৬৪ বছরের দৌড় – আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি অর্জন অ্যাথলেট সোমা দত্তের

শিলিগুড়ির একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা সোমা দত্ত

দৌড়-জাম্প – জাম্প-দৌড় – কখনও পড়ে গিয়ে হাত ভেঙেছে, কখনও পা। কিন্তু থেমে যাননি সোমা দত্ত। শৈশব থেকে এই ৬৪ বছর বয়সেও জাম্প আর দৌড়ের নেশাতেই রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। হাই জাম্প, লং জাম্প সবেতেই এসেছে প্রচুর সাফল্য। অনেকগুলো জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা বিমানবন্দর লাগোয়া ভুজিয়াপানিতে বাড়ি এই অ্যাথলেটের। দেশের বাইরেও গিয়েছেন বহুবার। সামাজিক কাজ করতে ভালোবাসেন। অবসর জীবনে শরীরচর্চা যেমন ছাড়েননি, তেমনই গরিব অসহায় মানুষকে সেবা করতেও থেমে থাকছেন না। এই সমস্ত কাজকর্ম তিনি করছেন পেনশনের টাকায়।

অ্যাথলেটিক্স এবং সামাজিক কাজের প্রতি এতটাই প্রেম ও নেশা যে কখন ৬৪ বছরে পৌঁছে গিয়েছেন বুঝতেও পারেননি। এমনকি বিয়েটাও করা হয়নি। তিনি বলেন, দেশপ্রেম। সেই শৈশবে পানু দত্ত মজুমদারের হাত ধরে তিলক ময়দানে তাঁর দৌড়ঝাঁপ, অ্যাথলেটিক্স চর্চা শুরু। একসময় শিলিগুড়ি হাকিমপাড়ায় থাকতেন সোমা। বয়স তখন পাঁচ কিংবা ছয়। তখনই মা ফুলুরানি দত্ত তাঁকে তিলক ময়দানে প্রখ্যাত খেলোয়াড় পানু দত্ত মজুমদারের কাছে নিয়ে যান। আর প্রয়াত পানু দত্ত মজুমদারের হাত দিয়েই তাঁর হাই জাম্প, লং জাম্প আর দৌড়ের অনুশীলন শুরু। পরে শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলে পড়ার সময় আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বারবার পুরস্কার জিতে স্কুলের সুনাম উঁচুতে মেলে ধরেছেন। কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতাতেও এসেছে অনেক পুরস্কার। এরপর স্কুলে শিক্ষিকার চাকরি।

শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা বিমানবন্দর লাগোয়া ভুজিয়াপানিতে বাড়ি এই অ্যাথলেটের। দেশের বাইরেও গিয়েছেন বহুবার। সামাজিক কাজ করতে ভালোবাসেন। অবসর জীবনে শরীরচর্চা যেমন ছাড়েননি, তেমনই গরিব অসহায় মানুষকে সেবা করতেও থেমে থাকছেন না।

শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া হাইস্কুলে ১৯৮৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ভূগোল এবং শারীরশিক্ষার শিক্ষিকা হিসাবে কাজ করেন। স্কুলে শিক্ষকতার মধ্যেও চলতে থাকে তাঁর দৌড়। ২০১১ সাল থেকে আসতে থাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি। ২০১২-তে বেঙ্গালুরুতে হাইজাম্পে আসে সোনা। ২০১৩-তে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার জন্য তাইওয়ান, তাইপেতে যোগ দেন। সেই প্রতিযোগিতায় ১৭টি দেশের মধ্যে থেকে তিনি ষষ্ঠ স্থান দখল করেন। সেই সময় সোমা দত্তের আর্থিক সংকট এতটাই তীব্র ছিল যে, সোনার হার বিক্রি করে তাঁকে তাইপে-তে যেতে হয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালে ব্রাজিলের পর্তুগালে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সে পৃথিবীর ১০৩টি দেশ অংশগ্রহণ করলে সোমা দত্ত তাতে যোগ দিয়ে দশম স্থান অধিকার করেন। ২০১৮-তে ইতালি, ২০২১ সালে জাপানে অংশ নেন হাইজাম্পে।

 

 

জাতীয় স্তরে বেঙ্গালুরু ছাড়াও তামিলনাড়ু, কর্নাটক, কেরালা, হায়দ্রাবাদ, গুজরাটে অংশ নেন হাইজাম্প, লংজাম্প এবং একশো মিটার দৌড়ে। তাতে সাত বারেরও বেশি সোনা জিতেছেন হাইজাম্পে। হাইজাম্পে ১.৩ মিটার থেকে ১.৪ মিটার, লংজাম্পে ১৪ মিটারের বেশি জাম্প করতে পেরেছেন তিনি। ৬৪ বছর বয়স হলেও থেমে থাকতে রাজি নন সোমা দত্ত। বঙ্গদর্শন.কম-কে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দৌড় আর জাম্পের জীবনে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে কখন বিয়ের বয়স পেরিয়ে ৬৪-তে পৌঁছে গিয়েছি, বুঝতেই পারিনি।” বর্তমানে নতুন ছেলেমেয়েদের অ্যাথলেটিক্সের জগতে নিয়ে আসতে চান তিনি।

Post Tags
Developed by DXDasia