রবীন্দ্রনাথ, গালিব থেকে গিন্সবার্গ : কবিতার কোনো মানচিত্র নেই

পোস্টট্রুথ পৃথিবীতে কবিদের মধ্যে ‘যূথবদ্ধতা’ পরিলক্ষিত হচ্ছে কি?

শিল্প একটি কবজকুণ্ডল নিয়েই জন্মগ্রহণ করে, সমস্ত সীমা ও সীমানা অতিক্রম করে যাওয়ার আয়ুই তার ‘ধর্ম’। কবিতাও সেই আলো-আগুনের পাখি, যা বারবার সীমানা অতিক্রম করে যায়। (বিশ্ব কবিতা দিবস)

কবিতার এই আগুনপাখি-রূপের কথা মনে হলেই মনে পড়ে গালিবের ‘চিরাগ-এ-দ্যয়র’-এ অপরূপ কাশীর রূপবন্দনা। তিনি লিখেছিলেন, ‘কাশীর এই মোহন-মধুর রূপ, উদ্যানের শোভা/ এসবে তোমার কোনও অধিকার নেই, আগন্তুক…/ নিজের যাতনা, ব্যথা সয়ে যেতে হবে তোমাকেই,/ দুঃখ হয়ে যেতে হবে, সব রাঙা কামনা পেরিয়ে/ হায় রে গালিব, গড়ে নিতে হবে নিজের বেহশ্ত্…’। (১) (বিশ্ব কবিতা দিবস)

কবিদের মধ্যে আদান প্রদান যে কবিতা ও ভাষাকে কতদূর পর্যন্ত আলোড়িত করতে পারে, চিন্তা প্রস্থানের কোন সিংহদুয়ার খুলে দিতে পারে তার সার্থক উদাহরণ হাংরি-আন্দোলন ও অ্যলেন গিন্সবার্গ, পিটার অর্লোভস্কি প্রমুখের সঙ্গে হাংরিয়ালিস্ট কবিদের সখ্য ও যাপন।

তিরতির করে বয়ে চলা মানব জীবন, তার অনিত্যতার পাশাপাশি লক্ষ করার, ‘নিজের বেহশ্ত্’-এর কথা বলছেন গালিব। এই দুঃসাহসিক উচ্চারণের সময় সীমান্ত পেরিয়ে তাঁর মনে কি ছায়া ফেলেছিলেন ইরানের কবি সার্মাদ?

সার্মাদ একই সঙ্গে জন্মসূত্রে ইহুদি, ইচ্ছানুসারে মুসলমান এবং শিল্পের ‘শর্তে’ হিন্দু-ঘনিষ্ঠ। এ হেন কবিকে যে সমাজ ও ‘রাজতন্ত্র’ (আসলে প্রচলিত ‘সিস্টেম’) সহ্য করতে পারবে না তাই-ই স্বাভাবিক। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি মৃত্যুকালে স্মরণ করেছিলেন আরও এক ‘অস্বস্তিকর’ কবি মনসুর হাল্লাজকে। হাল্লাজও ‘শহিদের’ মৃত্যু বরণ করেছিলেন। এ বিষয়ের উল্লেখ একটি কারণেই, কবিতা হাজার-হাজার মাইল পেরিয়ে কোথাও, কবে যে আরেকজন কবি বা পাঠকের কাঁধে হাত রাখবে তার কোনও নির্দিষ্ট সূত্র নেই। এ এক অদৃশ্য সখ্য। আবার দুই বা ততোধিক কবি-শিল্পী ‘সীমান্তের’ কাঁটাতার অগ্রাহ্য করে কাছাকাছি আসছেন, মতের আদানপ্রদান ঘটছে, তৈরি হচ্ছে ‘দৃশ্যমান’ নতুন লড়াই ও সৃষ্টির গেরিলা-যুদ্ধপদ্ধতি, এই উদাহরণও সুপ্রচুর। গত শতাব্দীর প্রায় অর্ধাংশ জুড়ে এজরা পাউন্ড একই সঙ্গে তীব্র বিতর্কিত, ধিক্কৃত হয়ে ওঠার পাশাপাশি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হয়ে উঠছেন তাঁর মত, প্রভাব ও কবিতা নিয়ে। (বিশ্ব কবিতা দিবস)

পিসায় তাঁর সেই বহুবিতর্কিত মানসিক-ভারসাম্যহীনতা (?) পর্বে ৭ জুন, ১৯৪৫-এ মেডিক্যাল রিপোর্টে পাওয়া যাচ্ছে ‘পাউন্ডের ক্ষেত্রে সাইকোসিস, নিউরোসিস বা সাইকোপ্যাথির কোনও লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু ‘অ্যংজাইটি’ থেকে শুরু করে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।’ আমেরিকার সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি অবস্থায় তাঁকে সেনাবাহিনীর টাইপরাইটার ও কাগজ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি ‘পিসান ক্যানটোজ’ লিখছেন। কিন্তু এও বাহ্য; মার্কিন সেনার ঘেরাটোপে থাকা ডিটিসি-ক্যাম্প পিসার কিছুটা উত্তরে অবস্থিত। শান্ত সেই জায়গাটি প্রভাব ফেলছে তাঁর লেখায়, আর পাউন্ডের কি মনে পড়ে যাচ্ছিল এই সেই জায়গা যেখানে তিনি তুতো-আত্মীয়া ফ্রাঙ্কের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন আঠারো-শো ছিয়ানব্বই সাল নাগাদ? 

এই কি সেই জায়গা যেখানে তিনি, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে এবং হেমিংওয়ের স্ত্রী ঘুরে বেড়িয়েছেন একদা! টাইম-ট্রাভেল করার ইচ্ছা যদি তীব্র হয়ে থাকে তবে তা এই কারণেই। ব্যক্তিগত, শান্ত মুহূর্তে কী মত আদানপ্রদান করতেন পাউন্ড ও হেমিংওয়ে? ফ্যাসিজমের প্রশ্নে দু’জন শ্রেষ্ঠতম প্রতিভা দুই মেরুতে। শিল্পদর্শনের আরও বহু প্রশ্নই বিপরীত মেরুর। কিন্তু, বিরুদ্ধ মত ও পথ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকার পরেও তাঁদের বন্ধুত্ব বজায় থাকছে। 

২
‘গীতাঞ্জলি’, রবীন্দ্রনাথ, পাউন্ড ও ইয়েটসকে কেন্দ্র করে কত যে বহুমাত্রিক ঘটনাক্রমের সৃষ্টি হয়েছিল তা পাঠকমাত্রই জানেন। এই প্রেক্ষিতে বারবার যেটা মনে হয়, কিশোর বয়সে সীমান্ত পেরিয়ে, মহাদেশের বাধা পেরিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ইউরোপের যে সখ্য, লোকেন পালিতের মতো প্রবাসী ‘ক্লাসমেট’ থেকে শুরু করে মিসেস স্কটের বাড়িতে আশ্রয়গ্রহণ, ব্রাইটনে মিসেস নীলসন অথবা মাডাম আল্বানির গান শোনা এই সবই তাঁকে তীব্রভাবে আলোড়িত করেছিল। ইউরোপের যে সুরের চলন পরবর্তীকালে তাঁর গানে ছায়া ফেলেছে, তার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এসবের মধ্য দিয়েই। 

শুধু তাই-ই নয়, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর আলো-ছায়া মাখা সম্পর্ক উভয়ের সৃষ্টিতেই ছড়িয়ে দিয়েছিল নতুন রং, ১৫ নভেম্বর, ১৯২৪-এ ‘অতিথি’ কবিতায় আমরা পাচ্ছি, ‘জানি না তো ভাষা তব, হে নারী, শুনেছি তব গীতি-/ ‘প্রেমের অতিথি কবি, চিরদিন আমারই অতিথি।’ ছয়দিনের ব্যবধানে ‘বিচ্ছেদের’ বেদনায় কেঁপে উঠছেন কবি, তিনি লিখছেন, ‘ফেলে দিয়ো ভোর-গাঁথা ম্লান মল্লিকার মালাখানি-’।

বর্তমান আরব-দুনিয়ায় যুদ্ধে ঘনঘটা। শিল্প-কবিতা তো চিরকাল যুদ্ধ আর রক্তপাতের বিরুদ্ধেই কথা বলে গেছে। মহাকাব্যে ‘নায়ক’-এর নায়কোচিত কাজ নিয়ে দীর্ঘ গাথা রচিত হওয়ার পরেও কাব্যের ভেতর ঘুরে বেড়িয়েছে সমস্ত হত্যার শেষে, হানাহানির শেষে প্রকাণ্ড শূন্যতার কথাই। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতর দাঁড়িয়ে, অবিরাম সার্ভিল্যান্সের চোখ রাঙানিকে অগ্রাহ্য করে কীভাবে সীমান্তের কাঁটাতার তুচ্ছ করে দেয় আজকের কবিরা?

১৯৯৫ সালে ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ডামাস্কাস গেট’ গদ্যে তার অনুপম ছবি এঁকেছিলেন নবনীতা দেবসেন, ‘ডেভিডের সঙ্গে সবে আলাপ হয়েছে, এই এখানে এসে। জেরুসালেমে আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব হচ্ছে, সেখানে ডেভিড চলে এসেছে তার বন্ধু আবদাল্লার সঙ্গে। আবদাল্লা আরব কবি, কিন্তু লন্ডন-প্রবাসী। দুই ভাষাতেই লেখে। ডেভিড নিজেও কবি। কিন্তু নিমন্ত্রিত নয়। সে ছুটে এসেছে পৃথিবীর নানা দেশের কবিদের দেখবে বলে, তাদের কবিতা শুনবে বলে।’

এই শহরেই একাধিক উল্লেখ্য অনুষ্ঠানে ‘বিদেশি’ কবিরা আসছেন; সেমিনার আয়োজিত হচ্ছে। কিন্তু ঘাতক সময়ের কারণেই হয়তো এই পোস্টট্রুথ পৃথিবীতে তাঁদের মধ্যে ‘যূথবদ্ধতা’ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

সীমানা অতিক্রম করে শিল্প ও শিল্পীর মধ্যে এই সখ্য, কবিদের মধ্যে আদান প্রদান যে কবিতা ও ভাষাকে কতদূর পর্যন্ত আলোড়িত করতে পারে, চিন্তা প্রস্থানের কোন সিংহদুয়ার খুলে দিতে পারে তার সার্থক উদাহরণ হাংরি-আন্দোলন ও অ্যলেন গিন্সবার্গ, পিটার অর্লোভস্কি প্রমুখের সঙ্গে হাংরিয়ালিস্ট কবিদের সখ্য ও যাপন। সেই পাঁচের দশকের মধ্যপর্বে অ্যলেন লিখছেন ‘হাউল’, ‘I saw the best minds of my generation destroyed, by madness, starving hysterical naked.’

গিন্সবার্গের জীবনীকার জোনাহ্ রাস্কিন লিখছেন, ‘এই পর্বে অ্যলেন সানফ্রান্সিস্কোর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতেন, দেখতেন ‘ফিউচারিস্টিক টেলিভিশনের আলোয়’ জ্বলে থাকা জানালাগুলি। …টেলিভিশনের অ্যন্টেনা ছাদের ওপর। ‘হাউল’-এর প্রথম খসড়ায় ‘টেলিভিশন রুফটপ’-এর ছায়া পাওয়া যাচ্ছে। টেলিভিশন চড়ে বসছে গাছের মাথায়, মেশিন ধীরে দখল নিচ্ছে প্রকৃতির।’

ফালগুনী রায় ‘নষ্ট আত্মার টেলিভিশন’ যেমন লিখেছিলেন পাশাপাশি লিখেছিলেন ‘শেষ বিবৃতি’ও। ১৯৬৮ সালের হাংরি-বুলেটিনে প্রকাশিত সেই কবিতায় আমরা পাচ্ছি, ‘ইচ্ছে আছে ভিয়েৎনাম যুদ্ধের প্রতিবাদে জন্সনের/ কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে ইউ এস আই এস-এ চলে যাবো/ হেনরি মিলার পড়তে-।’
  
এখানে স্মরণে রাখা জরুরি শুধু গিন্সবার্গ বা অর্লোভস্কি নন, সে সময় জোয়ান কাইগ্যার, গ্যারি স্নাইডার প্রমুখ কবিরাও ভারতে আসেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভিয়েতনাম-যুদ্ধ থেকে শুরু করে একের পর এক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি হিপি-সংস্কৃতির পথ ধরে তথাকথিত ‘প্রতিষ্ঠান’ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কাউন্টার-কালচারের প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। ‘আত্মধ্বংসের’ বিচিত্র পদ্ধতি, আত্মনিপীড়নের মধ্য দিয়ে এই বাস্তবতাকে ছিন্ন করে অন্য এক বাস্তবতার সন্ধান যেমন ভারতীয় কবি, চিত্রকরদের মধ্যে প্রথাবিরুদ্ধতার স্ফূরণ ঘটাচ্ছিল, ঠিক একইভাবে বারানসী থেকে শুরু করে কাঠমাণ্ডু-সহ উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানগুলিতে দিনের পর দিন অতিবাহিত করে গিন্সবার্গ-সহ অন্যান্য কবিরা খুঁজে পাচ্ছিলেন এক ধরনের প্রশান্তি। প্রাচ্যের ‘মিস্টিসিজম’ তাঁদের আলোড়িত করছিল তীব্রভাবে।

কিন্তু এই বিশ্বায়ন ও টেলি-কমুন্যিকেশন বুমের পরবর্তী পৃথিবীতে সীমান্ত আর রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে ‘বিভক্ত’ হয়ে থাকা কবিরা ঠিক কতটা সখ্য বহন করে চলেছেন একে অপরের সঙ্গে?

অস্বীকার করার উপায় নেই ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ‘অনেক’ কাছাকাছি এনে দিয়েছে তাঁদের। মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টির সফট-কপি বিনিময় হচ্ছে, প্রতিক্রিয়া জানা যাচ্ছে। এই শহরেই একাধিক উল্লেখ্য অনুষ্ঠানে ‘বিদেশি’ কবিরা আসছেন; সেমিনার আয়োজিত হচ্ছে। কিন্তু ঘাতক সময়ের কারণেই হয়তো এই পোস্টট্রুথ পৃথিবীতে তাঁদের মধ্যে ‘যূথবদ্ধতা’ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। জীবনধারণ ও কবিতার শর্তই হয়তো এই খণ্ড-অস্তিত্বের পৃথিবীতে তাঁদের বেশি বেশি করে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত রেখেছে। 

কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে ‘সত্য’ উচ্চারণ করতেই হবে তা হলো কোনও পরিস্থিতিতেই শিল্পকে, কবিতাকে দেশ-কাল-সীমানার পরিসরে বন্দি করে রাখা সম্ভবপর নয়। 

গিন্সবার্গ-কথিত ‘বেস্ট মাইন্ডস’ তাঁদের চিন্তার স্ফূরণ নিয়ে কাছাকাছি আসবেই। গুপ্ত-সংগঠনের নিষিদ্ধ মানুষের মতো তাঁদের মত ও পথের আদানপ্রদান ঘটবে। এ কারণেই ট্রটস্কির মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মেক্সিকোয় নির্বাসনে থাকার সময় শিল্পী ফ্রিডা কাহলোর ‘কাছাকাছি’ আসবেন। তাঁদের সঙ্গে অভিন্ন হৃদয় বন্ধু হয়ে উঠবেন আন্দ্রে ব্রেঁতো।

ঠিক এখানে এসেই আরেক ধরনের শক্তি ও ভরসা জন্মায়, আজও। কয়েক বছর আগে ‘যাপনচিত্র’ পত্রিকার উদ্যোগে কলকাতার এক গ্যালারিতে নিউজিল্যান্ডের কবি ডক ড্রামহেলারের কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। ডক ‘পারফর্মার’, বহু দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিছুটা স্টেটমেন্ট এবং কনফেশনের ভেতর দিয়ে ডক প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে তুলে ধরেন। প্রকৃতি-সংলগ্নতার কথা বলেন। 

যে বাঙালি কবি বিদেশের মাটিতে পা রাখলেন না তিনিই হয়তো কবিতায়, কল্পনায় সব থেকে বেশি সীমান্ত অতিক্রম করলেন। বিস্মৃত নগরীতে ঘুরে বেড়ালেন। এমনকি ক্লদ মনে, এডওয়ার্ড মানের মতো চিত্রকরের কথা উঠে এল তাঁর কবিতায়।

অনুষ্ঠান শেষে ডকের ফোন নম্বর পাওয়া গেল না, কারণ ডক তা ব্যবহার করেন না। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর কোনও ‘অ্যাকাউন্ট’ নেই। ই-মেল মারফৎ তিনি যোগাযোগ রাখেন। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ধ্বংস নিয়ে তিনি আমাদের অনেকের থেকে বেশি চিন্তিত। ডকের কিছু লেখা আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

আর কী আশ্চর্য, যে বাঙালি কবি বিদেশের মাটিতে পা রাখলেন না তিনিই হয়তো কবিতায়, কল্পনায় সব থেকে বেশি সীমান্ত অতিক্রম করলেন। বিস্মৃত নগরীতে ঘুরে বেড়ালেন। এমনকি ক্লদ মনে, এডওয়ার্ড মানের মতো চিত্রকরের কথা উঠে এল তাঁর কবিতায়। 

শিল্পই সেই সংযোগব্যবস্থা যা জীবনানন্দ দাশের কাছে এনে দিয়েছিল জীবনের অনন্ত ভাণ্ডার, ইউরোপের চিত্রকলাও। এ সংযোগ আজও বহমান, হয়তো আবহমানের। 

_____________ 
সূত্র: দেবালয়ের চিরাগ/ ভূমিকা ও তরজমা/ আব্দুল কাফি

Developed by DXDasia