বহু মানুষ এই জায়গাটিকে গোলদিঘি নামেই চেনেন
কলকাতার অন্যতম প্রাচীন সুইমিং ক্লাবগুলোর একটি কলেজ স্কোয়ার সুইমিং ক্লাব। যদিও এই ভুল ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে যে, এটি কলকাতার প্রাচীনতম। আসলে তা নয়। ১৮৮৭ সালে কলকাতায় তৈরি হয় দি ক্যালকাটা সুইমিং ক্লাব। এটিই কলকাতার প্রাচীনতম সুইমিং ক্লাব (বাবুঘাটের নিকটে)। এরপর ১৯১৭ সালে ১৭ জন সক্রিয় সদস্য নিয়ে গড়ে ওঠে কলেজ স্কোয়ার সুইমিং ক্লাব (CSSC)। প্রেসিডেন্ট হন সতীশরঞ্জন দাস। এর এক দশক পর ১৯২৭ সাল নাগাদ কলেজ স্কোয়ার ট্যাঙ্কের উত্তর-পূর্ব কোণে গড়ে তোলা হয় ক্লাবের ঘর। এই ক্লাবহাউজটি গড়তে সেই যুগে খরচ হয়েছিল ভারতীয় টাকায় ৮৩২৮ টাকা। শিল্পপতি জিডি বিড়লা ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এই ক্লাবের। ১৯৩২ সাল পর্যন্ত এই পদেই থাকেন তিনি। এই সময়ে তাঁর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে ক্লাব হাউজ।
আসা যাক পরবর্তী কাজে। ১৯৭৩-৭৪ সাল নাগাদ এম এন দস্তুর এন্ড কো-এর তরফ থেকে তৈরি করে দেওয়া হয় শিশুদের জন্য একটি ফিল্টার্ড জলের ছোটো পুল। কাঠের ডাইভিং বোর্ড ও আধুনিক ব্যবস্থার প্ল্যাটফর্মও তৈরি করা হয় বিড়লা গোষ্ঠী ও ভুওয়ালকা জনকল্যাণ ট্রাস্টের দেওয়া ফান্ডে।
১৮ অক্টোবর ১৯৭৯ সালে এই জায়গাটির নাম বদলে নাম দেওয়া হয় বিদ্যাসাগর উদ্যান। যদিও এখনও বহু মানুষ এই জায়গাটিকে গোলদিঘি নামেই চেনেন। জানা যায়, এই জলাটি আকৃতিতে গোল ছিল বলেই এমন নামকরণ। ১৯১২-১৩ সাল নাগাদ জলাটিকে সুইমিং পুল বানানোর উদ্দেশ্যেই চৌকো আকৃতি দেওয়া হয়ে থাকে।
প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রতিবেশী এই সুইমিং পুলে একই সঙ্গে অনেকগুলি ক্লাব তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন দিনের নানা সময়ে। এরা হল ওয়াই এম সি এ সুইমিং ক্লাব, বৌবাজার ব্যায়াম সমিতি, সেলফ কালচার সুইমিং ক্লাব ও কলেজ স্কোয়ার সুইমিং ক্লাব। এই সুইমিং পুলে একটি ২৫ মিটার উচ্চতার ডাইভিং স্টেশন রয়েছে। রয়েছে একটি ৫০ মিটার লম্বা স্ট্যান্ডার্ড পুল, একটি ২০ মিটারের রিল্যাক্স পুল ও ওয়াটার পোলো এরেনা। ইনার পুলটিও ২৫ মিটার দীর্ঘ।

কলকাতার বেশ কিছু প্রতিযোগিতা সংগঠিত হয়ে থাকে এই সুইমিং পুলে। এখানে সুইমারদের মূলত তিনভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইয়োলো ক্যাপ, হোয়াইট ক্যাপ এবং রেড ক্যাপ। এরপর রেডক্যাপ সুইমারদের ভাগ করা হয়ে থাকে এ থেকে ই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে। এদেরকে নভিস হিসাবেই গণ্য করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের ক্লাস হয় ইনার পুলেই। কলেজ স্কোয়ার তাঁদের বার্ষিক মিলন সংগঠিত করে থাকে একটি ইন্ট্রাক্লাব খেলার দ্বারা। প্রতিবছর ১৫ অগাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এই ইন্ট্রা ক্লাব ম্যাচ। চলে তিনদিন যাবৎ। বর্তমানে এই ক্লাবে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক মাল্টি জিমও। একই প্রেমিসেসে অবস্থিত এই জিম।
কেবল এটুকুই নয়। এই ক্লাব থেকেই তৈরি হয়েছেন একাধিক অলিম্পিয়ান। ডিডি মুলজি, দুর্গা দাস, কেদার সাউ, শম্ভু সাহা, ডঃ বিজয় কুমার বর্মণ প্রমুখ বিখ্যাত সাঁতারুরা এই ক্লাবেই প্র্যাকটিস করেছেন দীর্ঘ সময়। ১৯৫১-র দিল্লি এশিয়াডে ভারতীয় ওয়াটার পোলো টিমের অধিনায়ক গণেশ দাস ছিলেন এই ক্লাবের সদস্য। পশ্চিমবঙ্গের সেরা পুরুষ ও নারী সুইমারদের পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে এই ক্লাবের তরফ থেকে প্রতিবছর।
১০২ বছর বয়স হল এই ক্লাবের। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সগৌরবে চলছে এখনও। আগামীতেও এই ক্লাব থেকে বহু অলিম্পিয়ানের দাবি রাখলে খুব একটা ভুল হবে কি? সম্ভবত না।