২০২৩-এ ফিফা ‘মহিলা’ বিশ্বকাপ, এত উন্মাদনা তখন দেখা যাবে তো?

ফিফা-র র‍্যাংকিংয়ে ভারতীয় পুরুষ ফুটবল দলের তুলনায় মেয়েদের দল অনেক এগিয়ে আছে

ডিসেম্বর চলে এলো, বঙ্গে এখনো শীত এল না। তবে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ (FIFA World Cup 2022)-এর কল্যাণে সারা বিশ্ব এখন ফুটবল জ্বরে কাঁপছে। টানা ৯০ মিনিট ব্যাপী মাঠে নিজেদের প্রাণমন উজাড় করে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেন, নেমার, দি মারিয়া, বুস্কিট, মার্তিনেজ, ইয়েন সোমার, ম্যানুয়েল নয়্যাররা। ফুটবল প্রেমীরা বলবেন, ৪ বছর অন্তর অন্তর ঈশ্বর দর্শন। সে নয় বোঝা গেল কিন্তু, এই উন্মাদনার বাইরে ও ভিতরে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের কাছে আমার কিছু  প্রশ্ন রয়েছে। সংগীতা বাসফোর, অদিতি চৌহান, দালিমা ছিব্বর, ইন্দুমতী, বালা দেবী, লইতংবাম আশালতা দেবী, সুস্মিতা মল্লিক –এঁদেরকে চেনেন? ভারতের মহিলা ফুটবলার হিসেবে মাঠে নিজেদের প্রাণমন উজাড় করে দেন এঁরাও, সে খবর রাখেন? মহিলা ফুটবল টেলিভিশনে স্বেচ্ছায় দেখেছেন কখনো? জানেন, মহিলা ফুটবলে ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে, ফিফা-র র‍্যাংকিং-এ কত নম্বর স্থানে রয়েছে?

এরকম আরও হাজারটা প্রশ্ন আপনার বিবেক-বুদ্ধির বিরুদ্ধে ছুঁড়ে দেওয়া যেতে পারে। না জানলে কী আর করা যাবে, এবার জানতে শুরু করুন… যে মেয়েরা দেশের জন্যে ‘সম্মান’ বয়ে আনেন, তাঁদের পারিশ্রমিকের অঙ্ক পুরুষ খেলোয়াড়দের তুলনায় কতটা অসম্মানজনক! জানুন, কীভাবে উগ্র জাতীয়তাবাদ পিতৃতন্ত্র এবং কালচারাল ফিন্যান্স, ক্যাপিটালিস্ট মিডিয়ামকে মাস মিডিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে তার প্রসার-প্রচার ঘটায়। পুঁজিবাদ, রাষ্ট্রবাদ ও পিতৃতন্ত্রের অসাধু চক্র কীভাবে দিনের পর দিন ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটির’ ঝান্ডা উড়িয়ে প্রত্যেকটি প্রচলিত খেলায় একটা ‘ফেমিনিন ভার্সন’ তৈরি করে!

Fédération Internationale de Football Association (FIFA)-র কাছেও আমার একটি প্রশ্ন আছে। প্রথমত, এই যে নাভিশ্বাস ফেলতে ফেলতে মহাসমারোহে ৪ বছর অন্তর অন্তর বিশ্বকাপ হচ্ছে, এখানে তো কোথাও ‘পুরুষদের বিশ্বকাপ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া নেই। তাহলে, FIFA ‘Women’s World Cup বা ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ –এটা কেন লেখা হয়? মানে, ধরে নিতে হবে ‘ফিফা বিশ্বকাপ’ মানেই তা পুরুষদের। কারণ, সেটাই স্বাভাবিক। সেটাই হয়ে এসছে। তার মানে, পুরুষ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ফিফা বিশ্বকাপের ময়দানে বিশেষভাবে যুক্ত হবে লিঙ্গ-পরিচিতি। মানে, লিঙ্গ-নিরপেক্ষতা এবং লিঙ্গ-বৈষম্য এই দুই একই দেহে লীন হল। সেটা কি ঠিক হল? বেশ গোলমেলে ব্যাপার কিন্তু। গোলমাল আরও আছে।

দ্বিতীয়ত, ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ফিফা-র বয়স এখন ১১৮। পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয় ১৯৩০ সালে আর মহিলাদের বিশ্বকাপ ১৯৯১ থেকে। ১৯৩০ থেকে ১৯৯১, মাঝে অনেকগুলো বছর। মেয়েদের বিশ্বকাপ চালু করতে এত বছর লেগে গেল কেন ফিফা’র? যেখানে ১৮৮০ সালেই গ্রেট বিট্রেনে মহিলারা দেখিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরাও ফুটবল খেলতে জানেন এবং ফুটবল খেলতে দারুণভাবে আগ্রহী। যেখানে ৭০-৮০ দশক ছিল ভারতীয় মহিলা ফুটবলারদের স্বর্ণযুগ!

মেসির জার্সি নম্বর আমাদের মুখস্থ কিন্তু বালা দেবীরটা আমরা জানি না!

প্রাক্তন ক্রীড়া সাংবাদিক ও ইস্ট বেঙ্গল সমাচার পত্রিকার প্রাক্তন সহ-সম্পাদক কুণাল দাশগুপ্ত বলেন, “যখন আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো খেলায় কোনো মহিলা একক ভাবে পদক জেতে তখন তাকে নিয়ে হইচই করে সবাই। বাদবাকি সময় কোনো আগ্রহ নেই কারো। লিঙ্গবৈষম্য, পিতৃতন্ত্র, মেয়েদের অবদমন। যেটা চিরকাল হয়ে এসছে। অথচ, ভারতে মেয়েদের ফুটবল নিয়ে রীতিমতো চর্চা হওয়া দরকার। ফিফা-র র‍্যাংকিংয়ে ভারতীয় পুরুষ ফুটবল দলের (ফিফা র‍্যাংকিং ১০৬) তুলনায় মেয়েদের দল (ফিফা র‍্যাংকিং ৬১) অনেক এগিয়ে আছে। একজন প্রাক্তন ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে বলতে খারাপই লাগে যে, কে কে খেলে মহিলা দলে, তাদের স্ট্রাগল কিছুই খবর রাখে না কেউ, সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে না তাদের কথা। এভাবে ভারতীয় ফুটবল সামগ্রীক ভাবে কতদূর এগোতে পারবে জানা নেই।”

৭০-৮০’র দশকে জাতীয় ফুটবল দলের শান্তি মল্লিক, চিত্রা গঙ্গাধরন, মিনতি রায়, কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারদের ইট-পাটকেল ছোঁড়া হত। এটা নিয়ে প্রশংসা দুরের কথা তাঁকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল। কোনও মেয়ের পক্ষে নাকি এত ভালো ব্যাক ভলি সার্ভ করা সম্ভব নয় এবং দাবী করা হয়, মাঠের মধ্যে সকলের সামনে তাঁকে নগ্ন হয়ে পরীক্ষা দিতে হবে তিনি ছেলে না মেয়ে।

সোনারপুর মহাবিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক শুভ্রাংশু রায়, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় মহিলা ফুটবলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছেন, তাঁর কথায়, “ফুটবলের  যাবতীয় জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র পুরুষের ফুটবল কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে একথা অস্বীকার করার জায়গা নেই। এবং জায়গা যে নেই, এটা একেবারেই গর্বের বিষয় নয়। ১৯৮৮-এর আগে ফিফা মেয়েদের ফুটবলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৯১-এ প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ হয়। অথচ, তার অনেক আগেই ভারত সরকারের তরফে মহিলা ফুটবলারদের অর্জুন পুরস্কার দিয়েছিল। শেষ যেবার ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ হয়েছিল, আমি দেখেছিলাম ৪/৬ লাইনের একটা খবর বেরিয়েছিল। মানে, এতটাই অবহেলিত। এর নেপথ্যে সামাজিকভাবে চাপানো একটা মানসিকতা কাজ করে যে, ‘ফুটবল ছেলেদের খেলা’। ১৯৩০ সালে যখন ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয় তখনকার চিত্রটা যদি আমরা দেখি, ভারতীয় মেয়েরা বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে, লেখাপড়া শিখেছে তাতে তেমন কোনও অসুবিধা হয়নি কিন্তু যখনই তারা ফুটবল খেলতে চেয়েছে সমাজের মোড়লরা রে রে করে উঠেছেন। ত্রিশের দশকে একটা পত্রিকায় বেরিয়েছিল, মেয়েরা যদি ফুটবল খেলে সমাজের অবনতি হবে, সংসারে অশান্তি দেখা দেবে, সঙ্গমে আগ্রহ হারাবে। ১৯৭৫-এও চিত্রটা বদলালো না। সেই সময়ের তুখড় ফুটবলার শান্তি মল্লিক, চিত্রা গঙ্গাধরন, মিনতি রায়, কুন্তলা ঘোষ দস্তিদারদের ইট-পাটকেল ছোঁড়া হত। এক ম্যাচে অবিশ্বাস্য ব্যাক ভলি গোল করেছিলেন কুন্তলা ঘোষ দস্তিদার। এটা নিয়ে প্রশংসা দুরের কথা তাঁকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল। কোনও মেয়ের পক্ষে নাকি এত ভালো ব্যাক ভলি সার্ভ করা সম্ভব নয় এবং দাবী করা হয়, মাঠের মধ্যে সকলের সামনে তাঁকে নগ্ন হয়ে পরীক্ষা দিতে হবে তিনি ছেলে না মেয়ে। মেয়েরা আতঙ্কিত হয়ে পালাতে চেষ্টা করে, বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, পুলিশের গুলি চলে। মেয়েদের ফুটবলকে কেন্দ্র করে এরকম অনেক ঘটনা আমাদের দেশে আছে।”

এখন চিত্রটা কি কিছুটা হলেও পাল্টেছে? “এশিয়া কাপে মেয়েরা ভারতের মেয়েরা ভালো র‍্যাংক করছে। চিন, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড মেয়েদের ফুটবলে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এশিয়া কাপে টানা ৭বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চিন। কিন্তু ভারত ভালো খেলা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়ছে। এখানে ফুটবল নিয়ে প্রফেশনালিজমই তৈরি হয়নি। ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখুন, কলকাতা বা ভারতের অন্যান্য ক্লাবে মহিলা খেলোয়াড়দের বেতন আমার বাড়ির রান্নার পরিচারিকার থেকেও কম। ঠিকঠাক স্পনসরশিপ, যথাযথ পরিকাঠামো, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব, রক্ষণশীল মানসিকতা এগুলোই মূলত পিছিয়ে পড়ার নেপথ্যে কাজ করে। সরকার, ফুটবল ফেডারেশন বিগত কয়েক বছরে একদম চেষ্টা করেনি, তা নয়। কিন্তু সেটা যথেষ্ট নয়। ১০ শতাংশ কাজ হয়েছে। সারা ভারতবর্ষে কোথাও মহিলা ফুটবল প্রশিক্ষণ একাডেমি, পর্যাপ্ত ক্লাব নেই। ছেলেরা যত সহজে এদিক-ওদিক মাঠে-ঘাটে, স্কুল-কলেজে খেলতে পারে, মেয়েরা পারে না। এটাই তো প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতা। আমাদের উত্তরবঙ্গের মেয়েরা, উপজাতি মেয়েরা ফুটবল ফেলার জন্য শারীরিক ভাবে সক্ষম কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে নয়। বাংলা, মনিপুর আর গোয়া এই তিন জায়গায় ফুটবল-গবেষণা করার সময় আমি নিজে দেখেছি, খেলা শুরু করার পর পর্যাপ্ত অর্থ, পরিকাঠামোর অভাবে কেউ কেউ বিয়ে করে নেয়, কেউ কেউ ভুল পথে চলে যায়। সমস্যাটা অনেক গভীরে এবং এর সমাধান করতে গেলে সরকার, ফুটবল সংস্থা, স্থানীয় ক্লাব –এদের এগিয়ে আসতে হবে।”  বলেন শুভ্রাংশু।

ফিফা র‍্যাংকিং-এ ভারতের অবস্থান

৪৫-৫০ বছর আগে ভারতে হওয়া মহিলা এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে ভারতীয় টিমে বাংলার মেয়েদেরই প্রাধান্য ছিল। শান্তি মল্লিক, কুন্তলা ঘোষদস্তিদার, শুক্লা দত্ত সহ ১০ বাঙালি ফুটবলার ছিলেন ভারতীয় টিমে। ১৯৮৩ সালের টিমের ক্যাপ্টেনও ছিলেন ‘রেবেল’ শান্তি মল্লিক। তিনিই দেশের প্রথম অর্জুন পুরস্কার-প্রাপ্ত মহিলা ফুটবলার। এখনও সাইকেল চালিয়ে রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে কোচিং করাতে যান তিনি। মহিলা ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা কেন নেই, তাঁর সঙ্গেও এ বিষয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলি। তাঁর কথায়, “এটা শুধুমাত্র আমাদের দেশেই হয়। এটা একটা প্রথাগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, আমরা যেসব ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি, সেরকম পরিস্থিতি এখন নেই। আমাদের সময় ফিফা মেয়েদের বিশ্বকাপকে স্বীকৃতি দেয়নি, কিন্তু আমরা দেশে-বিদেশে টুর্নামেন্ট খেলেছি, নিজেদের যোগ্যতায় দেশকে সম্মানিত করেছি। তার বদলে পাড়া-প্রতিবেশি-আত্মীয় সকলের থেকে কটূ কথা শুনেছি। আমরা নাকি খারাপ মেয়ে। যদিও আমি কখনও সেসব কথায় কান দিতাম না, নিজের কাজেই ফোকাসড থাকতাম। এখনও নিয়মিত প্র্যাকটিস করি, করাই। নিজের প্রতিষ্ঠান আছে, প্রচুর ছেলে-মেয়ে সেখানে ফুটবল শিখতে আসে। ঘরে-বাইরে আমাদের সব সময় একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে আমরা যা পাইনি এখনকার মেয়েরা অল্প হলেও পাচ্ছে। আর একটা কথা, সব পুরুষরা যে মহিলা-ফুটবল বিরোধী তা নয়। আমাদের কোচরা তো পুরুষই ছিল। এখানে আমি ডঃ অমৃতলাল চক্রবর্তী (সন্তোষ ট্রফি জয়ী), লেজেন্ড সুশীল ভট্টাচার্য-র কথা বেশি করে বলতে চাই, এঁরা আমার প্রশিক্ষক, এখনও সাহস আর অনুপ্রেরণা দেন।”

শান্তি মল্লিক

ফুটবলের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে ‘অফসাইড’ শব্দটা, যা আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০৬-সালে ইরানী পরিচালক জাফার পানাহির ‘অফসাইড’ সিনেমাটির কথা। এই ছবিতেও উঠে এসেছে একই প্রেক্ষিত, সে দেশে মহিলাদের ফুটবল খেলতে দেওয়া হবে না। সেখানেও দেখা যাচ্ছে, যারা নিয়মের ‘সিসি ক্যামেরার’ আটকে রয়েছে, তারা কীভাবে এক এক করে নসাৎ করছেন বিধি-আইন-কায়দা-প্রভুত্ব-নিয়ন্ত্রণ-আধিপত্য-রীতি-অপশাসন-পদ্ধতি। নিজেরাই বুঝে নিচ্ছে, নিজেদের অধিকার। আমাদের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলকে বলা হয়, The Blue Tigresses অর্থাৎ নীলাভ বাঘিনীরা। চিন্তা নেই, ভারত হোক অথবা বিশ্বের, বাঘিনীরা প্রকৃতই জানে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের অর্থ। একদিন না একদিন অপ-নিয়মের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে বেরিয়ে পড়বে তারাও। তারা প্রত্যেকেই ‘অফসাইডার’—নিয়মবিরুদ্ধ অবস্থান গ্রহণকারী। শেষে আর একটি প্রশ্ন। করোনার কারণে ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ পিছিয়ে গিয়েছে, প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৩-এ হওয়ার। সে যাই হোক, ২০২৩ কিংবা অন্য কোনও বছর, ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে এত উন্মাদনা তখন দেখা যাবে তো?

Post Tags
Developed by DXDasia