শহরকে স্বচ্ছ-সুন্দর রাখার জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার

রাস্তার পাশে জঞ্জাল চিত্রের বদল আনতেই এই উদ্যোগ

ছবিঃ নিজস্ব

প্রগতিশীল দক্ষিণ প্রান্তের রাস্তা হোক বা উত্তরের অলিগলি – ডাস্টবিন থাকলেও যথেচ্ছ ভাবে রাস্তায় ছূঁড়ে ফেলা হয় আবজর্না ভরতি প্যাকেট। এদিকে বিপুল খরচে চলছে উৎস থেকে জঞ্জাল পৃথকীকরণ প্রকল্প। দেওয়া হয়েছে বাড়ি বাড়ি বালতি। এলাকায় বাঁশি বাজিয়ে বাড়ির দরজায় এসে জঞ্জাল সংগ্রহ করে নিয়ে যান সাফাই কর্মীরা। এতকিছুর পরও কলকাতার রাস্তাঘাট জঞ্জাল মুক্ত করাই বড়ো চ্যালেঞ্জ। তাই, এবার জঞ্জালের উপদ্রব এড়াতে দক্ষিণ কলকাতার গলফগ্রীন এলাকায় রাস্তার পাশে সুসজ্জিত বাগানের উদ্যোগ নিল কলকাতা পুরসভা।

এলাকায় ডাস্টবিন থাকায় জঞ্জাল ফেলার বালতি বা সাফাই কর্মীর আসার কোনও তোয়াক্কা করেন না অধিকাংশ মানুষ। তারা নিজের ইচ্ছে মতো রাতের অন্ধকারে বা দিনের আলোয় প্রকাশ্যে বাড়ির বারান্দা বা দরজা থেকে প্লাস্টিক ছুঁড়ে ফেলে দেন। কোটি কোটি খরচে প্রায় ১২ হাজার ডাস্টবিন বসিয়েও রাস্তার জঞ্জাল চিত্রের বদল করতে পারেনি পৌরনিগম কর্তৃপক্ষ। এই সমস্যায় জেরবার পৌর কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত হয়েছে এবার থেকে আবাসিক অঞ্চলে ডাস্টবিন দেওয়া হবে না। পুরোনোগুলিও একে একে তুলে নেওয়া হবে। অন্যদিকে যাঁরা রাস্তায় যথেচ্ছ জঞ্জাল ফেলবেন ধরা পড়লে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সঙ্গে ভালো অংকের জরিমানারও ব্যবস্থা থাকছে। শুধুমাত্র পৌরনিগমের নির্ধারিত বাণিজ্যিক জোনেই রাস্তার ধারে থাকবে ডাস্টবিন।

ছবিঃ নিজস্ব

মেয়র পরিষদের বৈঠকে শুক্রবার এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদারের কথায়, “যেখানে রোজ বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করা হয়, সেখানে আমরা আর ডাস্টবিন রাখব না। কারণ, সেই ডাস্টবিনগুলিতে এবং চারিদিকে ময়লা ফেলে সেগুলি এক-একটা ভ্যাট তৈরি হচ্ছে। ফের পরিষ্কার করতে হচ্ছে। এবার কেউ রাস্তাঘাটে ময়লা ফেললে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।”

প্রসঙ্গত, আমফেনের পর কলকাতা পুরসভা শহরের বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগিয়ে নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার মন দেয়। কিন্তু, এতে দেখা গেছে চেতলা, রাসবিহারী, দেশপ্রিয় পার্ক, আলিপুর, টালিগঞ্জ, লেক রোড, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, যোধপুর পার্ক জুড়ে উধাও হয়েছে একের পর এক টব। সেসব ফুলগাছ শোভা পাচ্ছে ফ্ল‌্যাটের বারান্দায়। অভিযোগ, এলাকা সৌন্দর্যায়নের জন‌্য বাহারি ফুল গাছ লাগান কাউন্সিলররা। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ব‌্যাগে করে তা নিয়ে চলে যাচ্ছেন অনেকেই।

অনেকেই রাস্তায় ময়লা ফেলে চলে যান। যা ঠেকাতে শুরু হয় ফুলগাছের টব বসানো। তাতে কাজও হয় দ্রুত। বন্ধ হয়ে যায় ময়লা ফেলা। কিন্তু এবার উলটো বিপদ। হাওয়া হয়ে যাচ্ছে ফুল গাছের সেই টব। একই অবস্থা দক্ষিণাপণের পিছন দিকে যোধপুর পার্ক চিলড্রেন্স পার্ক এলাকায়। সিসিটিভি ফুটেজের ছবি দেখতে গিয়ে অবাক ওয়ার্ডের পুর আধিকারিকরা। মূলত বহুতল কিম্বা, অভিজাত এলাকার বাসিন্দারাই টব উধাও করছেন।

ছবিঃ নিজস্ব

মেয়র পারিষদ (উদ‌্যান) দেবাশিস কুমারের বক্তব‌্য, “আমরা অভিযোগ পাচ্ছিলাম, যে টব-সহ গাছ চুরি হচ্ছে। এটা পুরসভার ক্ষতি। একটা গাছের অনেক দাম। আমরা জায়গা পেলে মাটিতেই গাছ লাগানোর পক্ষপাতী। একান্তই মাটি না পাওয়া গেলে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে টবে গাছ দেওয়া হচ্ছিল। মূলত সৌন্দর্যায়নের জন্যই দেওয়া হচ্ছিল টব-সহ  গাছ। কিন্তু পুরসভা আর কোনও টবের গাছ দিচ্ছে না।”

প্রতিবছর কলকাতা পুরসভা এলাকায় হয় বনসৃজন উৎসব। সেসময় বিনামূল্যে চারাগাছ দেওয়া হয়। কিন্তু শহরের একাধিক কাউন্সিলর জানিয়েছেন, সে সময় চারাগাছ নিতে আসার লোক পাওয়া যায় না।

জানা গেছে, গত একবছরে প্রায় একলক্ষ গাছ লাগিয়েছে কলকাতা পুরসভা। শহরে বনসৃজন নিয়ে নতুন নীতিও ঘোষণা করেছে। ঠিক হয়েছে, অশ্বত্থ, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, এবং কদমের মতো বড়ো গাছ শহরে লাগানো যাবে না। তার পরিবর্তে ছাতিম, জারুল, নিমের মতো গাছ লাগানো হবে। লাগানো হবে রঙ্গন জাতীয় কিছু ফুলের গাছ। গাছ কাটা নিয়েও কঠিন হয়েছে পুরসভা। যেকোনো গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হবে পুরসভা ও বন দফতরের। নাহলে এফআইআর করা হবে।

Post Tags
Developed by DXDasia