যারা আত্মীয়ের মতোই জীবন কাটিয়েছে একসঙ্গে, সুখে দুঃখে।

আমাদের মেয়েকে কিন্তু কিছুতেই বোঝানো গেলো না কেন আমাদের এই আশ্চর্য, অপূর্ব দেশ ও এই ভীষণ ভালোবাসার মানুষগুলোকে ছেড়ে আবার সেই সুদূর দেশে চলে যেতে হবে, যেখানে কেউ নেই। একটা ভালোবাসার মানুষ নেই, একটা দিদি নেই, একটা দাদা নেই, একটা মাসি নেই, পিসি নেই, দিদা নেই, দাদু নেই। বাবার বন্ধু কাকুগুলো নেই।
 
কেন, কেন, কেন? সবাইকে জড়িয়ে ধরে তার সে কী কান্না!

ওয়াল স্ট্রীটের এই বুলের খোঁজেই অধিকাংশ মানুষ এদেশে ছুটে আসে সারা পৃথিবী থেকে। আমরা এই গোল্ড রাশের শরিক হইনি কোনোদিনও।

হায়রে, কী বোঝাবো তোকে মেয়ে! এই আমাদের মায়ার বাঁধন ছেঁড়া হতভাগ্য জীবন। যে আমেরিকা ইউরোপ কখনো প্রবাস জীবন কাটায়নি, তাকে বোঝানো সম্ভব নয়। দাদুর কোলে, দিদার আদরে বড়ো হওয়ার অতি স্বাভাবিক, অতি প্রত্যাশিত জীবন থেকে তাকে আমরা বঞ্চিত করেছি।

এ এক পাপ। এ পাপের কোনো ক্ষমা নেই।

ঈশ্বর বলেছিলেন, তোকে ধন দেবো, অনেক শিক্ষা ডিগ্রী দেবো। গাড়ি দেবো, বাড়ি দেবো, অনেক সম্মান দেবো। সারা পৃথিবী ঘুরে দেখবি তোরা। যা কখনো কল্পনাও করতে পারিস নি, সেই ঐশ্বর্য তোকে ভোগ করতে দেবো।

ঈশ্বর বলেছিলেন, আমেরিকায় দরিদ্রদের দূর থেকে দেখবি, তাদের অনাহার, অর্ধাহার, অবসাদ, হতাশা, রোগ শোক বঞ্চনা। দেখবি ঠিক এই ভারতের মতোই। কিন্তু তোদের আমি সেই ক্লাস থেকে তুলে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবো। বড়ো বড়ো  মানুষদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পাবি। খ্যাতি পাবি, ফাইভ স্টার হোটেলে থাকতে পাবি। কনফারেন্সে বক্তৃতা দেবার সুযোগ পাবি। তরতর করে ইংরিজি বলবি। বড়ো বড়ো মিডিয়া তোকে, তোদের নিয়ে লিখবে।
 
তোদের সুখ্যাতি করবে তোদের অসংখ্য মার্কিন ছাত্রছাত্রী, সহকর্মী।

এ সৌভাগ্যও সম্প্রতি হয়েছে। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এই নিউ ইয়র্কে।

তিনি বললেন, পুলিশের অত্যাচারের শিকার তোদের কখনো হতে হবে না। দিব্যি সুখে কাল কাটাবি তোরা। মাঝে মাঝেই দেশে বেড়াতে যাবি। থাকবি ইচ্ছেমতো।

কখনো ইমিগ্রেশন আইন ভাঙার অপরাধে জেলে পচতে হবে না তোকে। 

কিন্তু, তিনি বললেন, তার বিনিময়ে তোদের নিজের দেশ চিরকালের মতো ছাড়তে হবে। যে দেশটাকে ফেলে এসেছিস নিজের খেয়ালে, সে দেশটাকে আর কখনো নিজের মতো করে ফিরে পাবি না।

আশীর্বাদ, না অভিশাপ?

বহু বছর ধরে ভেবেছি। প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।

আজ আর ভাবি না।

(পরের পর্বে মেরিকামায়া এখনকার মতো শেষ হবে।)

*আমেরিকা-জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রখ্যাত মানবধিকার কর্মী ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলামে চলছে ‘মেরিকামায়া সাতকাহন’।
ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার সন্ধে ৬টায় প্রকাশিত হচ্ছে শুধুমাত্র বঙ্গদর্শন-এ।
‘মেরিকামায়া সাতকাহন’-এর সমস্ত পর্ব পড়তে
এখানে ক্লিক করুন

Developed by DXDasia