কলকাতার প্রথম ও বৃহত্তম ফ্লাওয়ার শো কোনটা জানেন?

ঠিকানা- ১, আলিপুর রোড

ঠিকানা- ১, আলিপুর রোড। কলকাতার বৃহত্তম ও প্রাচীনতম অবাধ প্রবেশ বাগানটি হল এগ্রি-হার্টিকালচারাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার বাগান। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে যা দুই শতাব্দী (২০০ বছর) সম্পূর্ণ করবে এই শহরের বুকে। ১৮২০ সাল নাগাদ ডঃ উইলিয়াম কেরির হাতে প্রতিষ্ঠা হয় দি এগ্রি-হর্টি কালচারাল সোসাইটি। যাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতবর্ষে এগ্রিকালচার ও হার্টিকালচার নিয়ে গবেষণা, তার উন্নতি ও প্রসার। আলিপুরের মধ্যমণি হয়ে থাকা দু’শতাব্দী প্রাচীন এই বাগানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর সুসজ্জা। ফুলগাছ থেকে সাকুলেন্ট বহুরকমের গাছ নানা জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে এখানে। আছে একটি ম্যাড ট্রি। এই বিরাট বৃক্ষটিকে ম্যাড নাম দেওয়ার পিছনেও এক বিশেষ গল্প কাজ করে। ম্যাড ট্রি হল এমন এক গাছ যার যে কোনও দু’টি পাতার গঠন একরকম নয়। প্রতিটি পাতা গঠনে ও আকারে আলাদা।

এ এইচ এস আই-এর অন্যান্য জরুরি কাজগুলির মধ্যে রয়েছে চা, আঁখ, শাকসব্জি, ফুলগাছ, সিনকোনা ও বিভিন্ন ফলের চাষ ও তা নিয়ে গবেষণা। ভারতের প্রথম এগ্রিকালচারাল জার্নালটিও ১৮৩৭ সাল নাগাদ শুরু হয় এই সোসাইটির উদ্যোগেই।

আসা যাক কলকাতার প্রাচীনতম ফ্লাওয়ার শো-এর প্রসঙ্গে। ১৮২৮ সাল নাগাদ শুরু হয় এই প্রদর্শনী। আলিপুরের উদার বাগানেই। ফুলগাছ, ফল গাছ থেকে ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট কী নেই! চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য। মোটামুটিভাবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই হয়ে থাকে এই ফ্লাওয়ার শো। নামে ফ্লাওয়ার শো হলেও শুধুমাত্র ফুলের নয় এমন অনেক গাছই অংশগ্রহণ করে এখানে। শীতের মুখে বিপুল পরিমাণ গাছের উপস্থিতি চারদিনের জন্য আরও রঙিন করে তোলে বাগান। দর্শকরা ছুটে আসেন দূর দুরান্ত থেকে। শুধু প্রদর্শনী নয়। চলে গাছের কেনাবেচাও। বাগানের রাস্তার দু’পাশে বসে স্টল। সেখানে দোকান দেয় বিভিন্ন নার্সারি ও স্বনির্ভর বিক্রেতারা। থাকে গাছ, থাকে টব ও অন্যান্য বাগান করার জিনিসপত্রের দোকান।

প্রদর্শনী ছাড়াও এই চারদিনে চলে প্রতিযোগিতা। কোনও ফুলের আকার আকৃতি বা তার প্রেসেন্টেশনের অভিনবত্বের উপর নির্ভর করে পুরস্কৃত করা হয় গাছেদের। এছাড়াও রয়েছে পাত্রে ফুল সাজানো, কাটা ফুল ও ফুল দিয়ে টেবিল সাজানোর প্রতিযোগিতা। সব মিলিয়ে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ফুলগাছ অন্ততপক্ষে একহাজার রকমের কম নয়। সেখানে গোলাপ থেকে ডালিয়া, ক্রিসানথিমাম থেকে গাঁদা দেখতে পাওয়া যায়। কলকাতাকে প্রথম সাদা রঙের গাঁদা দেখায় এই ফ্লাওয়ার শো। প্রতিবছরই এমন কোনও না কোনও চমক নিয়ে আসে এই প্রদর্শনী। শো-এর শেষদিনে থাকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সম্প্রতি এ এইচ এস আই-এর উদ্যোগে পেরিনিয়াল ফুলগাছগুলিকে নিয়ে জানুয়ারিতে আয়োজিত হচ্ছে আরেকটি ফ্লাওয়ার শো।

সামনের বছর দু’শো বছরে পা দেবে এই বাগান। মানুষের মধ্যে সংকটের সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ছে সচেতনতাও। যাঁরা পরিবেশ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত, কলকাতার বুকে এমন এক প্রদর্শনী অবশ্যই দেখে আসতে অনুরোধ তাঁদের।

Post Tags
Developed by DXDasia