২০০ বছরের পুরোনো, ডেভিড হেয়ার-মধুসূদনের ‘হিন্দু স্কুল’ কি একইরকম আছে?

সাংবাদিক শিবপ্রিয় দাশগুপ্তের কলামে ‘আমাদের ইস্কুল’ – পর্ব ৩

১৮১৭ সালের ২০ জানুয়ারি হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠিত হিন্দু স্কুল কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম অগ্রগণ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রথমে হিন্দু স্কুলের নাম ছিল হিন্দু কলেজ। সেই সময় ব্রিটিশ শাসকরা তাদের দীর্ঘ শাসনকালে এই দেশে ইংরেজি শিক্ষা প্রচলনের বিষয়ে সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছিলেন। অন্যদিকে একই সময়ে হিন্দুরাও ইংরেজি শিক্ষার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তারই প্রতিক্রিয়ায় রাজা রাধাকান্ত দেবের সহায়তায় ডেভিড হেয়ার একটি ইংরেজি স্কুল স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এই ইংরেজি স্কুল বঙ্গসমাজের পড়ুয়াদের শিক্ষার চাহিদার অনুপাতে পর্যাপ্ত ছিল না। পরিস্থিতি বুঝে রাজা রামমোহন রায় বর্ধমানের মহারাজা বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়, রসময় দত্ত, রাধাকান্ত দেব, প্রধান বিচারপতি এডোয়ার্ড হাইডিসক, এডোয়ার্ড হাইডিসকের বাড়িতে একটি বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে ছেলেদের জন্য একটি ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এইভাবে আত্মপ্রকাশ করল হিন্দু কলেজ।

প্রথমে এই হিন্দু কলেজ শুরু হয় গোরাচাঁদ বসাকের গরানহাটা ভাড়া বাড়িতে। পরে ১৮২৫ সালে গোলদিঘির উত্তরে সরকারের সাহায্যে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নিজস্ব একটি জমিতে উঠে আসে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যে জমিতে এই ভবনটি তৈরি হয় সেই জমিটি ডেভিড হেয়ার নিঃশর্তভাবে স্কুলকে দান করেন। এই একই জমিতে হিন্দু কলেজ ও সংস্কৃত কলেজ চলছিল। ১৮৫৫ সালের ১৫ জুন হিন্দু কলেজ বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কলেজের রূপ পায়। যা আজকের প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় নামে খ্যাত। আর জুনিয়ার বিভাগটি ‘হিন্দু স্কুল’ নামে পরিচিতি পায়।

হিন্দু স্কুলে পড়াশুনা শিখে বহু কৃতি ছাত্র আজ স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। সাফল্যের নিরিখে একসময় এই বিদ্যালয়টিকে প্রাচ্যের ‘ইটন’ বলা হত। 

হিন্দু স্কুলের দুটো বিভাগ আছে, একটা প্রাতঃ বিভাগ একটা দিবা বিভাগ। প্রাতঃ বিভাগে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত দুটো করে মোট দশটি সেকশন আছে। দিবা বিভাগে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত তিনটি করে মোট ১৫টি বিভাগ আছে। দিবা বিভাগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে কলা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান নিয়ে চারটি করে বিভাগ আছে। সবকটি শ্রেণী ও বিভাগ মিলিয়ে সাকুল্যে প্রায় ১৮০০-র মতো ছাত্র এই স্কুলে পড়ে।

২০১৭ সালে হিন্দু স্কুল ২০০ বছর ছুঁয়েছে। হিন্দু স্কুল কলকাতার তো বটেই, রাজ্যের একটি ঐতিহ্যপূর্ণ স্কুল। উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন হিন্দু স্কুলের ছাত্র। এই সময়কালের মধ্যে বহুবার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে হিন্দু স্কুলের ছাত্ররা কৃতিত্বের সঙ্গে এক থেকে দশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।

এই কথা যিনি বলছিলেন, তিনি হিন্দু স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্যামনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যা বলছিলেন সেটা এক কথায় ব্রিটিশ আমলে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য রামমোহন রায়, ডেভিড হেয়ার, রাজা রাধাকান্ত দেবদের প্রয়াসের একটা ইতিবৃত্ত।

শ্যাম নারায়ন বাবু কথায় কথায় হিন্দু স্কুলের ঐতিহ্যশালী লাইব্রেরির প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। এই লাইব্রেরিতে ১০ থেকে ১২ হাজার মূল্যবান বই আছে বলে তিনি জানালেন।

২০১৭ সালে হিন্দু স্কুল ২০০ বছর ছুঁয়েছে। হিন্দু স্কুল কলকাতার তো বটেই, রাজ্যের একটি ঐতিহ্যপূর্ণ স্কুল। উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন হিন্দু স্কুলের ছাত্র। এই সময়কালের মধ্যে বহুবার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে হিন্দু স্কুলের ছাত্ররা কৃতিত্বের সঙ্গে এক থেকে দশের মধ্যে স্থান লাভ করেছে। এর ফলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু স্কুলের কৃতী ছাত্ররা ছড়িয়ে রয়েছেন।

শ্যামনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা এই গৌরবময় হিন্দু স্কুলের ইতিহাস কি এখনও একই ভাবে আছে? বাস্তব কিন্তু তা বলছে না। বাস্তবের সঙ্গে হিন্দু স্কুলের অতীত গৌরবের আজ অনেকটাই দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে। হিন্দু স্কুলের ইতিহাস যতটা গৌরবময় বর্তমানটা কিন্তু তেমন নয়। শ্যামনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্নণায় সবটাই হিন্দু স্কুলের উজ্জ্বল কাহিনি সমন্বিত গৌরবগাঁথা।

তবে বর্তমান প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত’র কথায় যা বোঝা গেল তাতে হিন্দু স্কুলের অতীত গৌরব আজ অনেকটাই ম্লান।

কেন এই অবস্থা? সেটাও জানালেন হিন্দু স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত। তিনি যা বললেন এই স্কুলের গৌরব ম্লান হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা খুব তীব্রভাবে ধরা পড়ল। শুভ্রজিৎবাবু জানালেন, সার্বিক শিক্ষা বলতে যা বোঝায় তা হচ্ছে লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য অন্যান্য যে সমস্ত শিক্ষা দীক্ষা দেওয়া প্রয়োজন, সেই শিক্ষা ছাত্রদের দেওয়া। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, এর জন্য ছাত্র এবং শিক্ষকের যে অনুপাত প্রয়োজন তা এই মুহূর্তে হিন্দু স্কুলে নেই। কাজেই যতগুলো ক্লাস আছে তাতে ছাত্রদের পড়ানোর জন্য যতজন শিক্ষক দরকার ততজন শিক্ষক বর্তমানে নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে কোনও সুরাহা হচ্ছে না। হিন্দু স্কুলে ইংরেজির জন্য ছয় জন শিক্ষক বরাদ্দ করা আছে। সেখানে একজন শিক্ষক রয়েছেন বর্তমানে। কমিউনিকেটিং ইংলিশের জন্য আলাদা করে হিন্দু স্কুলে ক্লাস নেওয়া হত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিকেটিভ ইংলিশ পড়ানোর জন্য কোন শিক্ষক আমরা পাইনি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে কমার্সের যে দু’জন শিক্ষক এখনও পর্যন্ত স্কুলে আছেন তাঁরা অবসর নেবেন। বুঝতে পারছি না তারপর হয়তো হিন্দু স্কুলের কমার্স বিভাগ টাই বন্ধ হয়ে যাবে। স্ট্যাটিসটিকস-এর ক্ষেত্রেও শিক্ষকের সমস্যা রয়েছে। কাজেই এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কী করে বলি অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য হিন্দু স্কুল সঠিক পথে চলছে!”

কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল? এই প্রশ্নের উত্তরে হিন্দু স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত জানিয়েছেন, “১৯৯৫ সালে লটারির মাধ্যমে সরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়েছে তখন থেকেই শুধু হিন্দু স্কুল নয়, সমস্ত সরকারি স্কুলের মানের অবনমন শুরু হয়েছে। তার মানে কি এখন কোন ছাত্র হিন্দু স্কুল থেকে ভালো ফল করছে না? করছে। এখনও কোনো কোনো ছাত্র জয়েন্ট এন্ট্রান্স, নিট ক্র্যাক করছে। জে বি এন এস টি এস-এর পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমরা যা পড়াচ্ছি তাতে তা হচ্ছে না। এইসব সাফল্য হিন্দু স্কুলের যে ছাত্ররা পাচ্ছে তারা পণ্য কোচিং সেন্টার বা ব্যক্তিগতভাবে কোন শিক্ষকের কাছে এই বিষয় গুলির জন্য পড়াশোনা করছে। এটা হিন্দু স্কুলের ‘রিফ্লেক্টেড গ্লোরি’। এই তো ২০২১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় হিন্দু স্কুলের দুজন ছাত্র পঞ্চম হয়েছে। আমি বলব এটা সার্বিকভাবে উচ্চমাধ্যমিক ফলের তুল্যমূল্য বিচারের ফল নয়। কেন না এই ছাত্রদের স্কুল থেকে ইন্টার্নাল অ্যাসেসমেন্টের যে নম্বর দেওয়া হয়েছে তার ভিত্তিতেই তারা পঞ্চম স্থান পেয়েছে।” এটা যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সাফল্য নয় স্পষ্ট করে তা জানিয়ে দিলেন হিন্দু স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক।

তবে হিন্দু স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্যামনারায়ণ বন্দোপাধ্যায় বর্তমান প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত’র এই যুক্তি মানতে নারাজ। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “ভাগ্য আর মেধায় তফাত থাকেই। লটারির মাধ্যমে ভর্তির ফলে পরীক্ষায় ফলাফলের মান কিছুটা নামতে পারে। তাই বলে সার্বিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে বা হয়ে যাচ্ছে এটা মানা যায় না।” এই প্রসঙ্গে ১৯৯৫ সালে সরকারি স্কুলে ভর্তিতে লটারি চালু হওয়ার ১০ বছর পরের এসসিআরটি-র একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে শ্যামনারায়ণবাবু বলেন, “এই সমীক্ষায় ২০০৫ সালে যা দেখেছিলাম তাতে স্কুলের পরীক্ষার ফল ভালোই ছিল, লটারির ফলে স্কুলের ফল খারাপ হয়নি।” তবে, সরকারি স্কুলে চাহিদা থাকলেও শিক্ষক পাওয়া যায় না বলে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যকে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সমর্থন করলেন। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক নিবিড় করতে হবে। ছাত্রদের না ধমকে ভালোবেসে পড়তে বলতে হবে। সময় দিতে হবে ছাত্রদের পিছনে। এই কাজটা স্কুলের শিক্ষকদেরই করতে হবে। শিক্ষক-ছাত্র-অভিভাবক এই তিনের সমন্বয়ে একটা স্কুল ভালো স্কুলের চেহারা পায়। সেটা হওয়া এখন কঠিন হলেও লক্ষ্য সেই দিকে রেখেই শিক্ষকদের কাজ করতে হবে।

শুভ্রজিৎ দত্ত বলছিলেন, “সব বাবা-মায়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর ঝোঁক এসেছে, এটা দীর্ঘকালীন একটা ছবি। কোনও বাবা-মা চাইছেন না তাঁর ছেলে লেখাপড়ায় ভালো হয়ে লটারিতে সুযোগ পাওয়া কোনও ছাত্রর সঙ্গে একই ক্লাসে বসুক, একই মিড-ডে মিল খাক, একই পোশাক পরুক, একই জুতো পরুক। এটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আর এই কারণেই সরকারি বাংলা মাধ্যমে ছাত্রদের ভিড় কমে যাচ্ছে। তবে সরকার হিন্দু স্কুলে একটি ইংরেজি বিভাগও চালু করেছে। কিন্তু তার জন্য যে শিক্ষকদের পড়াবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁরা পড়াচ্ছেন, তাঁরা তো বাংলা মাধ্যম থেকে পাশ করে এসেছেন। এই শিক্ষকরা কেমন করে ইংরেজি মাধ্যমে ক্লাস নেবেন, ছাত্রদের ভাবতে, স্বপ্ন দেখতে শেখাবেন? এই হচ্ছে সমস্যা। তাই অভিভাবকদের মধ্যে যাঁরা পারছেন তাঁরা নামকরা ইংরেজি মাধ্যমে সন্তানদের ভর্তি করছেন। যাঁদের সাধ্যে কুলোচ্ছে না তাঁরা স্থানীয়, কম খরচের ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর জন্য সম্তানদের পাঠাচ্ছেন। এর ফলে হিন্দু স্কুল তার টার্গেটেড স্টুডেন্ট পাচ্ছে না।”

তাহলে কি হিন্দু স্কুলের ঐতিহ্য ক্রমক্ষীয়মান হয়ে পড়ছে? উত্তরে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্যামনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় না বললেও বর্তমান প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত বলছেন, “হ্যাঁ”। এই মতপার্থক্য চলতেই থাকবে। বাকিটা সময় বলবে।

কেন না এখনও হিন্দু স্কুলে পড়ে বহু ছাত্র নিজেদের মেধার পরিচয় রাখছে। বর্তমান রাজ্যের স্কুল শিক্ষার সিলেবাস কমিটির অন্যতম সদস্য অভীক মজুমদার কিন্তু হিন্দু স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। প্রাক্তন ও বর্তমান প্রধান শিক্ষকের আশা অভীক মজুমদার বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। শুভ্রজিৎবাবুর আশা রাজ্যের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও এই সমস্যাগুলি নিয়ে ভেবে একটা সমাধান সূত্র বার করবেন। না হলে যে ২০০ বছরের এই প্রচীন হিন্দু স্কুলের ঐতিহ্য ক্রমেই ম্লান হয়ে যাবে।

তথ্যসূত্রঃ শ্যামনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, হিন্দু কুল

শুভ্রজিৎ দত্ত, বর্তমান প্রধান শিক্ষক, হিন্দু স্কুল

ছবিঃ শুভ্রজিৎ দত্ত, প্রধান শিক্ষক, হিন্দু স্কুল

হিন্দু স্কুল ফেসবুক পেজ

*কলকাতা, শহরতলি বা জেলার কোনও না কোনও স্কুলের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে গর্বের ইতিহাস, রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বুনিয়াদি গল্প। এবার সেদিকেই ফিরে তাকিয়ে, শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘আমাদের ইস্কুল’। চোখ রাখুন প্রতি বুধবার সন্ধে ৬টায়, শুধুমাত্র বঙ্গদর্শনে।

Developed by DXDasia