শিল্পীর একক ও মুক্ত চিত্রপ্রদর্শনী ‘আর্ট ইন এভরিওয়ান’
চিত্রশিল্পী হিসেবে দেশে-বিদেশে ব্যতিক্রমী ‘ঘটনা ঘটানোয়’ তাঁর বিশেষ খ্যাতি আছে। গতবছরই বাংলার মাটিতে অবিশ্বাস্য কাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন তিনি। শিল্পী হিরণ মিত্র। গতবছর অনেকেই দেখেছিলেন অসীম তারুণ্যে একজন প্রবীণ শিল্পী মাছের বাজারে নিজের চিত্রপ্রদর্শনী করে কীভাবে শিল্পজগতের সনাতন ভাবনা, গোঁড়ামি নসাৎ করার ঝুঁকি নিতে পারেন। যাকে বলে, দেখার মতো ঘটনা।
থেকেই শিল্পীর একক ও মুক্ত চিত্রপ্রদর্শনীর নাম ‘আর্ট ইন এভরিওয়ান’অর্থাৎ সবার মধ্যেই শিল্পের বাস। শিল্প সকলের। শিল্পকে সাধারণের জীবনের নিত্যকার ভাবের আদান প্রদানের মধ্যে পৌঁছে দেওয়াই এখানে শিল্পীর উদ্দেশ্য।
এই প্রদর্শনীর সঙ্গে উত্থাপিত হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। এয়ারকন্ডিশন হল ছেড়ে মাছের বাজারে কেন? বিখ্যাত হওয়ার সঙ্গে ছবি আঁকার কী সম্পর্ক? শিল্পচর্চা কী? শিল্পীর কাজ কী? শিল্প কীভাবে প্রদর্শিত করা যেতে পারে? আয়োজকদের কথায়, সাধারণ মানুষ শিল্পের দরজায় পৌঁছাতে না পারলে কি হয়েছে? শিল্প তো সাধারণ মানুষের দরজায় পৌঁছাতেই পারে। এই ভাবনা থেকেই শিল্পীর একক ও মুক্ত চিত্রপ্রদর্শনীর নাম ‘আর্ট ইন এভরিওয়ান’অর্থাৎ সবার মধ্যেই শিল্পের বাস। শিল্প সকলের। শিল্পকে সাধারণের জীবনের নিত্যকার ভাবের আদান প্রদানের মধ্যে পৌঁছে দেওয়াই এখানে শিল্পীর উদ্দেশ্য।

প্রস্তুতি চলছে
আয়োজকদের মতে, গতবছর দু’দিনে ৩০-৪০ হাজার মানুষের চোখে পড়েছিল এই প্রদর্শনী। মাছ কিনতে এসে অপ্রত্যাশিত ভাবেই শিল্প ও শিল্পীর মুখোমুখি হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। শিল্পীর কথায়, “আরামদায়ক প্রদর্শনী কক্ষে এই মজা কি মিলবে? আমার জন্য এই মাছের বাজারই ভালো। কোনও ভান নেই, বোঝাবুঝির ঝামেলা নেই বরং বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সুবিধে আছে।” শিল্পী আরও বলছিলেন, এই প্রদর্শনীতে ছবি বেচাকেনা হচ্ছে না, ছবি কী ভাষায় এতদিন কথা বলে এসেছে, আজ কী ভাষায় কথা বলছে বাজারের মধ্যে, তাই হচ্ছে বিষয়। এই নয় সবাই এক লহমায় সব বুঝে যাবে,কাউকে কিছু বোঝানোর গল্পই থাকবে না। শুধু একটা রগড়ে ঢুকে পড়া। এবং দেখতে থাকা, হলোটা কী? ব্যাস এইটুকু।
২০২৩-এর পর ফের একবার ২০২৪-এ সেই অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী ফিরছে হাওড়ার কালীবাবুর মাছের বাজারে। আয়োজক- জোনাকি নাট্য গোষ্ঠী। সহযোগিতায় কালীবাবুর বাজার মৎস ব্যাবসায়ী সমিতি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত বছর সময় ইত্যাদির অভাবে প্রদর্শনীটির জন্য বিশেষ পরিকল্পনা সম্ভব হয়নি। তাই এবার আটঘাট বেঁধে হচ্ছে। ৩১ টি ক্যানভাস দেখানো হবে। দিন ও রাত তারা টাঙানো থাকবে বাজারের মাঝখানে। প্রদর্শনী চলবে ৯ থেকে ১১ জুলাই, সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা অবধি। তিনদিনব্যাপী এই একক প্রদর্শনীর সঙ্গে থাকছে প্যালেস্তাইন পরিস্থিতি নিয়ে নাটক, নাচ-গান, কবিতা পাঠ, প্রাসঙ্গিক আলোচনা, ফটোগ্রাফি, লিটল ম্যাগাজিন, বই ইত্যাদি।
পরিশেষে বলতে হয়, হিরণ মিত্রের ছবি-ভাবনার সমার্থক এই প্রদর্শনী। নাট্যব্যক্তিত্ব সুমন মুখোপাধ্যায় যেমন বলছিলেন, হিরণ মিত্রের পক্ষেই এই কাণ্ড ঘটানো সম্ভব, তাঁর ছবির ভাষাই এই পথ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, প্রদর্শনী চলাকালীন ৮০-তে পদার্পন করবেন শিল্পী। ১১ জুলাই তাঁর জন্মদিন।