মহিলাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’? খোঁজ নিল ‘বঙ্গদর্শন’

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প মহিলাদের মৌলিক আয়ে সহায়তা প্রদান করছে

আমাদের ছোটোবেলার স্মৃতিতে লাল রঙা একটি ভাঁড়ের কথা অনেকেই জানি। রোজকার জীবনে যেটুকু পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা, সেটুকু নিয়ম করে ওই ভাঁড়ে জমাতে দেখেছি মা-কাকিমাদের। বাংলার ঘরে ঘরে মহিলাদের সম্বল ছিল এই ভাঁড়। রোজকার সঞ্চয় দিয়ে ভরে উঠত লক্ষ্মীর ভাঁড়। যেকোনো প্রয়োজনে এই ভাণ্ডারই পাশে দাঁড়াত পরিবারের। চিরাচরিত বাংলার এই অভ্যেসকে মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেন নয়া প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’।

পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা, যাঁরা ইতিমধ্যে কোনো সরকারি প্রকল্প অথবা আয়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং যাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, সেই সমস্ত মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারবেন। গত বছর এই লক্ষ্যেই শুরু হয় দিকে দিকে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প। এই ক্যাম্প থেকেই আবেদনের ফর্ম দেওয়া চালু হয়। এছাড়াও জানা যায়, অনলাইনেও আবেদন করা যাবে এই প্রকল্পে। আবেদনকারীকে রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স কপি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, আধার, ভোটার, রেশন কার্ড, এবং তপশিলি জাতি অথবা উপজাতি তালিকাভুক্ত হলে শংসাপত্রের জেরক্স কপি জমা দিতে হবে ফর্মের সঙ্গে। যাঁদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কার্ড এখনও হয়নি, তাঁরা আগে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করিয়ে, তারপর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন, এমনটাই জানানো হয় রাজ্য সরকারের তরফ থকে। 

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করেছে যাতে পরিবারের মহিলাদের মৌলিক আয়ের সহায়তা প্রদান করা যায়। এই স্কিমের মাধ্যমে, সরকার সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের প্রতি মাসে ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি এবং উপজাতি তালিকাভুক্ত মহিলাদের প্রতি মাসে ১০০০ টাকা প্রদানের কথা জানায়। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১.৬ কোটি পরিবার এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবে, এমনটাই আশা মুখ্যমন্ত্রীর। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করেন রাজ্যের মহিলারা।

রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পগুলোর ছবি আমাদের সবারই জানা। উপচে পড়া ভিড় ছিল প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের মহিলাদের প্রতিক্রিয়া জানতে ঘুরে বেরিয়েছিল ‘বঙ্গদর্শন’। হুগলির বাসিন্দা বন্যা মিত্র জানান, “আমাদের মতো গৃহবধূদের কাছে প্রতি মাসে ৫০০ করে টাকা খুবই উপকারের। সব সময় হাত পাততে তো কারোরই ভালো লাগে না। এখন তবু নিজেদের একটা জোরের জায়গা তৈরি হল।”

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে খুশি উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বপ্না মাণ্ডি। তাঁর কথায়, “মাসে মাসে ১০০০ টাকা করে পাওয়ায় সংসারের কিছু খরচের নিয়মিত জোগান জুটে যাচ্ছে।” আমাদের সমাজে মহিলাদের অবস্থাকে পাকাপোক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আর্থিক দিক থেকে মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প তাই মাইলফলক। নারী সমাজের সার্বিক উন্নতির দিকটিকে জোরদার করতে রাজ্য সকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলার মহিলারা। সঞ্চয়ের পুরাতনি ভাবনার সঙ্গে সংমিশ্রণে আজকের এই ভাণ্ডার হয়ে উঠেছে মহিলাদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট।

Developed by DXDasia