আজ ৯২ বছর পূর্ণ করে ৯৩-এ পা রাখলেন চির-কিশোর
অভিনয় খুব একটা পছন্দ ছিল না কিশোর কুমারের। তিনি গাইতে জানতেন। কিন্তু প্রথাগত কোনো গানের শিক্ষা ছিল না। প্রাথমিক অবস্থায় সংগীতশিল্পী কুন্দন লাল সায়গলের গলা হুবহু নকল করে গাইতেন। গুরু মানতেন তাঁকে কিন্তু সেই নকল করা পছন্দ করতেন না কেউই। এরপর শচীন দেব বর্মনের নজরে আসেন কিশোর। তাঁরই পরামর্শে পাল্টে ফেলেন গাইবার কায়দা। সেই সময়ের প্রধান দুই ‘স্টার’ গায়ক মহম্মদ রফি এবং মুকেশের থেকে পুরো আলাদা হয়ে উঠল কিশোর কুমারের কণ্ঠ।
পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে একজন প্রতিষ্ঠিত ‘কমেডি’ নায়ক হিসাবে জনপ্রিয় হলেন কিশোর কুমার। কেরিয়ারের শুরুতে বম্বে টকিজে দাদা অশোক কুমারের সঙ্গে প্রথম কোরাস গাওয়ার সময় নিজের নাম আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায় থেকে পাল্টে কিশোর কুমার করে নেন। শুধুমাত্র গান নয়, অভিনয়েও কিন্তু মাত করে রাখতেন দর্শককে। তাঁর অভিনয়ের কায়দা ছিল অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেই সময়ের প্রবল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতাশালী তিন নায়ক – রাজ কাপুর, দেবানন্দ এবং দিলীপ কুমার বলিউড শাসন করা সত্ত্বেও কিশোর কুমার নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেছিলেন পৃথকভাবে।
দেখুন কিশোর কুমার অভিনীত বাংলা ছবি একটুকু ছোঁয়া লাগে (১৯৫৭)
কিন্তু এতদ্সত্ত্বেও কিশোর কুমার একজন আদ্যপ্রান্ত গায়ক। কী নেই সেইসব গানে! কখনও বিষাদের গভীরে ডুবে যাওয়া আছে, কখনওবা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সংমিশ্রণ। কখনও আবার শুধুমাত্র আইটেম সং। সব ধরনের গানেই তাঁর অনায়াস যাতায়াত। প্রেমে, বিরহে, উৎসবে, শোকে- সবেতেই বিরাজমান এক নাবিক, তিনি চিরকিশোর। আজ তিনি ৯২ বছর পূর্ণ করে ৯৩-এ পা রাখলেন। শারীরিকভাবে তিনি এখন নেই ঠিকই, তবে এখনও তাঁর গানে শরীর দোলান প্রবীণ থেকে নবীনের দল।
গতবছর থেকে করোনা মহামারির প্রকোপে প্রায় সবাইকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঘরবন্দি জীবনে অনেকেরই সঙ্গী তাই সংগীত। কিশোর কুমারের গান শুনে প্রচুর মানুষ সময় কাটিয়েছেন, কাটাচ্ছেন। তাঁর গান এত বিচিত্র যে, শুনলে বন্দিত্বের একঘেয়েমি অনেকটাই দূর করা যায়। আজও সারাদিন রেডিওতে তাঁর গান বাজবে। টিভিতে দেখানো হবে তাঁর অভিনীত ছবি। কিশোর কুমারের ভক্তরা নিজেদের উদ্যোগেও তাঁর গান শুনবেন, সিনেমা দেখবেন।
জন্মদিনে প্রথিতযশা শিল্পী কিশোর কুমারকে বঙ্গদর্শনের শ্রদ্ধার্ঘ্য।